সংবাদ সম্মেলনে এস এম ফরহাদ দাবি করেন, মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ সরাসরি বাংলা ভাষার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন এবং তৎকালীন পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে উর্দুকে প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়েছিলেন—এই ঐতিহাসিক বিষয়টিই সংগ্রহশালায় ব্যাকগ্রাউন্ড ও ক্যাপশনের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, জিন্নাহর বাংলা ভাষাবিরোধী অবস্থান প্রদর্শনের মূল উদ্দেশ্য ছিল ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ইতিহাসের ওই অধ্যায় সম্পর্কে জানানো এবং বোঝানো যে, জিন্নাহর এমন অবস্থানের পরিপ্রেক্ষিতেই বাঙালি জাতির মহান ভাষা আন্দোলনের সুনির্দিষ্ট প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছিল।
ডাকসুর জিএস আরও বলেন, তারা যদি জিন্নাহর ছবি ও তার বাংলা ভাষাবিরোধী অবস্থানের ইতিহাস সংগ্রহশালায় প্রদর্শন না করতেন, তাহলে সমালোচকরা অভিযোগ করতে পারতেন যে তারা ইচ্ছাকৃতভাবে জিন্নাহর বাংলা ভাষাবিরোধী অবস্থান গোপন করেছেন এবং তাকে দায়মুক্তি দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।
এদিকে, সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি প্রদর্শনের প্রতিবাদ জানিয়েছে ছাত্রদল। সংগঠনটির পক্ষ থেকে ছবিগুলো ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সরিয়ে নেওয়ার আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে। এ প্রসঙ্গে ছাত্রদলের অবস্থানের কঠোর সমালোচনা করেন ডাকসু জিএস এস এম ফরহাদ।
তিনি দাবি করেন, ছাত্রদল বিবৃতি দিয়ে জিন্নাহর বিরোধিতা করার কথা বললেও বাস্তবে তারা জিন্নাহর পক্ষেই অবস্থান নিয়েছে এবং তার বিতর্কিত ভূমিকা আড়াল করার চেষ্টা করছে। এস এম ফরহাদের মতে, ছাত্রদলের নেতারা হয়তো জিন্নাহর বাংলা ভাষাবিরোধী অবস্থানের ঐতিহাসিক তথ্য সম্পর্কে অবগত নন, অথবা বিষয়টি জানা সত্ত্বেও তারা তা জনগণের দৃষ্টির আড়ালে রাখতে চাইছেন।
দীর্ঘদিনের সংস্কার কাজ শেষে গত রোববার ডাকসু সংগ্রহশালাটি পুনরায় দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। পুনরায় চালুর পর সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর তিনটি ছবি প্রদর্শনের জন্য রাখা হয়। ছবিগুলোর নিচে তার বাংলা ভাষাবিরোধী অবস্থানের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে ক্যাপশনও সংযোজন করা হয়।
সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি প্রদর্শনের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন মহলে এ নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনা ও বিতর্ক ছড়িয়ে পড়ে।
এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার দুপুরে ডাকসু সংগ্রহশালায় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সংগ্রহশালায় প্রদর্শিত জিন্নাহর ছবি ও ইতিহাস উপস্থাপনের পদ্ধতি নিয়ে বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনাটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে।
