শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে নগরের কামাল কাছনা মাছুয়াপাড়া এলাকার একটি নির্মাণাধীন তিনতলা ভবন থেকে তাঁদের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহগুলো পচে যাওয়ায় পুরো ভবনে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছিল।
নিহত আগামী চক্রবর্তী রংপুর কারমাইকেল কলেজ থেকে ইংরেজিতে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছিলেন। আর তাঁর ছোট ভাই আয়ুশ চক্রবর্তী ছিল রংপুর জিলা স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
পুলিশ জানিয়েছে, কী কারণে এবং কারা এই চারজনকে হত্যা করেছে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ ঘটনায় থানায় এখনো কোনো মামলা হয়নি।
পুলিশ ও স্বজনদের তথ্য অনুযায়ী, নিহত পরিবারের সদস্যদের মরদেহ বাড়ির বিভিন্ন স্থান থেকে উদ্ধার করা হয়। দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষে খাটের পাশে পাওয়া যায় আয়ুশের মরদেহ। সিঁড়িতে পাওয়া যায় মা প্রীতিলতা ও মেয়ে আগামীর মরদেহ। আর তৃতীয় তলার ছাদ থেকে উদ্ধার করা হয় গণপতি চক্রবর্তীর মরদেহ।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, তাঁদের শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। চারজনের মুখে কিছুটা ঝলসানো দাগও পাওয়া গেছে। মুখে রাসায়নিকজাতীয় কোনো পদার্থ ব্যবহার করা হয়েছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ঘরের বিভিন্ন কক্ষের আলমারি ও ড্রয়ার খোলা অবস্থায় পাওয়া গেছে। কাপড়চোপড়, খেলনা ও অন্যান্য জিনিসপত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল। তবে কোনো আলমারি বা ড্রয়ার ভাঙা হয়নি। একই সঙ্গে টেলিভিশন, ল্যাপটপ ও মুঠোফোনও খোয়া যায়নি। ফলে এটি ডাকাতির ঘটনা কি না, তা নিয়েও সন্দেহ রয়েছে পুলিশের।
নিহত প্রীতিলতার ছোট বোন পূজা চক্রবর্তী জানান, বৃহস্পতিবার রাতের পর থেকে পরিবারের কারও সঙ্গে আর যোগাযোগ করতে পারেননি তিনি। শুক্রবার বিকেল থেকে তাঁদের মুঠোফোনে কল করেও বন্ধ পান। পরে সন্দেহ হওয়ায় রাতে বোনের বাড়িতে গিয়ে দরজা-জানালা বন্ধ অবস্থায় দেখতে পান। এরপর পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
রংপুর সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার সুমিত চৌধুরী জানান, হত্যাকারীরা ঘরের ভেতরে দীর্ঘ সময় অবস্থান করেছিল কি না, কিংবা ডাকাতির উদ্দেশ্যে এসে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে কি না—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। হত্যার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে।
প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, গণপতি চক্রবর্তী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কারও বিরোধ ছিল বলে তাঁদের জানা নেই। ঘটনার আগের দিনও পরিবারের সদস্যদের স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে দেখা গেছে।
পরিবারের স্বজনদের দাবি, কোনো শত্রুতা ছাড়াই এমন নির্মম হত্যাকাণ্ড কীভাবে ঘটল, তা তাঁদের কাছে অবিশ্বাস্য।
প্রায় তিন বছর আগে মাছুয়াপাড়া এলাকায় ছয় শতাংশ জমির ওপর তিনতলা ভবন নির্মাণ শুরু করেছিলেন গণপতি চক্রবর্তী। অবসর জীবনে তিনি হোমিও চিকিৎসাও দিতেন।
এখন এই চার হত্যার রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ ও সিআইডি।
