পোস্টে রাশেদ খাঁন লেখেন, হাসনাত আবদুল্লাহকে ‘হাসিনার আবদুল্লাহ’ নামে ডাকার সূত্রপাত হয় ১৭ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি চত্বরে আয়োজিত গায়েবানা জানাজা ও কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে। ওই কর্মসূচিতে আবু সাঈদ, ওয়াসিম আকরামসহ ছয় শহীদের জন্য দোয়া ও প্রতিবাদ জানানো হয়। এ সময় নারী শিক্ষার্থীসহ সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে রিফাত রশিদ একটি প্রতিবাদলিপি লেখেন। সেটি যাচাই করার দায়িত্ব হাসনাত আবদুল্লাহকে দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন রাশেদ খাঁন।
তার অভিযোগ, ডিজিএফআইয়ের পরামর্শে হাসনাত আবদুল্লাহ ওই প্রতিবাদলিপির শেষের দিকে ‘আলোচনার দরজা খোলা আছে’ বাক্যটি যুক্ত করেন। সমন্বয়কদের সঙ্গে আলোচনা না করেই তিনি সেটি ফেসবুকে প্রকাশ করেন বলেও দাবি করেন রাশেদ। এ নিয়ে সমন্বয়কদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয় এবং একপর্যায়ে হাসনাত ডিজিএফআইয়ের পরামর্শে ওই বাক্যটি যুক্ত করার কথা স্বীকার করেন বলে পোস্টে উল্লেখ করেন তিনি।
রাশেদ খাঁন আরও অভিযোগ করেন, ১০ জুলাই কোটা নিয়ে হাইকোর্টের রায়ের পর আন্দোলন তিন দিনের আল্টিমেটাম দিয়ে স্থগিত ঘোষণার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তার দাবি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন সহকারী প্রক্টর ও ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আব্দুর রহিমের সঙ্গে বসে ডিজিএফআইয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী হাসনাত আবদুল্লাহ ও সারজিস আলম একটি প্রেস নোটও তৈরি করেছিলেন।
তবে শাহবাগে হাসনাত ও সারজিস উপস্থিত হওয়ার পর অন্য সমন্বয়কেরা আন্দোলন স্থগিতের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত তা ঘোষণা করা সম্ভব হয়নি বলে দাবি করেন রাশেদ খাঁন। এ প্রসঙ্গে তিনি হাসনাত ও সারজিসকে ‘জুলাই গাদ্দার’ বলেও আখ্যা দেন।
পোস্টের আরেক অংশে রাশেদ খাঁন অভিযোগ করেন, ১৯ জুলাই শহীদদের রক্তের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে আওয়ামী লীগের মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক এবং নাহিদ ইসলাম ও আসিফ মাহমুদ গুম হওয়ার পর ডিজিএফআইয়ের গাড়িতে চলাফেরাসহ বিভিন্ন ঘটনায় হাসনাত-সারজিসের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এ ছাড়া ডিবি হেফাজতে পুকুরপাড়ে বসে জুস পান করার ঘটনাও উল্লেখ করেন তিনি।
বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন আহমেদকে সম্বোধন ও তাঁকে নিয়ে হাসনাত আবদুল্লাহর বক্তব্যের সমালোচনাও করেন রাশেদ খাঁন। তাঁর অভিযোগ, ৬১ দিন গুম থাকা ও দীর্ঘদিন নির্বাসিত জীবন কাটানোর পর দেশে ফেরা সালাউদ্দিন আহমেদকে শুধু ‘সালাউদ্দিন’ বলে সম্বোধন করা এবং ‘বিএনপিই কিছুদিন পর সালাউদ্দিনের বিচার করবে’—এমন মন্তব্যের মধ্য দিয়ে হাসনাত তাঁর প্রতি আক্রোশ প্রকাশ করেছেন।
রাশেদ খাঁনের ভাষ্য, শেখ হাসিনার সরকারের সময় গুমের শিকার হওয়া একজন নেতার প্রতি এ ধরনের মনোভাব জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তাঁর মতে, জুলাই আন্দোলনের বিভিন্ন ঘটনা পর্যালোচনা করলে হাসনাত আবদুল্লাহ ও সারজিস আলমের ভূমিকা নিয়ে আরও প্রশ্ন সামনে আসবে।
তবে ফেসবুক পোস্টে রাশেদ খাঁনের তোলা অভিযোগগুলোর পক্ষে বিস্তারিত নথি বা প্রমাণ তুলে ধরা হয়নি। এসব অভিযোগের বিষয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ ও সারজিস আলমের বক্তব্যও এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।
