সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উদযাপন নিয়ে জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পুনর্মূল্যায়নের পর যেসব খাতায় ভুল বা মূল্যায়নের দুর্বলতা শনাক্ত হয়েছে, সেসব খাতার পরীক্ষকদেরও শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের পাশাপাশি জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।
তিনি বলেন, ‘যিনি খাতা দেখেছেন, সে খাতা কোন একজনের দেখেছেন—এটা শনাক্ত হয়েছে। তাদের ট্রেনিং এবং জবাবদিহিতা—এটা করতেই হবে।’
এবারের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় মোট ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছিলেন। এর মধ্যে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন পাস করেন। মূল ফলে পাসের হার ছিল ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ, যা গত ১৯ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। পুনর্মূল্যায়নের পর নতুন করে ৪ হাজার ৫৮৫ জন শিক্ষার্থী পাস করায় পাসের হার বেড়ে ৬২ দশমিক ৫০ শতাংশ হয়েছে।
ফল প্রকাশের পর বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণ ও পুনর্মূল্যায়নের আবেদন করেন। ১১টি শিক্ষা বোর্ডে ৪ লাখ ২ হাজার ৫২ জন শিক্ষার্থী মোট ১০ লাখ ৫৬ হাজার ৪৫৮টি উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের আবেদন করেন। পুনর্মূল্যায়নের পর ৫৬ হাজার ২৫৯ জনের নম্বর এবং ২৭ হাজার ৮৩৬ জনের গ্রেড বা জিপিএ পরিবর্তন হয়েছে।
পুনর্মূল্যায়নের পর নতুন করে জিপিএ-৫ পাওয়া ৩ হাজার ৭৯ জনসহ এবার মোট জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ১৯ হাজার ৭৫৫ জন।
খাতা পুনর্মূল্যায়নের ব্যবস্থা এবারই আইনে যুক্ত করা হয়েছে জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আগে মূলত ট্যাবুলেশন শিটে নম্বর যোগের বিষয়টি যাচাই করা হতো। এবার আবেদন করা উত্তরপত্র আরও বিস্তৃতভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ রাখা হয়েছে।
পুনর্মূল্যায়নের পর বড়সংখ্যক শিক্ষার্থীর ফল পরিবর্তনের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, যেসব খাতায় মূল্যায়নের দুর্বলতা পাওয়া গেছে, সেসব ক্ষেত্রে পরীক্ষকদের কী ধরনের সমস্যা ছিল তা যাচাই করতে কমিটি করা হয়েছে। মূল্যায়নে যারা দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা পরবর্তীতে জানানো হবে।
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, খাতা মূল্যায়নে দুর্বলতা, স্বজনপ্রীতি কিংবা কোনো ধরনের ম্যানিপুলেশনের ঘটনা ঘটেছে কি না, সেগুলোও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে তদন্তের মাধ্যমে আরও কিছু তথ্য সামনে আসতে পারে বলেও জানান তিনি।
এদিকে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে আগামী ৫ অক্টোবর দেশের ১০০ জন গুণী শিক্ষককে সম্মাননা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। নির্বাচিত প্রত্যেক শিক্ষককে নগদ এক লাখ টাকা, ক্রেস্ট ও সম্মাননা সনদ দেওয়ার কথা রয়েছে। ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিক্ষকদের হাতে সম্মাননা তুলে দেবেন।
প্রাথমিকের শিক্ষক বদলি প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বদলি পুরোপুরি বন্ধ করা হয়নি। চলমান প্রক্রিয়ার কিছু বিষয় নিষ্পত্তির জন্য বদলি করতে হচ্ছে। তবে ভবিষ্যতে বদলিতে অনিয়ম ঠেকাতে অনলাইনভিত্তিক ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
