দলীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাত ৯টার দিকে বৈঠকটি শুরু হয়। এর আগে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা আলাদা আলাদা গাড়িতে প্রায় একই সময়ে দিল্লির একটি ক্রিম রঙের তিনতলা ভবনে পৌঁছান। পরে সেখানে শেখ হাসিনার সঙ্গে তাদের সরাসরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটি ও সম্পাদকমণ্ডলীর কয়েকজন নেতা বিভিন্ন দেশ থেকে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হন বলে জানা গেছে। পাশাপাশি বর্তমানে কেন্দ্রীয় কমিটিতে নেই, তবে ভবিষ্যতে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে আসতে পারেন—এমন কয়েকজন নেতাও সরাসরি দিল্লির বৈঠকে অংশ নেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের একাধিক সদস্য বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে বৈঠকে কারা কারা উপস্থিত ছিলেন এবং সেখানে কী কী বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে, সে বিষয়ে দলটির পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে পূর্ণাঙ্গ কোনো তালিকা বা বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা অবস্থায় দিল্লিতে দলের শীর্ষ নেতাদের এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো। ফলে বৈঠকটি রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এর আগে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনার সরকারের পতন হয়। ওই দিন শেখ হাসিনা তার বোন শেখ রেহানাকে সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে চলে যান। এরপর থেকে তিনি ভারতে অবস্থান করছেন।
দলীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, বৈঠকে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক পরিস্থিতি, ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কর্মকৌশল এবং দল পুনর্গঠনের বিষয়টি গুরুত্ব পেতে পারে। বিশেষ করে আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফিরে আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হওয়ার যে পরিকল্পনার কথা শেখ হাসিনা জানিয়েছেন, সেটিকে সামনে রেখে দলকে কীভাবে পুনর্গঠন করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
এর আগে শেখ হাসিনা জানিয়েছিলেন, তিনি এবং আওয়ামী লীগের অন্য জ্যেষ্ঠ নেতারা দেশে ফিরে আদালতে হাজির হতে চান। তার দেশে ফেরার পরিকল্পনা এবং সম্ভাব্য আইনি প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করেও দলীয় পর্যায়ে আলোচনা চলছে বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।
এদিকে শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের সক্রিয় রাজনীতিতে আসার সম্ভাবনার বিষয়টিও বৈঠকে আলোচনায় আসতে পারে বলে দলীয় সূত্রের দাবি। সম্প্রতি তিনি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালকের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন।
দলীয় সূত্রের বরাতে আরও জানা গেছে, আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতৃত্বে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে আনার বিষয়টিও বৈঠকে বিবেচনা করা হতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়নি।
বৈঠক-সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, পুতুল ছাড়াও চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগের আরও দুই নেতাকে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীতে অন্তর্ভুক্ত করার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হতে পারে। দলের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব কাঠামো এবং সাংগঠনিক পুনর্বিন্যাসের অংশ হিসেবে এসব বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে বলে সূত্রের দাবি।
দলীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা এবং আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্বের বড় একটি অংশ দেশের বাইরে অবস্থান করার প্রেক্ষাপটে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত এই বৈঠককে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন দলটির নেতারা। তবে বৈঠকে নেওয়া সিদ্ধান্ত বা ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
