Amyal TV
মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
১২ কার্তিক ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
১২ কার্তিক ১৪৩৩

প্রসবের ভয়ে হাসপাতাল থেকে পালিয়েছিলেন, ৩৬ বছর পর পেট থেকে মিলল ‘পাথর শিশু’

গর্ভধারণের পর সন্তান জন্ম না নিয়ে মৃত ভ্রূণ বছরের পর বছর মায়ের শরীরে থেকে যাওয়ার ঘটনা চিকিৎসাবিজ্ঞানে অত্যন্ত বিরল। এমন অবস্থাকে বলা হয় ‘লিথোপেডিয়ন’ (Lithopedion), যা পরিচিত ‘পাথর শিশু’ নামে। দীর্ঘদিন শরীরে থাকা মৃত ভ্রূণকে ঘিরে ক্যালসিয়াম জমে ধীরে ধীরে তা শক্ত হয়ে পাথরের মতো রূপ নিতে পারে।

Amyal TV
৩ মিনিট পড়ুন

চিকিৎসাবিজ্ঞানের একটি গবেষণায় ভারতের নাগপুরের ৬০ বছর বয়সী এক নারীর এমনই বিরল ঘটনার কথা উঠে এসেছে। ২০১৪ সালে তলপেটে ব্যথা ও শক্ত একটি পিণ্ড নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি। প্রায় দুই মাস ধরে সমস্যায় ভুগছিলেন ওই নারী। প্রথমে চিকিৎসকেরা পিণ্ডটিকে টিউমার বলে ধারণা করেছিলেন।

পরে তার পুরোনো চিকিৎসা-ইতিহাস পর্যালোচনা করে বেরিয়ে আসে চমকপ্রদ তথ্য। জানা যায়, ১৯৭৮ সালে শেষবার গর্ভবতী হয়েছিলেন তিনি। তখন চিকিৎসকেরা জানিয়েছিলেন, গর্ভের সন্তানটি মারা গেছে এবং অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তা অপসারণের পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু অস্ত্রোপচারের ভয় থাকায় চিকিৎসা না নিয়েই গ্রামে ফিরে যান তিনি।

এরপর প্রায় ৩৬ বছর আর হাসপাতালে যাননি। মাঝেমধ্যে পেটে ব্যথা হলেও স্থানীয় চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ খেয়ে তা নিয়ন্ত্রণ করতেন।

২০১৪ সালে ব্যথার পাশাপাশি তলপেটে শক্ত পিণ্ড অনুভূত হলে হাসপাতালে যান ওই নারী। পরীক্ষা-নিরীক্ষায় জরায়ুর পেছনে প্রায় ১১ × ৮ × ৮ সেন্টিমিটার আকারের একটি শক্ত পিণ্ড পাওয়া যায়। এর ভেতরে হাড়ের মতো কাঠামো দেখে চিকিৎসকদের সন্দেহ হয়, এটি বহু বছর আগে মারা যাওয়া ভ্রূণের অবশিষ্টাংশ হতে পারে।

পিণ্ডটির চাপে দুই পাশের মূত্রনালিতেও সমস্যা তৈরি হয়েছিল। ফলে কিডনিতে প্রস্রাব জমে যাওয়ার লক্ষণ দেখা দেয়। পরে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে পিণ্ডটি অপসারণ করা হয়। চিকিৎসকেরা দেখতে পান, শক্ত একটি আবরণের ভেতরে ভ্রূণের হাড় রয়েছে। পরীক্ষাগারে বিশ্লেষণের পর নিশ্চিত হওয়া যায়, এটি একটি লিথোপেডিয়ন।

কীভাবে তৈরি হয় ‘পাথর শিশু’?

