Amyal TV
বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
১৩ কার্তিক ১৪৩৩
বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
১৩ কার্তিক ১৪৩৩

‘ওরা আমাকে মেরে ফেলবে’, পরে মা ও নবজাতকের মৃত্যু!

ভারতের মধ্যপ্রদেশের রেওয়া জেলার একটি সরকারি হাসপাতালে সন্তান জন্ম দেওয়ার পর এক নারী ও তাঁর নবজাতক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর আগে ওই নারীর কান্না ও অসহায় অবস্থার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘এভাবে চিকিৎসা চলতে থাকলে ওরা আমাকে মেরে ফেলবে।’

Amyal TV
৩ মিনিট পড়ুন

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহত নারীর নাম কল্পনা মিশ্র। বয়স ২৫ বছর। প্রথম সন্তান জন্ম দেওয়ার জন্য গত ২৫ আগস্ট রাতে তাঁকে রেওয়ার সঞ্জয় গান্ধী মেমোরিয়াল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরদিন রাত সাড়ে ৮টার দিকে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তিনি সন্তান জন্ম দেন। এর কিছুক্ষণ পরই কল্পনা ও তাঁর নবজাতক শিশুর মৃত্যু হয়।

মৃত্যুর আগে ধারণ করা ভিডিওতে হাসপাতালের নারী ওয়ার্ডে কল্পনাকে কাঁদতে ও চিৎকার করতে দেখা যায়। তিনি স্বজনদের কাছে যেতে এবং হাসপাতাল থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করছিলেন। এ সময় কয়েকজন নার্স তাঁকে আটকে রাখার চেষ্টা করেন।

ভিডিওতে কল্পনাকে বলতে শোনা যায়, ‘আমি বাঁচব না। দয়া করে আমাকে বাঁচান, আমার জীবন ঝুঁকিতে।’

পরিবারের অভিযোগ, কল্পনার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলেও চিকিৎসকেরা যথাযথ গুরুত্ব দেননি। তাঁর বাবা রামশরণ মিশ্রের দাবি, তিনি বারবার চিকিৎসকদের কাছে মেয়ের অবস্থা পর্যবেক্ষণের অনুরোধ করেছিলেন। তবে সেই অনুরোধ যথাযথভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।

পরিবারের আরও অভিযোগ, অ্যানেসথেসিয়া দেওয়ার পর কল্পনার আর জ্ঞান ফেরেনি। তাঁকে অতিরিক্ত মাত্রায় অ্যানেসথেসিয়া দেওয়া হয়েছিল কি না, তা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছে পরিবার। মেয়ের মৃত্যুর জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে মামলা ও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁর বাবা।

ঘটনার পর কল্পনার স্বজনেরা হাসপাতালের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নেন। চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তুলে তাঁরা দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। এ সময় প্রায় চার ঘণ্টা হাসপাতাল এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়।

পরে হাসপাতালের ডিন সুনীল আগরওয়াল ও হাসপাতাল সুপার রাহুল মিশ্র ঘটনাস্থলে যান। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও পরিবারের মধ্যে প্রায় দুই ঘণ্টা বৈঠকের পর মরদেহের ময়নাতদন্তে সম্মতি দেয় পরিবার।

এরপর দায়িত্বে থাকা দুই নার্স—সাধনা ভার্মা ও সীমা মুজালদেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়। পুরো ঘটনা তদন্তে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটিও গঠন করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তদন্তে কারও দায় প্রমাণিত হলে আরও ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।

হাসপাতালের ডিন সুনীল আগরওয়াল বলেন, মা ও নবজাতকের মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখজনক। পরিবারের অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দেখা হবে। অ্যানেসথেসিয়া দেওয়ার পর কল্পনার কেন জ্ঞান ফেরেনি, সেটিও তদন্তের আওতায় থাকবে।

তবে চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হাসপাতালের সুপার রাহুল মিশ্র। তাঁর দাবি, চিকিৎসার নিয়ম মেনেই কল্পনাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে কোনো অবহেলা করা হয়নি। তবে পরিবারের অভিযোগ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

এ ঘটনার মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রদেশের সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থার জনবল সংকটের বিষয়টিও সামনে এসেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ সালে রাজ্যটিতে অনুমোদিত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের প্রায় ৭২ শতাংশ পদই খালি রয়েছে।

রাজ্যে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের ৫ হাজার ৪৪৩টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ১ হাজার ৪৯৫ জন। অর্থাৎ ৩ হাজার ৯৪৮টি পদই শূন্য। একইভাবে মেডিকেল অফিসারের ৬ হাজার ৫১৩টি অনুমোদিত পদের মধ্যে ২ হাজার ৬৮৯টি পদও খালি রয়েছে।

চট্টগ্রাম বিভাগে তিন দিনের সফরে যাচ্ছেন পেশাজীবী দলের মুখপাত্র- নাফিজ মাহবুব

সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার, তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় ও পেশাজীবীদের সম্পৃক্ততা...

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরতে পরতে হাসনাত-সারজিসের গাদ্দারি খুঁজে পাওয়া যাবে: রাশেদ খাঁন

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিভিন্ন পর্যায়ে হাসনাত আবদুল্লাহ ও সারজিস আলমের ‘গাদ্দারি’...