পোস্টে রাশেদ খাঁন দাবি করেন, জীবদ্দশায় শহীদ ওসমান হাদীর সঙ্গে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মতবিরোধ থাকলেও তাঁর মৃত্যুর পর তাঁকে নিজেদের আদর্শিক নেতা হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা চলছে। এ ক্ষেত্রে জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
রাশেদ খাঁনের ভাষ্য অনুযায়ী, ঢাকা-৮ আসনে শহীদ ওসমান হাদীর বিপরীতে এনসিপি রিকশাচালক সুজনকে প্রার্থী ঘোষণা করেছিল। অন্যদিকে, জামায়াতের আমিরের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) ও বুয়েট শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি জুবায়ের তাঁকে ওই আসনে নির্বাচন না করার পরামর্শ দিয়েছিলেন বলে দাবি করেন তিনি। রাশেদ খাঁনের পোস্ট অনুযায়ী, জুবায়ের জানিয়েছিলেন, ঢাকা-৮ আসনে জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে সাদিক কায়েম নির্বাচন করবেন।
রাশেদ খাঁন আরও দাবি করেন, সে সময় শহীদ ওসমান হাদী বলেছিলেন, প্রয়োজনে মাত্র ৫০০ ভোট পেলেও তিনি ঢাকা-৮ আসন থেকেই নির্বাচনে অংশ নেবেন। এ বিষয়ে ওসমান হাদীর ভাই ওমর হাদী ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছিলেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। একই সঙ্গে জুবায়ের বর্তমানে দেশে আছেন কি না, সে প্রশ্নও তোলেন রাশেদ খাঁন।
জামায়াত ও এনসিপির রাজনৈতিক অবস্থানের সমালোচনা করে তিনি লেখেন, জীবদ্দশায় ওসমান হাদী এনসিপির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ, জুলাইয়ের ঐক্য বিনষ্ট করা এবং জুলাইয়ের আন্দোলনকে কুক্ষিগত করার মতো বিষয় তুলে ধরেছিলেন। একই সঙ্গে জামায়াতকে ‘গুপ্ত’ বলেও মন্তব্য করেছিলেন বলে দাবি করেন রাশেদ খাঁন।
এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে রাশেদ খাঁন লেখেন, জিয়াউর রহমানের চেয়ে ওসমান হাদীর লড়াই বেশি শক্তিশালী—এমন মন্তব্যের মাধ্যমে হাদীকে বিতর্কিত করার চেষ্টা হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন। তাঁর অভিযোগ, এ ধরনের বক্তব্যের কারণে বিএনপির নেতাকর্মীরা শহীদ ওসমান হাদীকে নিয়ে কটাক্ষ করার সুযোগ পেতে পারেন।
এ পরিস্থিতিতে বিএনপি এবং দলটির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের এ ধরনের বিতর্কে না জড়ানোর আহ্বান জানান রাশেদ খাঁন। তাঁর ভাষ্য, শহীদ ওসমান হাদী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আধিপত্যবাদবিরোধী রাজনৈতিক আদর্শ ধারণ করে সংগ্রাম করেছেন। তাই তাঁকে বিএনপির মুখোমুখি দাঁড় করানোর কোনো উদ্যোগ সফল হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে ওসমান হাদীকে দাফন করা নিয়েও নিজের মতামত তুলে ধরেন রাশেদ খাঁন। তিনি লেখেন, ইনকিলাব মঞ্চের নেতা জাবেরদের কিছু বক্তব্যের কারণে এ দাফন নিয়ে কারও কারও মনে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে। তবে হত্যাকাণ্ডের শিকার একজন ব্যক্তির দাফন নিয়ে বিতর্কে জড়ানো উচিত নয় বলে মত দেন তিনি।
পোস্টের শেষাংশে রাশেদ খাঁন জানান, শনিবার সকালে শহীদ ওসমান হাদীর বড় ভাইয়ের সঙ্গে টেলিফোনে তাঁর কথা হয়েছে। রাশেদ খাঁনের ভাষ্য অনুযায়ী, ওসমান হাদীর ভাই তাঁকে বলেছেন, ‘যেসময় কেউ কথা বলতো না, সে সময় নুর ভাই কথা বলতেন। একজন মৃত মানুষকে নিয়ে বিরোধীপক্ষ বিতর্ক করার সুযোগ পায়, এমন কোনো বক্তব্য দেওয়া উচিত না।’
ওসমান হাদীর ভাইয়ের এ বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করে রাশেদ খাঁন লেখেন, তাঁরা শহীদ ওসমান হাদীকে আজীবন হৃদয়ে ধারণ করবেন। একই সঙ্গে তাঁকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে বিতর্কিত করার চেষ্টা হলে সে বিষয়ে সচেতন ও সোচ্চার থাকার আহ্বান জানান তিনি।
