রোববার (১১ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে মোহাম্মদপুর চার রাস্তার মোড়ে অবস্থান নিয়ে অবরোধ কর্মসূচি শুরু করেন চালকেরা। এতে ওই এলাকার আশপাশের সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রী ও পথচারীরা।
অবরোধে অংশ নেওয়া এক অটোরিকশাচালক বলেন, ‘আমাদের একটাই দাবি—সড়কে গাড়ি চালাতে দিতে হবে। কোনো কারণ ছাড়াই আমাদের গাড়ি ডাম্পিং করা হয়। ইউটার্ন নিতে গেলেও গাড়ি ডাম্পিং করা হচ্ছে। পরে গাড়ি ছাড়াতে গেলে নানা অজুহাতে ঘোরানো হয়। আজ গাড়ি দেওয়া হবে, কাল দেওয়া হবে—এভাবে দিনের পর দিন অপেক্ষা করতে হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের তিন-চারজন চালক গাড়ি ছাড়ানোর কাগজ বা স্লিপ হাতে নিয়ে ঘুরছেন। আজ গাড়ি দেওয়ার কথা থাকলেও দেওয়া হয়নি। এর প্রমাণ আমাদের হাতেই রয়েছে, চাইলে আপনারা দেখতে পারেন। এমন অন্যায়ের কারণেই আমরা রাজপথে নামতে বাধ্য হয়েছি।’
পরিবারের আর্থিক সংকটের কথা তুলে ধরে ওই চালক বলেন, ‘আমাদের আয় বন্ধ হয়ে গেলে পরিবারের খাবার জোগাড় করা কঠিন হয়ে পড়ে। স্ত্রী, সন্তান ও মা-বাবাকে নিয়ে আমরা বিপদে আছি। অনেকেই ঋণ করে গাড়ি কিনেছেন। কিন্তু গাড়ি আটকে রাখায় আয় করতে পারছেন না, ফলে ঋণের কিস্তিও পরিশোধ করা সম্ভব হচ্ছে না।’
অবরোধে অংশ নেওয়া আরেক চালক বলেন, ‘আমাদের প্রধান দাবি, যেসব সড়কে অটোরিকশা চলাচলের সুযোগ রয়েছে, সেসব সড়কে গাড়ি চালাতে দিতে হবে। পুরো শহরে গাড়ি চালানোর দাবি আমাদের নেই। অন্তত নির্ধারিত সড়কগুলোতে চলাচলের সুযোগ দেওয়া হোক।’
তিনি অভিযোগ করেন, মিরপুর রোডে অটোরিকশা চলাচল করতে দেওয়া হয় না, তাই তাঁরা সেখানে গাড়ি চালান না। কিন্তু এখন ধানমন্ডি রোডেও চলাচলে বাধা দেওয়া হচ্ছে। ওই সড়কে গেলেই গাড়ি ডাম্পিং করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
অটোরিকশা চালকদের দাবি, গাড়ি ডাম্পিং ও চলাচলে বিধিনিষেধের কারণে তাঁদের জীবিকা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। নির্ধারিত সড়কে চলাচলের সুযোগ এবং আটক করা গাড়ি ফেরত দেওয়ার দাবিতে তাঁরা এই অবরোধ কর্মসূচি পালন করছেন।
