সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশ পাকিস্তানের মতো সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর আঞ্চলিক নিরাপদ আশ্রয়স্থলে পরিণত হচ্ছে কি না—উপস্থাপকের এমন প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, তার শাসনামলে বাংলাদেশকে চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলোর নিরাপদ ঘাঁটিতে পরিণত হওয়া থেকে রক্ষা করতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল।
তিনি বলেন, নাগরিক স্বাধীনতা সুরক্ষার পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিত করার মাধ্যমে দেশে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা তার সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার ছিল।
শেখ হাসিনা আরও বলেন, উগ্রবাদী মতাদর্শ কোনো নির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমান্ত মেনে চলে না। তাই দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছ থেকে বাংলাদেশকে বিচ্ছিন্ন রাখাকে কোনো কার্যকর সমাধান হিসেবে দেখা উচিত নয়। বরং সন্ত্রাসবাদ ও চরমপন্থার বিষয়টি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট থেকে বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট সব দেশের সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, উগ্রবাদ ও সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় শুধু একটি দেশের একক পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়। এ ধরনের হুমকি মোকাবিলায় পারস্পরিক সহযোগিতা, তথ্য আদান-প্রদান এবং আঞ্চলিক পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
উল্লেখ্য, শেখ হাসিনা চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশে ফেরার ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলেন। এর আগে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনকে ঘিরে সংঘটিত সহিংসতার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ২০২৫ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল অনুপস্থিতিতে শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেন।
সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশে সন্ত্রাস ও চরমপন্থার সম্ভাব্য হুমকি এবং তা মোকাবিলায় তার সরকারের নেওয়া পদক্ষেপের প্রসঙ্গেও নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন শেখ হাসিনা।
সূত্র: এনডিটিভি
