Amyal TV
রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
১০ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
১০ কার্তিক ১৪৩৩

চোরাই বলে শিক্ষার্থীর কেনা আইফোন নিয়ে গেলেন এসআই, সঙ্গে নিলেন ১৭ হাজার টাকা ঘুষ!

শপিং মল থেকে ব্যবহৃত আইফোন কেনার পর সেটিকে চোরাই বলে দাবি করে এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ফোনটি নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের এক উপপরিদর্শকের (এসআই) বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, ফোনের লোকেশন ট্র্যাকিংয়ের খরচের কথা বলে ওই শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ১৭ হাজার টাকা নেওয়ারও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী। তবে অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তার দাবি, চুরির মামলার তদন্তের দায়িত্ব পেয়ে তিনি ফোনটি উদ্ধার করেছেন। ঘটনাটি ঘিরে ওই শিক্ষার্থীর আর্থিক ক্ষতি, হয়রানি এবং পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

Amyal TV
৪ মিনিট পড়ুন

শনিবার (১০ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের মুলাইদ গ্রামের সফিক মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর নাম আবুল হাসনাত আয়ান। তিনি ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী। অভিযুক্ত এসআই মেহেদী হাসান টিটু শ্রীপুর থানায় কর্মরত।

ভুক্তভোগী আয়ানের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর যমুনা ফিউচার পার্কের ‘এপেল হট’ নামের একটি দোকান থেকে ১ লাখ ৫ হাজার টাকা দিয়ে ব্যবহৃত আইফোন ১৬ প্রোম্যাক্স কেনেন তিনি। ফোনটি কেনার সময় দোকান থেকে ক্যাশ মেমো ও বক্সও সংগ্রহ করেন বলে জানান ওই শিক্ষার্থী।

আয়ানের অভিযোগ, শনিবার বিকেলে তাঁর বাসায় যান এসআই মেহেদী হাসান টিটু। এ সময় পুলিশ কর্মকর্তা তাঁকে জানান, তাঁর ব্যবহৃত আইফোনটি চোরাই। চট্টগ্রামে এক নারীকে নেশাজাতীয় দ্রব্য খাইয়ে ফোনটি চুরি করা হয়েছিল বলেও দাবি করেন ওই এসআই।

তবে ফোনটি বৈধভাবে কেনা হয়েছে দাবি করে আয়ান কেনাকাটার ক্যাশ মেমো ও ফোনের বক্স দেখান। পাশাপাশি ফোনটি যে দোকান থেকে কেনা হয়েছিল, সেই দোকানের বিক্রেতার সঙ্গে যোগাযোগ করে এসআইয়ের সামনেই কেনার বিষয়টি নিশ্চিত করার চেষ্টা করেন তিনি।

আয়ানের দাবি, কেনাকাটার প্রমাণ দেখানো এবং দোকানের সঙ্গে যোগাযোগের পরও পুলিশ কর্মকর্তা ফোনটি তাঁর কাছ থেকে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে অনড় থাকেন। এ সময় ফোনটি নিজের কাছে রাখার কারণে তাঁকেই সমস্যার মুখে পড়তে হবে বলে জানানো হয়।

এ বিষয়ে আবুল হাসনাত আয়ান বলেন, ‘সব প্রমাণ দেখানোর পরও এসআই আমাকে বলেন, ফোন যেহেতু আপনার কাছে পেয়েছি, সমস্যা আপনারই। আমার মামা তখন তাঁকে ওই দোকানে গিয়ে অভিযান চালানোর অনুরোধ করেন। কিন্তু তিনি উল্টো আমাকে ফোনসহ ধরে নিয়ে যাওয়ার হুমকি দেন। একপর্যায়ে লোকেশন ট্র্যাকিংয়ের খরচের কথা বলে আমার কাছ থেকে ১৭ হাজার টাকা নিয়ে যান।’

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর অভিযোগ, ফোনটি কোথা থেকে কেনা হয়েছে, তার প্রমাণ দেখানোর পরও তাঁকে হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। পাশাপাশি লোকেশন ট্র্যাকিংয়ের খরচের কথা বলে টাকা নেওয়ায় তিনি আর্থিকভাবেও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এ ঘটনায় দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

আয়ান আরও অভিযোগ করেন, এসআই তাঁর কাছ থেকে মোবাইল ফোনটি নিয়ে যাওয়ার সময় ঘটনার একটি ভিডিও ধারণ করা হয়েছিল। তবে সেই ভিডিও তাঁকে দেওয়া হয়নি। ফোন কেনার পর এমন পরিস্থিতিতে পড়ায় নিজের নিরাপত্তা, আর্থিক ক্ষতি এবং হয়রানির বিষয়ে ন্যায়বিচার চান এই বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী।

অন্যদিকে, অভিযুক্ত এসআই মেহেদী হাসান টিটু ঘটনাটির বিষয়ে ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন। তাঁর দাবি, গত ১৭ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের এক নারীকে নেশাজাতীয় দ্রব্য খাইয়ে তাঁর বাসা থেকে নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও একটি আইফোন চুরি করা হয়। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে গাজীপুর জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ তাঁকে মোবাইল ফোনটি উদ্ধারের দায়িত্ব দেয়। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী তিনি ফোনটি উদ্ধার করেছেন বলে দাবি করেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।

তবে ফোনটি বৈধভাবে কেনা হয়ে থাকলে শিক্ষার্থীর আর্থিক ক্ষতির বিষয়টি কীভাবে সমাধান করা হবে এবং লোকেশন ট্র্যাকিংয়ের নামে ১৭ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগের ভিত্তি কী—এমন প্রশ্নের বিষয়ে এসআইয়ের কাছ থেকে সুস্পষ্ট উত্তর পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি এ সময় স্থানীয় এক সাংবাদিক ও ক্ষমতাসীন দলের এক শীর্ষ নেতার নাম উল্লেখ করে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এমনকি প্রতিবেদককে চা পানের দাওয়াতও দেন তিনি।

এদিকে, লোকেশন ট্র্যাকিংয়ের কথা বলে ১৭ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে গাজীপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ জসীম উদ্দীনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি এ ধরনের অর্থ নেওয়ার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

এসপি মোহাম্মদ জসীম উদ্দীন বলেন, ‘এসআই কেন ১৭ হাজার টাকা নেবে? মোবাইল ট্র্যাকিংয়ের কথা বলে টাকা নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই, এটি সঠিক নয়।’

ঘটনাটি ঘিরে একদিকে ফোন উদ্ধারের বিষয়ে পুলিশের বক্তব্য, অন্যদিকে বৈধভাবে ফোন কেনা এবং টাকা নেওয়ার বিষয়ে শিক্ষার্থীর অভিযোগ—দুই ধরনের বক্তব্য সামনে এসেছে। অভিযোগগুলোর সত্যতা, ফোনটি কীভাবে উদ্ধার করা হয়েছে এবং অর্থ লেনদেনের প্রকৃত ঘটনা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও ব্যাখ্যা গুরুত্বপূর্ণ।

চট্টগ্রাম বিভাগে তিন দিনের সফরে যাচ্ছেন পেশাজীবী দলের মুখপাত্র- নাফিজ মাহবুব

সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার, তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় ও পেশাজীবীদের সম্পৃক্ততা...

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরতে পরতে হাসনাত-সারজিসের গাদ্দারি খুঁজে পাওয়া যাবে: রাশেদ খাঁন

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিভিন্ন পর্যায়ে হাসনাত আবদুল্লাহ ও সারজিস আলমের ‘গাদ্দারি’...