বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সেফাতুল্লাহর আদালতে হাজির হয়ে আসামিদের পক্ষে একটি হলফনামা দেন নিহত মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ।
পরে আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী এবং আসামিপক্ষের আইনজীবী মাহবুবুর রহমান। আইনজীবী মাহবুবুর রহমান জানান, বাদী আপস-মীমাংসার ভিত্তিতে আদালতে হলফনামা দিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘কারাগারে থাকা গাজী নজরুল ইসলাম ও মাকছুদা ইসলামের আপসের শর্তে জামিন চেয়েছিলাম। তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত না। ইতোমধ্যে বাদীপক্ষের সঙ্গে আপস-মীমাংসা হয়েছে। শুনানিতে উপস্থিত থেকে বাদী জানিয়েছেন, দুই আসামির জামিন দিলে তার কোনো আপত্তি নেই। তবে আদালত এখনো এ বিষয়ে কোনো আদেশ দেননি।’
এর আগে, গত ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানার ন্যাম ভবনের ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাটের ভেতর থেকে জি এম নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের (১৯) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। সে সময় ফ্ল্যাটটির দরজা ভেতর থেকে বন্ধ ছিল বলে জানা যায়।
পরে সিআইডির সহায়তায় দরজা ভেঙে ফ্ল্যাটের ভেতরে প্রবেশ করে পুলিশ। সেখান থেকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় মরিয়মের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ সময় তার কক্ষে কয়েকটি চিরকুটও পাওয়া যায় বলে জানা গেছে।
ঘটনার পরদিন নিহত মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম এবং নিহতের মামা ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন।
মামলা দায়েরের পর ওই রাতেই গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে মাকছুদা ইসলামকে এক দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। রিমান্ড শেষে বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন।
এদিকে মামলার পর থেকে গাজী নজরুল ইসলাম ও মাকছুদা ইসলাম কারাগারে রয়েছেন। বুধবার আদালতে উপস্থিত হয়ে নিহত মরিয়মের বাবা আপস-মীমাংসার কথা জানিয়ে দুই আসামির জামিনে কোনো আপত্তি নেই বলে জানান। তবে আদালত তাদের জামিনের বিষয়ে এখনো কোনো আদেশ দেননি।
