সংবাদ সম্মেলনে মুখপাত্র গুয়ো জিয়াকুন বলেন, মহাকাশে সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং যুদ্ধের প্রস্তুতি নেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের বন্ধ করা উচিত। একই সঙ্গে তিনি মহাকাশে নতুন করে অস্ত্র প্রতিযোগিতা শুরু হওয়ার বিষয়েও সতর্ক করেন।
এর আগে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) মেরিল্যান্ডের ন্যাশনাল হারবারে এয়ার অ্যান্ড স্পেস ফোর্সেস অ্যাসোসিয়েশনের একটি অনুষ্ঠানে মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েনের বিষয়টি প্রকাশ করেন যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর সেক্রেটারি ট্রয় মেইঙ্ক।
তিনি বলেন, শুধু আকাশেই নয়, মহাকাশেও যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্য বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তবে অনুষ্ঠানের প্রশ্নোত্তর পর্বে ট্রয় মেইঙ্ক মহাকাশে মোতায়েন করা অস্ত্রগুলোর ধরন বা সেগুলোর সক্ষমতা সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো তথ্য দেননি। তিনি শুধু বলেন, তাঁর বক্তব্যে ব্যবহৃত শব্দচয়ন অত্যন্ত ভেবেচিন্তে করা হয়েছে।
এদিকে ‘ওয়াশিংটন পোস্ট’-কে দেওয়া এক মার্কিন কর্মকর্তার বক্তব্য অনুযায়ী, ট্রয় মেইঙ্ক যে প্রযুক্তির কথা উল্লেখ করেছেন, তার মধ্যে এমন সক্ষমতাও থাকতে পারে, যার মাধ্যমে কোনো শত্রুপক্ষের স্যাটেলাইট ধ্বংস করা সম্ভব।
মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েনের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিকভাবে সরাসরি কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। তবে আন্তর্জাতিক মহাকাশ চুক্তি অনুযায়ী, মহাকাশে গণবিধ্বংসী অস্ত্র মোতায়েন নিষিদ্ধ।
যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশভিত্তিক সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ অবশ্য নতুন নয়। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর প্রথম মেয়াদে ২০১৯ সালে ‘স্পেস ফোর্স’ প্রতিষ্ঠা করেন। সে সময় তিনি মহাকাশকে বিশ্বের নবীনতম যুদ্ধক্ষেত্র হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন।
এরপর গত বছর ট্রাম্প ‘গোল্ডেন ডোম’ নামে একটি পরিকল্পনা প্রকাশ করেন। যুক্তরাষ্ট্রের পুরো ভূখণ্ডকে সুরক্ষিত রাখার লক্ষ্যে প্রস্তাবিত এই বহুস্তরীয় ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থার মধ্যে মহাকাশভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার ব্যবস্থাও রয়েছে।
মহাকাশে সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির এই ধারাবাহিকতার মধ্যেই চীনের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধের প্রস্তুতি বন্ধ এবং মহাকাশে অস্ত্র প্রতিযোগিতা এড়িয়ে চলার আহ্বান জানানো হলো।
