Amyal TV
সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
১১ কার্তিক ১৪৩৩
সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
১১ কার্তিক ১৪৩৩

ভুল চিকিৎসায় অন্তঃসত্ত্বা বিড়ালের মৃত্যু: এনিমেল কেয়ারের চিকিৎসকদের নোটিশ

অবহেলা ও ভুল চিকিৎসার কারণে পার্সিয়ান জাতের একটি অন্তঃসত্ত্বা বিড়ালের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে রাজধানীর গুলশানে অবস্থিত বাংলাদেশ এনিমেল কেয়ার সেন্টার (বিএসিসি) নামের একটি পোষা প্রাণীর চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির মালিক ও দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

Amyal TV
৩ মিনিট পড়ুন

পোষা বিড়ালটির মালিক মো. আবিবুর রহমান গত ২৪ সেপ্টেম্বর তার আইনজীবীর মাধ্যমে রেজিস্ট্রি ডাকযোগে এ লিগ্যাল নোটিশ পাঠান। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) ভুক্তভোগী মালিক পক্ষের আইনজীবী মোহাম্মাদ জাহিদুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

লিগ্যাল নোটিশ যাদের পাঠানো হয়েছে, তারা হলেন—বাংলাদেশ এনিমেল কেয়ার সেন্টার (বিএসিসি)-এর মালিক লাবন্য এবং ওই প্রতিষ্ঠানের চিকিৎসক ডা. সোলাইমান হোসাইন ও ডা. মো. জুবায়ের।

নোটিশে বলা হয়েছে, অবহেলা ও ভুল চিকিৎসার কারণে পার্সিয়ান জাতের অন্তঃসত্ত্বা বিড়ালটির মৃত্যুর জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সাত দিনের মধ্যে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। বিশেষ করে প্রতিষ্ঠানটির মালিক লাবন্য এবং চিকিৎসক ডা. সোলাইমান হোসাইন ও ডা. মো. জুবায়েরের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।

লিগ্যাল নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে নোটিশ প্রেরণকারী তিনজনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে নোটিশে সতর্ক করা হয়েছে।

লিগ্যাল নোটিশে করা অভিযোগ অনুযায়ী, নোটিশদাতা মো. আবিবুর রহমানের পোষা বিড়ালটির জন্ম ২০২০ সালের ১ মে। জন্মের পর থেকেই বিড়ালটির চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সেবা বাংলাদেশ এনিমেল কেয়ার সেন্টার (বিএসিসি) থেকেই নেওয়া হচ্ছিল বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

ঘটনার বিবরণে বলা হয়, গত ৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৭টার দিকে বিড়ালটি গর্ভবতী কি না, তা পরীক্ষা করানোর জন্য মালিক সেটিকে বিএসিসিতে নিয়ে যান। সেখানে প্রতিষ্ঠানটির চিকিৎসক ডা. সোলাইমান হোসাইন বিড়ালটিকে পরীক্ষা করেন।

নোটিশে অভিযোগ করা হয়েছে, পরীক্ষা শেষে চিকিৎসক বিড়ালটিকে র‍্যাবিস ও ফ্লুর টিকা প্রয়োগ করেন। একই সঙ্গে তিনি বিড়ালটি সন্তানসম্ভবা বলে জানান। চিকিৎসকের বক্তব্য হিসেবে নোটিশে উল্লেখ করা হয়, ‘বিড়ালটি সন্তানসম্ভবা, যা প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। গর্ভে দুই বা ততোধিক বিড়ালছানা রয়েছে। বিড়ালের স্বাস্থ্য ভালো আছে এবং তা গর্ভধারণের উপযুক্ত। তাই রুচির ওষুধ দিলাম।’

এরপর চিকিৎসক একটি প্রেসক্রিপশন লিখে দেন বলেও লিগ্যাল নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

নোটিশে আরও বলা হয়, এর কয়েকদিন পর গত ১৩ সেপ্টেম্বর দুপুরের দিকে বিড়ালটির শারীরিক অবস্থার পরিবর্তন লক্ষ্য করেন মালিক। বিশেষ করে বিড়ালটি দ্রুত শ্বাস-প্রশ্বাস নিচ্ছিল। বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে তিনি বিএসিসির হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে যোগাযোগ করেন।

সেখানে থাকা রিসেপশনিস্টের পরামর্শ অনুযায়ী তিনি বিড়ালটির জন্য জরুরি চিকিৎসাসেবার অনুরোধ জানান। এ বিষয়ে বিস্তারিত উল্লেখ করে তিনি প্রতিষ্ঠানের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে বার্তাও পাঠান।

তবে লিগ্যাল নোটিশে অভিযোগ করা হয়েছে, দুপুরে জরুরি সেবার অনুরোধ জানিয়ে যোগাযোগ করার পরও সন্ধ্যা পর্যন্ত বিএসিসির পক্ষ থেকে তার সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ করা হয়নি।

পরিস্থিতি আরও গুরুতর হওয়ায় ওই দিন সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটের দিকে বিড়ালটির শারীরিক অবস্থার বিস্তারিত বোঝাতে মালিক প্রতিষ্ঠানটির কাছে দুটি ভিডিও এবং একটি ভয়েস মেসেজ পাঠান। এসব ভিডিও ও ভয়েস মেসেজের মাধ্যমে বিড়ালটির তৎকালীন শারীরিক অবস্থা জানানো হয় বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

লিগ্যাল নোটিশে অভিযোগ করা হয়েছে, বিড়ালটি অন্তঃসত্ত্বা থাকা অবস্থায় তার শারীরিক অবস্থার বিষয়ে জরুরি যোগাযোগের পরও যথাসময়ে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা বা কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পরবর্তী সময়ে বিড়ালটির মৃত্যু ঘটে বলে নোটিশে দাবি করা হয়েছে।

এ ঘটনায় পোষা প্রাণীটির মালিকের পক্ষ থেকে চিকিৎসায় অবহেলা ও ভুল চিকিৎসার অভিযোগ তোলা হয়েছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতেই বিএসিসির মালিক লাবন্য এবং প্রতিষ্ঠানটির দুই চিকিৎসক ডা. সোলাইমান হোসাইন ও ডা. মো. জুবায়েরের বিরুদ্ধে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

নোটিশে সাত দিনের মধ্যে অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে নোটিশদাতাদের পক্ষ থেকে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।

তবে এ ঘটনায় বাংলাদেশ এনিমেল কেয়ার সেন্টার (বিএসিসি) কর্তৃপক্ষ বা লিগ্যাল নোটিশে নাম উল্লেখ করা ব্যক্তিদের বক্তব্য এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। ফলে বিড়ালটির চিকিৎসা ও মৃত্যুর ঘটনায় উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা-ও গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।

চট্টগ্রাম বিভাগে তিন দিনের সফরে যাচ্ছেন পেশাজীবী দলের মুখপাত্র- নাফিজ মাহবুব

সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার, তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় ও পেশাজীবীদের সম্পৃক্ততা...

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরতে পরতে হাসনাত-সারজিসের গাদ্দারি খুঁজে পাওয়া যাবে: রাশেদ খাঁন

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিভিন্ন পর্যায়ে হাসনাত আবদুল্লাহ ও সারজিস আলমের ‘গাদ্দারি’...