জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে জয়পুরহাট সদর উপজেলার দোয়ানি বাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদুল হাসান। এ সময় প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেয়ে সরকারি সার পরিবহনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা ঘটনাস্থলে সারগুলো ফেলে রেখে পালিয়ে যান।
অভিযানকালে ঘটনাস্থল থেকে ১৫ বস্তা ইউরিয়া এবং পাঁচ বস্তা পটাশ সার জব্দ করা হয়। সব মিলিয়ে জব্দ করা হয় সরকারি বরাদ্দের ২০ বস্তা সার।
পরে উপজেলা প্রশাসনের উপস্থিতিতে জব্দ করা সারগুলো সরকারি নির্ধারিত মূল্যে স্থানীয় কৃষকদের কাছে তাৎক্ষণিকভাবে বিক্রি করে দেওয়া হয়। জব্দ করা ২০ বস্তা সার বিক্রি করে মোট ২৫ হাজার ২৫০ টাকা পাওয়া যায়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্ধারিত মূল্যে কৃষকদের কাছে সার বিক্রি করায় স্থানীয় কৃষকদের মধ্যেও স্বস্তি দেখা যায়।
স্থানীয় প্রশাসন ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, অধিক লাভের আশায় জয়পুরহাট সদর উপজেলার কুঠিবাড়ি ব্রিজ বাজারের সাব-ডিলার ‘মেসার্স শাহীন ট্রেডার্স’-এর মালিক শাহীন কাদির সরকারি বরাদ্দের সারগুলো পার্শ্ববর্তী নওগাঁ জেলার ধামইরহাট উপজেলায় অবৈধভাবে পাচার করছিলেন। সরকারি বরাদ্দের সার নির্ধারিত এলাকার বাইরে নিয়ে গিয়ে বেশি দামে বিক্রির উদ্দেশ্যেই এসব সার পরিবহন করা হচ্ছিল বলে স্থানীয়ভাবে জানা গেছে।
এনএসআইয়ের গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিষয়টি জানতে পেরে উপজেলা প্রশাসন দ্রুত অভিযান পরিচালনা করে। প্রশাসনের অভিযান পরিচালনার বিষয়টি টের পেয়ে সার পরিবহনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গেলেও তাদের ফেলে যাওয়া ২০ বস্তা সার জব্দ করতে সক্ষম হয় প্রশাসন।
জব্দ করা সার পরে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে সরকারি নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করে দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে সরকারি বরাদ্দের সার অন্যত্র অবৈধভাবে পাচার ঠেকানোর পাশাপাশি স্থানীয় কৃষকদের জন্য নির্ধারিত মূল্যে সার সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে।
অভিযান প্রসঙ্গে জয়পুরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদুল হাসান বলেন, সরকারি সার অবৈধভাবে পাচারের সঙ্গে জড়িত পলাতক ডিলার শাহীন কাদির ও অজ্ঞাত পরিবহনকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, কৃষকের জন্য বরাদ্দ করা সরকারি সার নিয়ে কোনো ধরনের অনিয়ম, মজুত বা অবৈধ পাচার বরদাশত করা হবে না। কৃষকের সার নিয়ে যেকোনো অনিয়ম বা পাচারের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
