Amyal TV
মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
১২ কার্তিক ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
১২ কার্তিক ১৪৩৩

৮ মাসে দেড় বিলিয়ন ডলারেররপ্তানি হারিয়েছে বাংলাদেশ

ঢাকা, ১৭ অক্টোবর ২০২৬: ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বড় ধরনের পতন দেখা দিয়েছে। চলতি বছরের প্রথম সাত মাসেই ইইউর বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি কমেছে উল্লেখযোগ্য হারে। ইউরোস্ট্যাটের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত ইইউতে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি ১৩ দশমিক ৬৫ শতাংশ কমে ১০ দশমিক ৩৭ বিলিয়ন ইউরোতে নেমে এসেছে। আগের বছরের একই সময়ে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ১২ দশমিক ০১ বিলিয়ন ইউরো।

Amyal TV
৪ মিনিট পড়ুন

অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে রপ্তানি কমেছে প্রায় ১ দশমিক ৬৪ বিলিয়ন ইউরো। ডলারের হিসাবে এই ঘাটতি প্রায় দেড় থেকে দুই বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি। দেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাকশিল্পের জন্য এই পতন নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

বাংলাদেশের রপ্তানি কমার হার ইইউর সামগ্রিক পোশাক আমদানির পতনের তুলনায়ও অনেক বেশি। একই সময়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের মোট পোশাক আমদানি কমেছে ৫ দশমিক ১০ শতাংশ। বিপরীতে বাংলাদেশের রপ্তানি কমেছে এর দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে, চীন ও ভিয়েতনামের মতো প্রতিযোগী দেশগুলো একই সময়ে ইইউর বাজারে প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। চীনের রপ্তানি বেড়েছে ১ দশমিক ৮৯ শতাংশ এবং ভিয়েতনামের বেড়েছে ৩ দশমিক ৯২ শতাংশ। এতে ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান ও বাজার অংশীদারিত্ব নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

শুধু রপ্তানি আয়ের পরিমাণ নয়, কমেছে পোশাক রপ্তানির মোট পরিমাণও। জানুয়ারি থেকে জুলাই সময়ে বাংলাদেশ থেকে ইইউতে পোশাক রপ্তানির পরিমাণ ৫ দশমিক ৬৬ শতাংশ কমে ৭৫১ দশমিক ৯১ মিলিয়ন কেজিতে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে গড় ইউনিট মূল্য ৮ দশমিক ৪৭ শতাংশ কমে প্রতি কেজি ১৩ দশমিক ৮০ ইউরো হয়েছে। অর্থাৎ, একদিকে অর্ডারের পরিমাণ কমছে, অন্যদিকে পণ্যের গড় বিক্রয়মূল্যও কমে যাচ্ছে। এতে রপ্তানি আয় আরও চাপে পড়ছে।

কেন কমছে রপ্তানি?

বিশেষজ্ঞ ও শিল্পমালিকদের মতে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, ইউরোপে ভোক্তাদের চাহিদা হ্রাস, আন্তর্জাতিক বাজারে তীব্র মূল্য প্রতিযোগিতা এবং দেশের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সংকটসহ বেশ কয়েকটি কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

ইউরোপের ক্রেতারা আগের তুলনায় কম অর্ডার দিচ্ছেন এবং বড় চালানের পরিবর্তে ছোট ছোট অর্ডারের দিকে ঝুঁকছেন। একই সময়ে চীন ও ভিয়েতনামের মতো প্রতিযোগী দেশগুলো তুলনামূলক কম দামে পণ্য সরবরাহ করে বাজারে নিজেদের অবস্থান শক্ত করছে।

দেশের কারখানাগুলোতেও গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা এবং পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি পোশাক উৎপাদন ও রপ্তানির খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক দামে পণ্য সরবরাহ করা রপ্তানিকারকদের জন্য কঠিন হয়ে উঠছে।

সাবেক বিজিএমইএ পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, “অন্য কোনো দেশের রপ্তানি ইইউতে এত বেশি কমেনি। আমাদের পতন সবচেয়ে বেশি। এটা উদ্বেগের বিষয়।”

সামগ্রিক রপ্তানিতেও ধীরগতি

ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে রপ্তানি কমার পাশাপাশি বাংলাদেশের সামগ্রিক তৈরি পোশাক রপ্তানিতেও ধীরগতি দেখা যাচ্ছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে মে সময়ে তৈরি পোশাক রপ্তানি ৩ দশমিক ৪১ শতাংশ কমে ৩৫ দশমিক ৩১ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে।

অন্যদিকে, পুরো অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট পণ্য রপ্তানি আগের বছরের তুলনায় ০ দশমিক ৫৮ শতাংশ কমে প্রায় ৪৮ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। দেশের রপ্তানি আয়ের বড় অংশ তৈরি পোশাক খাত থেকে আসায় এই খাতের প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়া সামগ্রিক অর্থনীতির ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।

সংকট মোকাবিলায় কী করতে হবে?

বিশেষজ্ঞদের মতে, রপ্তানির এই নিম্নমুখী প্রবণতা মোকাবিলায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে ২০২৬ সালের নভেম্বরে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের সময় ঘনিয়ে আসায় ইইউর বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থার আওতায় ২০২৯ সাল পর্যন্ত কিছু বাণিজ্যিক সুবিধা অব্যাহত থাকার সুযোগ থাকতে পারে।

এ পরিস্থিতিতে রপ্তানিকারকেরা নতুন বাজার অনুসন্ধান ও বাজার বহুমুখীকরণ, উচ্চমূল্যের পোশাক উৎপাদন, উৎপাদন ব্যয় কমানো এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) সম্পাদনের উদ্যোগ দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন।

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইইউর সঙ্গে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে শুল্কবহির্ভূত বাধা দূর করতে ইতোমধ্যে ৪৮টি বিষয় সমাধান করা হয়েছে। তবে বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে নীতিগত সহায়তা, জ্বালানি সরবরাহের নিশ্চয়তা এবং উৎপাদন ব্যয় নিয়ন্ত্রণের মতো বিষয়গুলোও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি তৈরি পোশাকশিল্প। এই খাতের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বিপুলসংখ্যক শ্রমিকের কর্মসংস্থান, কারখানার কার্যক্রম এবং দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের বিষয়টি। ফলে ইউরোপের বাজারে রপ্তানি কমে যাওয়াকে শুধু আয় হ্রাসের পরিসংখ্যান হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। দীর্ঘমেয়াদে এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে শ্রমিকদের জীবিকা, কারখানার টিকে থাকা এবং দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপরও প্রভাব পড়তে পারে।

চট্টগ্রাম বিভাগে তিন দিনের সফরে যাচ্ছেন পেশাজীবী দলের মুখপাত্র- নাফিজ মাহবুব

সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার, তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় ও পেশাজীবীদের সম্পৃক্ততা...

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরতে পরতে হাসনাত-সারজিসের গাদ্দারি খুঁজে পাওয়া যাবে: রাশেদ খাঁন

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিভিন্ন পর্যায়ে হাসনাত আবদুল্লাহ ও সারজিস আলমের ‘গাদ্দারি’...