রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মহানগর বিএনপি আয়োজিত এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দেশে পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টার প্রতিবাদে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
সমাবেশে দলীয় নেতা-কর্মীদের সতর্ক করে ফজলুর রহমান বলেন, ক্ষমতায় টিকে থাকতে হলে সবাইকে সততা বজায় রাখতে হবে। চাঁদাবাজি, ধান্দাবাজি কিংবা কোনো ধরনের অনিয়মে জড়ালে জনগণ কাউকে ছাড় দেবে না।
মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণা করে কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের এই সংসদ সদস্য বলেন, যারা ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল, মা-বোনদের ইজ্জত নষ্ট করেছিল এবং মুনীর চৌধুরী, ডা. আলীম চৌধুরী, শহীদুল্লা কায়সার ও জহির রায়হানের মতো সূর্যসন্তানদের হত্যা করেছিল, তারা কখনোই আমাদের ‘খালাতো ভাই’ হতে পারে না।
তিনি আরও বলেন, তারা সংসদে গেলে সাধু সাজে। কিন্তু সংসদের বাইরে এসে বিএনপির বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় এবং দেশ থেকে বিএনপিকে বিতাড়িত করার ষড়যন্ত্র করে।
সদ্য ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের কঠোর সমালোচনা করে ফজলুর রহমান বলেন, শেখ হাসিনা দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করেছিলেন। ২০১৪ সালে একতরফা নির্বাচন, ২০১৮ সালে রাতের ভোট এবং ২০২৪ সালে ‘আমি-ডামির’ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি বলেন, এখন বলা হচ্ছে শেখ হাসিনা আবার ফিরে আসবেন। কিন্তু তিনি আর ফিরতে পারবেন না। একই সঙ্গে বিএনপিকেও ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া যাবে—এমনটা ভাবার কোনো সুযোগ নেই।
দলীয় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, রাষ্ট্রক্ষমতায় তারেক রহমান ও বিএনপিকে দেখতে চাইলে নিজেদের আচরণ সংযত রাখতে হবে। জনগণ এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সচেতন। ক্ষমতার দাপট দেখানো, চাঁদাবাজি কিংবা কোনো ধরনের অপকর্মে জড়ালে জনগণ তা মেনে নেবে না।
তিনি নেতা-কর্মীদের জনগণের সঙ্গে ভালো আচরণ করার পাশাপাশি দলের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ন রাখার আহ্বান জানান।
নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও সিটি করপোরেশনের (নাসিক) প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান বক্তা ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম।
মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব আবু আল ইউসুফ খানের সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন বিএনপি নেতা জাকির হোসেন, সরকার হুমায়ুন কবির, ফতেহ মোহাম্মদ রেজা রিপন এবং মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম সজলসহ স্থানীয় নেতারা।
