নিহতরা হলেন—বারাহিচর গ্রামের মৃত নুরল হকের ছেলে আকরাম হোসেন (৪০), তার স্ত্রী প্রিয়াংকা (২৪) এবং তাদের দেড় বছরের মেয়ে আলিজা।
পুলিশ ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আকরাম হোসেন সৌদি আরব প্রবাসী ছিলেন। প্রায় তিন মাস আগে তিনি দেশে ফেরেন। দেশে ফেরার পর মা, ভাই ও ভাবিসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে একই বাড়িতে বসবাস করছিলেন তিনি।
শনিবার অনেক বেলা হয়ে গেলেও আকরাম হোসেন ও তার স্ত্রী প্রিয়াংকা ঘরের দরজা খুলছিলেন না। বিষয়টি নিয়ে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়। একপর্যায়ে আকরামের মা দরজার ফাঁক দিয়ে ঘরের ভেতরে ছেলেকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান।
ছেলেকে এ অবস্থায় দেখে তিনি চিৎকার শুরু করলে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন। পরে প্রতিবেশীরা দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে আকরাম, তার স্ত্রী প্রিয়াংকা এবং তাদের দেড় বছরের শিশুকন্যা আলিজার মরদেহ দেখতে পান।
পুলিশ ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, আকরাম হোসেনকে ঘরের ভেতরে ফাঁস লাগানো অবস্থায় পাওয়া যায়। অন্যদিকে তার স্ত্রী প্রিয়াংকার মুখে রক্তাক্ত আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে জানা গেছে।
এ ছাড়া দেড় বছরের শিশু আলিজার শরীরে দৃশ্যমান কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, শিশুটিকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। তবে কীভাবে তাদের মৃত্যু হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিতভাবে কিছু জানায়নি পুলিশ।
ঘটনার পর খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করে মানিকগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুনির হোসেন বলেন, ‘তদন্ত শেষে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।’
তিনজনের মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। কী কারণে একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু হয়েছে এবং এর পেছনে অন্য কোনো ঘটনা রয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
