প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেতানিয়াহু ও মোহাম্মদ বিন জায়েদের মধ্যে বৈঠকের আগে কয়েক সপ্তাহ ধরে একাধিকবার টেলিফোনে কথোপকথন হয়। আসন্ন নির্বাচনের আগেই আমিরাতের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে একটি বৈঠক করতে আগ্রহী ছিলেন নেতানিয়াহু। এ জন্য আমিরাত কর্তৃপক্ষের ওপর তিনি ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করেন। শেষ পর্যন্ত সেই চাপের পরিপ্রেক্ষিতেই রোববার সংযুক্ত আরব আমিরাতে সফর করেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী।
বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আমিরাতের কর্মকর্তারা নেতানিয়াহুর এই চাপকে ‘অস্বাভাবিক রকমের তীব্র’ বলে বর্ণনা করেছেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘন ঘন ফোনকল, নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের তৎপরতা এবং আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যোগাযোগের পাশাপাশি ভবিষ্যতে নিরাপত্তা সহযোগিতার বিভিন্ন ধরনের পরোক্ষ ইঙ্গিত দেওয়ার মাধ্যমে আমিরাতের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়।
বার্তা সংস্থা এপির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের আগে হামাসের সম্ভাব্য হামলা নিয়ে মোহাম্মদ বিন জায়েদ নেতানিয়াহুকে আগেই সতর্ক করেছিলেন—এমন খবর বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল। এসব প্রতিবেদন নিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ বা অস্বীকার জানানোর জন্যও আমিরাতের প্রেসিডেন্টকে অনুরোধ করেছিলেন নেতানিয়াহু বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর কয়েক দিন আগেও নেতানিয়াহুর একটি সফরের প্রাথমিক তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছিল এবং সফরকে কেন্দ্র করে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতিও সম্পন্ন করা হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, সফরের বিষয়টি গোপন রাখা হবে এবং সফর শেষ হওয়ার পর তা প্রকাশ্যে আনা হবে। তবে একেবারে শেষ মুহূর্তে সেই সফর বাতিল হয়ে যায়।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম মারিভকে একটি সূত্র জানায়, সফরের জন্য প্রতিনিধিদল প্রস্তুত ছিল এবং সব ধরনের আয়োজনও সম্পন্ন করা হয়েছিল। কিন্তু উড়োজাহাজ ছাড়ার ঠিক আগমুহূর্তে সফর বাতিলের বার্তা আসে। ওই সূত্রের দাবি, আমিরাত কর্তৃপক্ষ শেষ মুহূর্তে তাদের অবস্থান পরিবর্তন করে জানায়, মোহাম্মদ বিন জায়েদ ‘দেশে নেই’। তবে পরবর্তী অনুসন্ধানে দেখা যায়, ওই তথ্য সঠিক ছিল না। সে সময় তিনি রাজধানী আবুধাবিতেই অবস্থান করছিলেন বলে জানা যায়।
আমিরাতের সঙ্গে বৈঠক নিশ্চিত করতে নেতানিয়াহুর এমন তৎপরতার পেছনে আরও একটি কারণ রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ৭ অক্টোবরের কয়েক দিন আগে মোহাম্মদ বিন জায়েদ তাকে ফোন করে গাজায় আসন্ন ভয়াবহ পরিস্থিতি সম্পর্কে স্পষ্ট সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন বলে আগেই বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছিল।
মারিভের সঙ্গে আলাপকালে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, মোহাম্মদ বিন জায়েদ কোনোভাবেই নেতানিয়াহুর নির্বাচনি প্রচারণার অংশ হতে চান না। এ ছাড়া দুই নেতার ব্যক্তিগত সম্পর্কও বেশ কিছুদিন ধরে কিছুটা শীতল ছিল বলে ওই সূত্রের দাবি।
তবে বৈঠক নিশ্চিত করতে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে ধারাবাহিকভাবে চাপ অব্যাহত রাখা হয়। শেষ পর্যন্ত সেই প্রচেষ্টার পর রোববার নেতানিয়াহুর আমিরাত সফর অনুষ্ঠিত হয় এবং দুই নেতার মধ্যে বৈঠক হয়।
তবে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের পক্ষ থেকে নেতানিয়াহুর এই সফর বা দুই নেতার বৈঠক নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি।
