ভাস্কর্যে ট্রাম্পের এক হাতে গলফ ক্লাব এবং অন্য হাতে ন্যায়বিচারের পাল্লা দেখানো হয়েছে। পাশে রাখা হয়েছে একটি গলফ বল, যার নকশা পৃথিবীর মতো।
ভাস্কর্যে নগ্ন ট্রাম্পকে একজন স্বল্প পোশাক পরা ব্যক্তির কাঁধে বসে থাকতে দেখা যায়। অর্থাৎ, ওই ব্যক্তিই যেন ট্রাম্পকে কাঁধে বহন করছেন। ভাস্কর্যের বেদিতে লেখা রয়েছে—‘আমি একজন মানুষের পিঠে চেপে বসেছি। আমার ভারে তিনি তলিয়ে যাচ্ছেন। তাকে সাহায্য করতে আমি সবকিছুই করব। শুধু তার পিঠ থেকে নামব না।’
ভাস্কর্যটিকে ‘অবিচারের রাজা’ বা ‘কিং অব ইনজাস্টিস’ নামেও অভিহিত করা হচ্ছে। এটি তৈরি করেছেন ডেনমার্কের শিল্পী জেনস গালচিওট।
শিল্পী গালচিওটের বক্তব্য, শাসনতান্ত্রিক বিশ্বব্যবস্থা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টার জন্য ডোনাল্ড ট্রাম্পকে তিনি বড় ধরনের হুমকি হিসেবে দেখেন। এ বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলা এবং এর প্রভাব মোকাবিলায় সম্মিলিতভাবে কাজ করা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ভাস্কর্যটি তৈরির পেছনে ‘সম্রাটের নতুন পোশাক’ গল্প থেকে অনুপ্রেরণা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন শিল্পী। ওই গল্পে এক দাম্ভিক শাসক নিজেকে সবচেয়ে দামি পোশাকে সজ্জিত মনে করলেও বাস্তবে তিনি ছিলেন সম্পূর্ণ নগ্ন। চাটুকারদের ভয়ে কেউ সত্যটি প্রকাশ করেনি। শেষ পর্যন্ত এক শিশু শাসককে দেখিয়ে দেয় যে তিনি আসলে নগ্ন।
ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য ও ডেনমার্কের রাজনীতিক পার ক্লসেন বলেন, ভাস্কর্যটি নিয়ে ট্রাম্পের সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন নন। ইউরোপীয় পার্লামেন্টে এমন একটি ভাস্কর্য প্রদর্শিত হতে পারলেও বিশ্বমঞ্চে এর স্থান নিয়ে তিনি ভিন্নমত প্রকাশ করেন।
ভাস্কর্যটি বৃহস্পতিবার পর্যন্ত স্ট্রাসবার্গে প্রদর্শিত হবে। গত বছর ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলন কপ-৩০-এ প্রথমবারের মতো এটি প্রদর্শন করা হয়। চলতি বছর জার্মানির মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনেও ভাস্কর্যটি প্রদর্শিত হয়েছিল।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
