রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে এমন ঘটনা দেখতে পান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড, অপারেশন থিয়েটার, ফার্মেসি ও রান্নাঘর ঘুরে দেখেন এবং রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন।
পরিদর্শন শেষে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। এ সময় হাসপাতালের সেবার মান নিয়ে রোগীদের কাছ থেকে মোটামুটি সন্তোষজনক প্রতিক্রিয়া পেলেও বেশ কিছু অনিয়ম ও সীমাবদ্ধতা তাঁর নজরে আসে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, ২৫০ শয্যার এই হাসপাতালে বর্তমানে ১০০ শয্যার খাবারের বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে। এ সংকট দূর করতে এবং খাবারের মান উন্নত করতে প্রতি রোগীর জন্য খাবারের বরাদ্দ ১৭৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫০ টাকা করা হচ্ছে।
এ ছাড়া দায়িত্ব পালনে গাফিলতির অভিযোগে এক চিকিৎসক ও এক নার্সের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। এক চিকিৎসক ৪৫ মিনিট দেরিতে হাসপাতালে আসেন। অন্যদিকে, হাসপাতালে বিনা মূল্যের স্যালাইন মজুত থাকা সত্ত্বেও এক নার্স রোগীকে বাইরে থেকে স্যালাইন কিনে আনতে বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, গত ১৭ বছর স্বাস্থ্য খাতে জবাবদিহির ঘাটতি ছিল। সরকার গত ছয় মাসে স্বাস্থ্যসেবায় শৃঙ্খলা ও জবাবদিহি ফিরিয়ে আনার কাজ শুরু করেছে। উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে সেবার পরিধি বাড়াতে বড় ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি জানান, তৃণমূল পর্যায়ে ডায়ালাইসিস সেবা পৌঁছে দেওয়া, হাসপাতালের শয্যা বাড়ানো এবং জনবল সংকট দূর করতে প্রায় ৯ হাজার ৫০০ জন নতুন জনবল নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এর মধ্যে আড়াই হাজার নার্স ও আড়াই হাজার ফার্মাসিস্ট রয়েছেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও জানান, ঢাকামুখী ডায়ালাইসিসের চাপ কমাতে দেশের প্রতিটি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৫০টি এবং জেলা সদর হাসপাতালগুলোতে ১০টি করে ডায়ালাইসিস বেড স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। ইতোমধ্যে মেশিন কেনার টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। আগামী তিন মাসের মধ্যে জেলা পর্যায়ে ডায়ালাইসিস সেবা চালুর লক্ষ্য রয়েছে।
এ ছাড়া আগামী দুই বছরের মধ্যে উপজেলা পর্যায়েও ১০টি করে ডায়ালাইসিস বেড চালুর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।
হাসপাতালের অবকাঠামো উন্নয়ন প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে শয্যা সংখ্যা ৫০ থেকে বাড়িয়ে ১৫১ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন এসব হাসপাতালে প্রসূতি ও শিশুদের জন্য পৃথক শয্যা, ফিজিওথেরাপি ওয়ার্ড, আধুনিক আলট্রাসাউন্ড ও উন্নত প্যাথলজি ল্যাব থাকবে।
নওগাঁ জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শনের সময় স্থানীয় সংসদ সদস্য জাহিদুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলাম, হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক আ ম আখতারুজ্জামান, সিভিল সার্জন আমিনুল ইসলামসহ প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
