Amyal TV
সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
১১ কার্তিক ১৪৩৩
সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
১১ কার্তিক ১৪৩৩

ডিজেলের পরিবর্তে বিদ্যুতে চলবে রেল: ৩৮২২ কোটি টাকার নতুন প্রকল্প উঠছে একনেকে

পরিবেশবান্ধব ও আধুনিক যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তুলতে ডিজেলের পরিবর্তে বিদ্যুতের সাহায্যে ট্রেন পরিচালনার একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা-জয়দেবপুর রেলপথে বৈদ্যুতিক ট্র্যাকশন বা ওভারহেড ক্যাটেনারি ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ৫২ কিলোমিটারের বেশি রেলপথে এই আধুনিক ব্যবস্থা চালু করতে প্রায় ৩ হাজার ৮২২ কোটি টাকা ব্যয়ের একটি মেগা প্রকল্প অনুমোদনের জন্য একনেক সভায় উত্থাপন করা হচ্ছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) এবং ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংক (ইআইবি)।

Amyal TV
৪ মিনিট পড়ুন

পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবিত ‘নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা-জয়দেবপুর সেকশনে বৈদ্যুতিক ট্র্যাকশন বাস্তবায়ন’ প্রকল্পের আওতায় মোট ৫২ দশমিক ৩২ কিলোমিটার রেলপথে ট্রেন চলাচলের জন্য ওভারহেড ক্যাটেনারি ব্যবস্থা নির্মাণ করা হবে। এর মাধ্যমে ডিজেলচালিত ট্রেনের পরিবর্তে বৈদ্যুতিক ট্রেন পরিচালনার অবকাঠামো তৈরি হবে।

প্রকল্পের সুনির্দিষ্ট রূপরেখা অনুযায়ী, প্রতিটি পাঁচটি কোচ নিয়ে মোট ১৬ সেট ইলেকট্রিক মাল্টিপল ইউনিট (ইএমইউ) বা বৈদ্যুতিক ট্রেন সংগ্রহ করা হবে। পাশাপাশি এসব ট্রেনের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের জন্য জয়দেবপুর প্রান্তে একটি আধুনিক ইএমইউ মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ কারখানা গড়ে তোলা হবে। প্রকল্পের কাজ ২০৩১ সালের জুনের মধ্যে শেষ করার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রাথমিকভাবে প্রকল্পটির প্রস্তাবিত ব্যয় ধরা হয়েছিল ৪ হাজার ২৮২ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। তবে গত এপ্রিলে অনুষ্ঠিত প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভায় বিভিন্ন খাতের ব্যয় যৌক্তিকীকরণের পর প্রকল্প ব্যয় কমানো হয়। এতে ৪৬০ কোটি ৩৫ লাখ টাকা বা প্রায় ১২ শতাংশ ব্যয় কমে চূড়ান্তভাবে প্রকল্পটির ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৮২২ কোটি ৫১ লাখ টাকা।

এই অর্থের মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে দেওয়া হবে ৯৪২ কোটি টাকা। আর বাকি ২ হাজার ৮৮০ কোটি টাকা এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংকের (ইআইবি) প্রকল্প ঋণ থেকে জোগান দেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা-জয়দেবপুর রুটে বৈদ্যুতিক ট্র্যাকশন চালু হলে প্রচলিত ডিজেল-ইলেকট্রিক ট্রেনের তুলনায় জ্বালানি ব্যয় প্রায় ৪০ শতাংশ কমে আসতে পারে। একই সঙ্গে ট্রেনের রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়ও প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বৈদ্যুতিক ট্রেনের গতিশীলতা বেশি হওয়ায় এই রুটে ট্রেনের গড় গতিবেগ ১৮ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। পাশাপাশি ট্রেনগুলো ঘণ্টায় ৮০ থেকে ১০০ কিলোমিটার গতিতে চলাচল করতে পারবে। এর ফলে রাজধানী ঢাকা ও এর আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ এই রেলপথে যাত্রীদের ভ্রমণের সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

শুধু যাত্রীসেবার মানোন্নয়ন নয়, পরিবেশের ওপরও এই প্রকল্পের ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। দেশের অন্যতম ব্যস্ত শিল্পাঞ্চল এবং রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ হিসেবে পরিচিত নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা-জয়দেবপুর রুটে বৈদ্যুতিক ট্রেন চালু হলে সড়কপথের ওপর চাপ কমতে পারে। একই সঙ্গে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমার কারণে কার্বন নিঃসরণ হ্রাস পাবে এবং বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের তুলনায় বৈদ্যুতিক রেলের ব্যবহারে বাংলাদেশ এখনো বেশ পিছিয়ে রয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন যোগাযোগ অবকাঠামো বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক মো. হাদিউজ্জামান। তার মতে, বৈদ্যুতিক রেলব্যবস্থায় দ্রুত রূপান্তরের জন্য এখন থেকেই কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

অধ্যাপক মো. হাদিউজ্জামান বলেন, ভারতে প্রায় ৭০ শতাংশ এবং চীনে প্রায় ৯৫ শতাংশ ট্রেন বিদ্যুতে পরিচালিত হলেও বাংলাদেশে এই রূপান্তরে দীর্ঘ সময় লাগবে। তাই এখনই এর সূচনা করা জরুরি। তবে প্রকল্পটি সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে হলে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি বৈদ্যুতিক রেল প্রযুক্তিতে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনবল তৈরির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।

অতীতে ডেমু ট্রেন চালুর ক্ষেত্রে যথাযথ দক্ষ জনবল এবং রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থার অভাবে কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যায়নি—এমন অভিজ্ঞতার কথাও উল্লেখ করেন এই বিশেষজ্ঞ। তার মতে, অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে নতুন এই প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে রক্ষণাবেক্ষণ, জনবল এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতার বিষয়গুলোতে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা-জয়দেবপুর রুটে প্রস্তাবিত বৈদ্যুতিক ট্র্যাকশন প্রকল্পটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ রেলপথেও বৈদ্যুতিক ট্রেনলাইন সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। এরই অংশ হিসেবে ভবিষ্যতে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটেও বৈদ্যুতিক ট্রেনলাইন সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

সার্বিক বিষয়ে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি জানান, পুরো রেলব্যবস্থাকে একটি সমন্বিত পরিকল্পনার আওতায় এনে রেল খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। রেলের সক্ষমতা বৃদ্ধি, আধুনিকায়ন এবং যাত্রীসেবার মান উন্নয়নে অচিরেই আরও একগুচ্ছ প্রকল্প গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি।

নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা-জয়দেবপুর সেকশনে বৈদ্যুতিক ট্র্যাকশন চালুর এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের রেল যোগাযোগে নতুন প্রযুক্তির সংযোজনের পাশাপাশি জ্বালানি সাশ্রয়, যাতায়াতের সময় কমানো এবং পরিবেশের ওপর চাপ কমানোর ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

চট্টগ্রাম বিভাগে তিন দিনের সফরে যাচ্ছেন পেশাজীবী দলের মুখপাত্র- নাফিজ মাহবুব

সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার, তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় ও পেশাজীবীদের সম্পৃক্ততা...

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরতে পরতে হাসনাত-সারজিসের গাদ্দারি খুঁজে পাওয়া যাবে: রাশেদ খাঁন

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিভিন্ন পর্যায়ে হাসনাত আবদুল্লাহ ও সারজিস আলমের ‘গাদ্দারি’...