লিথোপেডিয়ন সাধারণত জরায়ুর বাইরে গর্ভধারণের একটি অত্যন্ত বিরল পরিণতি। পেটের ভেতরে ভ্রূণ অবস্থান করার পর সেটি মারা গেলে এবং মায়ের শরীর তা শোষণ করতে না পারলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

মৃত ভ্রূণটি শরীরের পক্ষে শোষণ করা কঠিন হলে সংক্রমণ বা অন্যান্য ক্ষতি ঠেকাতে শরীর সেটিকে একটি আবরণের মধ্যে আটকে রাখতে পারে। সময়ের সঙ্গে ওই আবরণে ক্যালসিয়াম জমতে থাকে। একপর্যায়ে ভ্রূণটি শক্ত হয়ে পাথরের মতো রূপ নেয়।

চিকিৎসাবিজ্ঞানে এমন ঘটনা অত্যন্ত বিরল। বিশ্বজুড়ে কয়েকশ লিথোপেডিয়ন শনাক্ত হওয়ার কথা বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কখনো পুরো ভ্রূণ ক্যালসিয়ামের স্তরে আবৃত হয়ে যায়, আবার কখনো নরম টিস্যু নষ্ট হয়ে শুধু হাড় বা কঙ্কালের অংশ থেকে যায়।

কয়েক দশক পরেও শনাক্ত হতে পারে

লিথোপেডিয়নের আরেকটি বিস্ময়কর দিক হলো, এটি বহু বছর এমনকি কয়েক দশক পর্যন্ত শরীরে থাকতে পারে। অনেকের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন কোনো স্পষ্ট উপসর্গও দেখা যায় না। পরে পেটে ব্যথা, শক্ত পিণ্ড কিংবা অন্য কোনো শারীরিক সমস্যার কারণে পরীক্ষা করতে গিয়ে এটি শনাক্ত হয়।

মরক্কোর জাহরা আবুতালিবের ঘটনাও এ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য। ১৯৫৫ সালে সন্তান প্রসবের সময় জটিলতার পর তিনি হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরে যান। পরে দীর্ঘ সময় পর, ৭৫ বছর বয়সে তীব্র পেটব্যথা নিয়ে চিকিৎসকের কাছে গেলে তার শরীরে বহু বছর ধরে থাকা মৃত ভ্রূণের সন্ধান পাওয়া যায়। পরে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সেটি অপসারণ করা হয়।

বিরল হলেও তৈরি হতে পারে জটিলতা

পেটের ভেতরে দীর্ঘদিন ধরে থাকা কোনো শক্ত পিণ্ডকে সবসময় টিউমার হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। রোগীর আগের গর্ভধারণের ইতিহাস, শারীরিক পরীক্ষা এবং বিভিন্ন চিত্রায়ন পরীক্ষার মাধ্যমে এর প্রকৃত কারণ শনাক্ত করা সম্ভব।

অনেক ক্ষেত্রে লিথোপেডিয়ন কোনো উপসর্গ ছাড়াই শরীরে থাকতে পারে। তবে এটি আশপাশের অঙ্গের ওপর চাপ সৃষ্টি করলে পেটে ব্যথা, মূত্রনালিতে বাধা কিংবা কিডনিতে প্রস্রাব জমে যাওয়ার মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে।

চিকিৎসাবিজ্ঞানে ‘পাথর শিশু’ নামে পরিচিত এই ঘটনা মানবদেহের একটি অত্যন্ত বিরল ও বিস্ময়কর প্রক্রিয়ার উদাহরণ। একই সঙ্গে এটি জরায়ুর বাইরে গর্ভধারণের সম্ভাব্য জটিলতা এবং দীর্ঘদিন চিকিৎসার বাইরে থাকার ঝুঁকির বিষয়টিও সামনে আনে।

চট্টগ্রাম বিভাগে তিন দিনের সফরে যাচ্ছেন পেশাজীবী দলের মুখপাত্র- নাফিজ মাহবুব

সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার, তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় ও পেশাজীবীদের সম্পৃক্ততা...

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরতে পরতে হাসনাত-সারজিসের গাদ্দারি খুঁজে পাওয়া যাবে: রাশেদ খাঁন

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিভিন্ন পর্যায়ে হাসনাত আবদুল্লাহ ও সারজিস আলমের ‘গাদ্দারি’...