রোববার (১১ অক্টোবর) জোহরের নামাজের পর স্থানীয় মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে একসঙ্গে জানাজা অনুষ্ঠিত হয় এই দম্পতির। তবে কুয়েতপ্রবাসী ছেলে দেশে ফিরে বাবা-মাকে শেষবারের মতো দেখার অপেক্ষায় থাকায় এখনো তাঁদের দাফন সম্পন্ন হয়নি।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মালিডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা রোমান মোল্যার স্ত্রী গত সাত বছর ধরে পক্ষাঘাতগ্রস্ত ছিলেন। মাঝেমধ্যে শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলেও বেশির ভাগ সময়ই তাঁকে শয্যাশায়ী থাকতে হতো। শনিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে নিজ বাড়িতেই শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
রোমান মোল্যা স্থানীয় মালিডাঙ্গা দক্ষিণপাড়া জামে মসজিদের নিয়মিত মোয়াজ্জিন ছিলেন। স্ত্রীর মৃত্যুর শোক নিয়েই ফজরের সময় তিনি মসজিদে যান। সেখানে যথারীতি আজান দেওয়ার পর জামাতে নামাজ আদায় করেন। কিন্তু নামাজ শেষ হওয়ার পরপরই হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি।
এ সময় মসজিদে উপস্থিত মুসল্লিরা তাঁকে সুস্থ করে তোলার জন্য সেবা-শুশ্রূষা করেন। তবে তাঁদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে কয়েক মিনিটের মধ্যেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন রোমান মোল্যা। স্ত্রীর মৃত্যুর শোক সামলে মসজিদে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তাঁর নিজের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে হতবাক হয়ে পড়েন স্থানীয়রা।
মাত্র সাড়ে তিন ঘণ্টার ব্যবধানে স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও পুরো গ্রামজুড়ে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। হৃদয়বিদারক এই ঘটনা স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা খায়রুল বাশার জানান, এই দম্পতির ছেলে জসিম জীবিকার তাগিদে কুয়েতে থাকেন। বাবা-মায়ের মৃত্যুসংবাদ পেয়ে তিনি তাঁদের শেষবারের মতো দেখতে দেশের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। সোমবার ছেলে বাড়িতে পৌঁছানোর পর পারিবারিক কবরস্থানে বাবা-মায়ের দাফন সম্পন্ন করার কথা রয়েছে।
