Amyal TV
মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
১২ কার্তিক ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
১২ কার্তিক ১৪৩৩

রুপির বিপরীতে টাকার বড় উত্থান: ভারতগামী বাংলাদেশিদের জন্য স্বস্তির খবর

ভারতীয় রুপির বিপরীতে গত দুই বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী হয়েছে বাংলাদেশি টাকা। এ সময়ে ভারতীয় মুদ্রার বিপরীতে টাকার মূল্য বেড়েছে ১১ দশমিক ৬ শতাংশ। এর মধ্যে শুধু গত এক বছরেই টাকার মূল্য বেড়েছে ৭ দশমিক ৬ শতাংশ।

Amyal TV
৪ মিনিট পড়ুন

বিনিময় হারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ২২ সেপ্টেম্বর এক টাকা সমান ছিল প্রায় শূন্য দশমিক ৭৮ ভারতীয় রুপি। এক বছর আগে, ২০২৫ সালের ২২ সেপ্টেম্বর এক টাকা দিয়ে পাওয়া যেত প্রায় শূন্য দশমিক ৭২ রুপি। আর ২০২৪ সালের একই দিনে এক টাকা সমান ছিল প্রায় শূন্য দশমিক ৭০ রুপি।

অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে ভারতীয় রুপির বিপরীতে টাকার মূল্য বেড়েছে প্রায় ৫ দশমিক ৫ পয়সা। এর ফলে ভারতীয় মুদ্রার বিপরীতে টাকার ক্রয়ক্ষমতা বেড়েছে ৭ দশমিক ৬ শতাংশ।

বিপরীত হিসাবেও বাংলাদেশি টাকার শক্তিশালী হওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। চলতি বছরের ২২ সেপ্টেম্বর এক ভারতীয় রুপির মূল্য ছিল প্রায় ১ টাকা ২৮ পয়সা। এক বছর আগে, ২০২৫ সালের একই দিনে এক রুপির মূল্য ছিল প্রায় ১ টাকা ৩৮ পয়সা।

অর্থাৎ, এক ভারতীয় রুপি কিনতে এখন এক বছর আগের তুলনায় প্রায় ৯ দশমিক ৭২ পয়সা কম বাংলাদেশি টাকা প্রয়োজন হচ্ছে। এ হিসাবে ভারতীয় রুপির বিপরীতে টাকার মূল্য বেড়েছে ৭ দশমিক ১ শতাংশ।

এদিকে, ২০২৪ সালের ২২ সেপ্টেম্বর এক ভারতীয় রুপির মূল্য ছিল প্রায় ১ টাকা ৪৩ পয়সা। সেই সময়ের তুলনায় গত দুই বছরে ভারতীয় রুপির বিপরীতে বাংলাদেশি টাকার মূল্য বেড়েছে ১১ দশমিক ৬ শতাংশ।

বিশেষ করে গত এক বছরের পরিবর্তনটি বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। ২০২৫ সালের ২২ সেপ্টেম্বর যেখানে এক টাকা দিয়ে শূন্য দশমিক ৭২ রুপি পাওয়া যেত, সেখানে ২০২৬ সালের ২২ সেপ্টেম্বর একই এক টাকা দিয়ে পাওয়া যাচ্ছে প্রায় শূন্য দশমিক ৭৮ রুপি। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে ভারতীয় মুদ্রার বিপরীতে বাংলাদেশি টাকার মূল্য বেড়েছে ৭ দশমিক ৬ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যেও ভারতীয় রুপির বিপরীতে টাকার এই শক্তিশালী অবস্থান অব্যাহত থাকার চিত্র পাওয়া গেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২১ সেপ্টেম্বর ভারতীয় রুপির বিপরীতে টাকার ক্রস রেট ছিল ১ টাকা ২৭ দশমিক ৮৯ পয়সা থেকে ১ টাকা ২৭ দশমিক ৯৬ পয়সা। অর্থাৎ, এক বাংলাদেশি টাকার বিপরীতে পাওয়া গেছে প্রায় শূন্য দশমিক ৭৮১ থেকে শূন্য দশমিক ৭৮২ ভারতীয় রুপি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, ভারতীয় রুপির বিপরীতে বাংলাদেশি টাকার শক্তিশালী অবস্থান বাংলাদেশ-ভারতের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে ভারত থেকে পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে স্থানীয় মুদ্রায় ব্যয় কিছুটা কমতে পারে।

তিনি বলেন, টাকার মূল্য বাড়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম, পরিবহন ব্যয় ও বাণিজ্যসংক্রান্ত অন্যান্য খরচ অপরিবর্তিত থাকলে একই পরিমাণ ভারতীয় পণ্য ও সেবা কিনতে বাংলাদেশি আমদানিকারকদের তুলনামূলক কম টাকা ব্যয় করতে হবে। ফলে ভারতীয় পণ্য ও সেবা আমদানিতে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা কিছুটা স্বস্তি পেতে পারেন।

