ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ডাকা বিক্ষোভ কর্মসূচিকে ঘিরে শনিবার সকাল থেকেই দিল্লিতে ব্যাপক ধরপাকড় শুরু করে পুলিশ। এ পরিস্থিতিতে বিক্ষোভকারীদের প্রতি সংহতি জানাতে কর্মসূচিতে যোগ দিতে চেয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে দিল্লির ১৮৩ সাউথ অ্যাভিনিউয়ে সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবন থেকে বের হওয়ার সময় তিনি পুলিশের বাধার মুখে পড়েন।
বাইরে বের হতে না পেরে তৃণমূলের সংসদ সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে বাসভবনের সামনের সাউথ অ্যাভিনিউয়ের একটি বাসস্ট্যান্ডে অবস্থান নিয়ে ধরনায় বসেন মমতা। পরে সেখান থেকেই তাঁকে ও তাঁর সঙ্গে থাকা সাংসদদের পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়।
তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানান, দিল্লিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বাসভবন থেকে বের হতে বাধা দিয়েছে পুলিশ। কোনো ধরনের প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করতে না দেওয়ার প্রতিবাদে দলীয় সাংসদদের নিয়ে তিনি বাড়ির সামনের সড়কে অবস্থান নেন।
আটকের আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘আমরা কর্মসূচিতে যোগ দিতে বের হয়েছিলাম। জেন-জি আমাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। কিন্তু সিজেপির ছেলেদেরও আটক করা হয়েছে, বহু নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং কাউকে যন্তর মন্তরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। আমরা সবসময় ছাত্র ও যুব সমাজের পাশে আছি।’
যন্তর মন্তরে যেতে বাধা দেওয়া হলে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বাসস্ট্যান্ডেই অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তৃণমূল নেত্রী।
পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে মমতা অভিযোগ করেন, আন্দোলনকারীদের বাসে তুলে দীর্ঘক্ষণ শহরের বিভিন্ন সড়কে ঘোরানো হচ্ছে। অসুস্থ থাকা সত্ত্বেও কেরালার মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নের সঙ্গেও পুলিশ একই ধরনের আচরণ করেছে এবং তাঁকে দুই ঘণ্টা ধরে রাস্তায় ঘোরানো হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
দিল্লিতে তরুণদের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে একাধিক রাজনৈতিক নেতা ও কর্মীকে আটক করার ঘটনায় রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর সঙ্গে থাকা সাংসদদের আটকের বিষয়ে পুলিশের বিস্তারিত বক্তব্য এই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
