নিহত সিয়াম উপজেলার খাগুরিয়া গ্রামের কৃষক আবদুস সোবাহানের ছেলে।
স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে প্রচণ্ড জ্বরে ভুগছিলেন সিয়াম। তবে অসুস্থ থাকা সত্ত্বেও তিনি কোনো চিকিৎসকের পরামর্শ নেননি। বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন। বুধবার সন্ধ্যার দিকে হঠাৎ তার শারীরিক অবস্থার ব্যাপক অবনতি ঘটে।
পরে সন্ধ্যা ৭টার দিকে ছেলে অসুস্থ হয়ে পড়লে বাবা আবদুস সোবাহান তাকে দ্রুত মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন।
হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা সিয়ামের শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন। এ সময় তার শরীরে ডেঙ্গুর উপসর্গ পাওয়া যায়। একই সঙ্গে তার নাক ও মুখ দিয়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হয়।
রোগীর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন। তাকে ঢাকায় নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সও প্রস্তুত করা হয়েছিল।
তবে অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকায় নেওয়ার আগেই রাত ৯টার দিকে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সিয়ামের মৃত্যু হয়। অর্থাৎ হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যেই তার মৃত্যু ঘটে।
মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসা কর্মকর্তা মো. মোবারক হোসেন মামুন জানান, সিয়ামকে হাসপাতালে নিয়ে আসার পর দেখা যায়, তার নাক ও মুখ দিয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। একই সঙ্গে তার রক্তচাপ আশঙ্কাজনকভাবে কমে গিয়েছিল।
তিনি বলেন, রোগীর শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে জরুরি ভিত্তিতে তাকে ঢাকায় পাঠানোর সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। অ্যাম্বুলেন্সও প্রস্তুত করা হয়। কিন্তু ঢাকায় পাঠানোর আগেই তার মৃত্যু হয়।
ছেলের আকস্মিক মৃত্যুতে ভেঙে পড়েন বাবা আবদুস সোবাহান। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘আমার পোলাডার এক সপ্তাহ ধইরা জ্বর আছিল। ওরে কইছিলাম ডাক্তারের কাছে যাইতে, কিন্তু হুনল না। অবস্থা বেশি খারাপ হইলে সন্ধ্যায় হাসপাতালে আনলাম।’
তিনি আরও বলেন, ‘হাসপাতালে আনার পরই নাক-মুখ দিয়া রক্ত পড়া শুরু হয়। ঢাকা নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সও ঠিক করছিলাম, কিন্তু তার আগেই আমার সব শ্যাষ অইয়া গেল।’
স্বজনদের ভাষ্য, এক সপ্তাহ ধরে জ্বর থাকার পরও সময়মতো চিকিৎসকের শরণাপন্ন না হওয়ায় সিয়ামের শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। হাসপাতালে নেওয়ার পর তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে পড়লে চিকিৎসকেরা উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানোর উদ্যোগ নেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই সুযোগ আর হয়নি।
