বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের উদ্যোগে আয়োজিত এই ধ্বংস কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। অনুষ্ঠানে তিনি নিজেই রোড রোলার চালিয়ে জব্দ করা ফেনসিডিল ধ্বংস করেন।
এ সময় শুভেন্দু অধিকারী বলেন, পশ্চিমবঙ্গকে মাদকমুক্ত রাখা রাজ্য সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। মাদকের অবৈধ কারবার ও উৎপাদনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, কোনোভাবেই এ ধরনের কর্মকাণ্ড সহ্য করা হবে না।
মাদকাসক্তির কারণে ব্যক্তি ও পরিবার যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তেমনি এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে পুরো সমাজের ওপরও—এমন মন্তব্য করেন তিনি। ফেনসিডিল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও এ বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।
রাজ্য পুলিশ, সীমান্তরক্ষী বাহিনী—বিএসএফ এবং স্পেশাল টাস্কফোর্স—এসটিএফের যৌথ অভিযানের মাধ্যমে এসব ফেনসিডিল জব্দ করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে আইনি প্রক্রিয়া শেষে জব্দ করা মাদক ধ্বংসের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
এর আগে গত ২ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাটে আরও প্রায় ২০ কোটি রুপি বাজারমূল্যের ২ লাখ বোতল ফেনসিডিল ধ্বংসের কর্মসূচিতেও অংশ নিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। ওই সময় বুলডোজার চালিয়ে জব্দ করা ফেনসিডিল ধ্বংস করা হয়। একই দিনে বাঁকুড়াতেও যৌথ অভিযানে জব্দ করা মদ ও অন্যান্য মাদকদ্রব্য বিনষ্ট করা হয়।
এদিকে, সল্টলেকের মিলনমেলা প্রাঙ্গণে আয়োজিত পৃথক একটি অনুষ্ঠানে ৩৩টি শিল্প প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের হাতে জমি বরাদ্দের অনুমোদনপত্র তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
রাজ্য সরকার সূত্রে জানানো হয়েছে, এসব শিল্প প্রকল্প আগামী তিন বছরের মধ্যে বাস্তবায়নের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে প্রায় ৬০ হাজার কোটি রুপি বিনিয়োগের পাশাপাশি প্রায় ৬২ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
একই দিনে মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার করার পাশাপাশি শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে এসব উদ্যোগের কথা তুলে ধরে রাজ্য সরকার।
সূত্র: সংবাদ প্রতিদিন
