তবে ব্রিটিশ সরকার জানিয়েছে, এই হামলার কারণে দেশের জাতীয় বিদ্যুৎ বা জ্বালানি ব্যবস্থায় কোনো ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়নি।
রোববার বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, গত জুলাইয়ে এই সাইবার হামলার ঘটনা ঘটে। হামলাকারীরা ইরান সরকারের সঙ্গে যুক্ত বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিরাপত্তার কারণে আক্রান্ত বিদ্যুৎকেন্দ্রটির নাম ও অবস্থান প্রকাশ করেনি ব্রিটিশ সরকার। দেশটির ন্যাশনাল সাইবার সিকিউরিটি সেন্টার বা এনসিএসসিও হামলা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেয়নি।
তবে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এটি কোনো বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র কিংবা জরুরি পরিষেবার ওপর হামলা ছিল না।
দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার কারণে ছোট ওই বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্রটি চার দিন বন্ধ ছিল। ডিপার্টমেন্ট ফর এনার্জি সিকিউরিটি অ্যান্ড নেট জিরো জানিয়েছে, ঘটনার প্রভাব কেবল ওই একটি ছোট উৎপাদনকেন্দ্রেই সীমাবদ্ধ ছিল। দেশের বৃহত্তর বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবস্থায় কোনো সময়ই বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়নি।
যুক্তরাজ্যের বিদ্যুৎ নেটওয়ার্কে বেশ কয়েকটি ছোট গ্যাসচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে। বিদ্যুতের চাহিদা হঠাৎ বেড়ে গেলে এসব কেন্দ্র স্বল্প সময়ের জন্য অতিরিক্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ করে।
ঘটনার পর বিদ্যুৎ কোম্পানিগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করে সম্ভাব্য সাইবার হামলার বিষয়ে সতর্ক করেছে ব্রিটিশ সরকার। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহের নিরাপত্তাকে গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে দেশটি।
সাইবার নিরাপত্তা জোরদারে নিয়মকানুনও হালনাগাদ করা হচ্ছে। চলতি বছরের শেষ দিকে নতুন একটি জ্বালানি স্থিতিস্থাপকতা কৌশল প্রণয়নের পরিকল্পনাও রয়েছে।
বিশ্বের অন্যতম সক্ষম সাইবার শক্তি হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে ইরানকে বিবেচনা করা হয়। চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাতের পর পশ্চিমা দেশগুলোতে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, ইরান সরাসরি কিংবা সংশ্লিষ্ট হ্যাকারদের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় সাইবার হামলা চালাতে পারে।
এখন পর্যন্ত এ ধরনের হামলার ঘটনা তুলনামূলকভাবে সীমিত হলেও যুক্তরাজ্যের এই ঘটনা গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
