নিহত তরুণীর নাম সানজিদা আক্তার (২৩)। তিনি বরিশালের কোতোয়ালি থানা এলাকার বাসিন্দা শাজাহান হাওলাদারের মেয়ে। সানজিদা গাজীপুর নগরের আমবাগ আতাউর মার্কেট এলাকার একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। সেখানে থেকে তিনি একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন।
পুলিশ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রোববার সকাল ১০টার দিকে এক যুবক আমবাগ এলাকার ওই ভাড়া বাসায় আসেন। পরে তিনি বাসার কক্ষ থেকে সানজিদা আক্তারকে ডেকে বাইরে নিয়ে আসেন। সানজিদা বাসা থেকে বের হয়ে আসার পরপরই ওই যুবক কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই তার বুকে ছুরিকাঘাত করেন।
হঠাৎ ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হয়ে সানজিদা মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এ সময় হামলাকারী যুবক দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। ঘটনার পর আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে সানজিদাকে উদ্ধার করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়ার জন্য স্থানীয়রা দ্রুত রওনা দেন। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই পথেই তার মৃত্যু হয়।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং নিহত সানজিদা আক্তারের লাশ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রকাশ্যে একজন তরুণীকে ডেকে এনে ছুরিকাঘাত করে হত্যার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তবে কী কারণে এবং কী উদ্দেশ্যে সানজিদাকে হত্যা করা হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
গাজীপুর নগরের কোনাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইফতেখার হোসেন বলেন, কী কারণে ওই নারীকে হত্যা করা হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি। ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিকে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে তাকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিকে শনাক্ত করতে ঘটনাস্থলের আশপাশের তথ্য সংগ্রহসহ প্রয়োজনীয় তদন্ত কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডের কারণ ও ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তির পরিচয় তদন্তের পর বিস্তারিত জানা যাবে।
