সোমবার (৩১ আগস্ট) কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) সম্মেলনের ফাঁকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের শুরুতে এসব কথা বলেন মোদি।
পুতিনকে ‘আমার বন্ধু’ বলে সম্বোধন করে ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিদিন যুদ্ধ চলতে থাকলে মানবতা এক ধাপ পিছিয়ে যায়। অন্যদিকে শান্তির দিকে প্রতিটি পদক্ষেপই পুরো বিশ্বের জন্য নতুন আশার সৃষ্টি করে।
তিনি বলেন, দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ থেকে বের হয়ে শত্রুতা বন্ধ করতে হবে এবং শান্তির পথেই এগিয়ে যেতে হবে। ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে শান্তি প্রতিষ্ঠার যেকোনো প্রচেষ্টাকে ভারত সমর্থন করে এবং ভবিষ্যতেও সেই অবস্থান অব্যাহত থাকবে বলে জানান মোদি।
জবাবে পুতিন মোদির বক্তব্যের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, রাশিয়াও সেই পথেই এগিয়ে যাচ্ছে।
বৈঠকের পর রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাস জানিয়েছে, ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান কতটা এগিয়েছে, সে বিষয়ে মোদিকে অবহিত করেছেন প্রেসিডেন্ট পুতিন।
রাশিয়া ইউক্রেনে নিজেদের সামরিক কর্মকাণ্ডকে ‘বিশেষ সামরিক অভিযান’ হিসেবে উল্লেখ করে। তবে ইউক্রেন ও পশ্চিমা দেশগুলো এই ব্যাখ্যা প্রত্যাখ্যান করে আসছে এবং রাশিয়ার সামরিক অভিযানকে আগ্রাসন হিসেবে বর্ণনা করে।
ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই ভারত ও চীন রাশিয়ার অন্যতম বড় তেল ক্রেতা হিসেবে রয়েছে। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা মস্কোর রাজস্ব আয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
এ অবস্থায় যুদ্ধের অবসানে মোদির নতুন করে শান্তির আহ্বান এবং পুতিনের সঙ্গে সরাসরি আলোচনাকে ভারত-রাশিয়া সম্পর্কের পাশাপাশি ইউক্রেন সংকট ঘিরে দিল্লির কূটনৈতিক অবস্থানের গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