একই সঙ্গে ভারতে ভ্রমণকারী বাংলাদেশিরাও টাকার শক্তিশালী অবস্থান থেকে কিছুটা সুবিধা পেতে পারেন। কারণ, রুপির বিপরীতে টাকার মূল্য বাড়লে ভারতে স্থানীয় মুদ্রায় করা বিভিন্ন ব্যয়ের বাংলাদেশি টাকায় হিসাব করা মূল্য তুলনামূলকভাবে কম হতে পারে।

আরিফ হোসেন খান বলেন, বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বিনিময় হারের এই পরিবর্তন ভারত থেকে আমদানির সামগ্রিক স্থানীয় মুদ্রার ব্যয়ের ওপরও প্রভাব ফেলবে। ভারতীয় রুপির বিপরীতে টাকা তুলনামূলক শক্তিশালী থাকলে ভারতীয় মুদ্রায় পরিশোধযোগ্য আমদানি ব্যয় মেটাতে বাংলাদেশি আমদানিকারকদের কম টাকা প্রয়োজন হবে।

তিনি আরও বলেন, ভারত থেকে কাঁচামাল, শিল্পের বিভিন্ন উপকরণ, যন্ত্রপাতি এবং অন্যান্য পণ্য আমদানি করা ব্যবসায়ীরাও এ পরিস্থিতি থেকে সুবিধা পেতে পারেন। কারণ, এসব পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে ব্যয়ের মুদ্রা-সংক্রান্ত অংশ তুলনামূলকভাবে কমে আসতে পারে।

তবে টাকার শক্তিশালী অবস্থানের প্রকৃত প্রভাব বাজারদরে কতটা পড়বে, তা আরও কয়েকটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করবে। এর মধ্যে রয়েছে আমদানি করা পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য, পরিবহন ও লজিস্টিক ব্যয়, শুল্ক ও কর এবং আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের মূল্য নির্ধারণের সিদ্ধান্ত।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র বলেন, আন্তঃসীমান্ত বাণিজ্যের ব্যয় নির্ধারণে বিনিময় হার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। তাই টাকা-রুপির বিনিময় হারের পরিবর্তনকে শুধু একটি সূচক হিসেবে না দেখে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য এবং বৈদেশিক মুদ্রাবাজারের সামগ্রিক পরিস্থিতির আলোকে বিবেচনা করতে হবে।

ভারতে ভ্রমণকারী বাংলাদেশিরাও টাকার শক্তিশালী অবস্থান থেকে সুবিধা পেতে পারেন বলে জানান তিনি। তার মতে, প্রচলিত বাজারদরে রুপির বিপরীতে টাকার মূল্য তুলনামূলক বেশি থাকলে ভারতে বাংলাদেশিদের আবাসন, খাবার, যাতায়াতসহ বিভিন্ন স্থানীয় খরচ বাংলাদেশি টাকায় হিসাব করলে তুলনামূলক কম হতে পারে।

তবে শুধু বিনিময় হারের পরিবর্তনই আমদানি করা পণ্যের চূড়ান্ত মূল্য কিংবা বিদেশ ভ্রমণের মোট ব্যয় নির্ধারণ করে না বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এসব ক্ষেত্রে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারের বিভিন্ন বিষয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

আরিফ হোসেন খান বলেন, বৈদেশিক মুদ্রাবাজার এবং বিনিময় হারের গতিবিধি বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে। বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং একটি সুশৃঙ্খল বাজার নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রয়োজনীয় নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।

সব মিলিয়ে, গত দুই বছরে ভারতীয় রুপির বিপরীতে বাংলাদেশি টাকার মূল্য বৃদ্ধির প্রবণতা বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্য, আমদানি ব্যয় এবং ভারতে ভ্রমণকারী বাংলাদেশিদের খরচের ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে এর সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রভাব নির্ভর করবে বিনিময় হারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজার, আমদানি ব্যয়, পরিবহন খরচ এবং অন্যান্য অর্থনৈতিক সূচকের গতিপথের ওপর।

চট্টগ্রাম বিভাগে তিন দিনের সফরে যাচ্ছেন পেশাজীবী দলের মুখপাত্র- নাফিজ মাহবুব

সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার, তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় ও পেশাজীবীদের সম্পৃক্ততা...

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরতে পরতে হাসনাত-সারজিসের গাদ্দারি খুঁজে পাওয়া যাবে: রাশেদ খাঁন

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিভিন্ন পর্যায়ে হাসনাত আবদুল্লাহ ও সারজিস আলমের ‘গাদ্দারি’...