Amyal TV
মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
১২ কার্তিক ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
১২ কার্তিক ১৪৩৩

এআইয়ের উত্থানে বিশ্বে বিলিয়নিয়ারদের সংখ্যা রেকর্ড ৩,৭৯৫ জন

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের দ্রুত উত্থানের প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও সম্পদ সৃষ্টির ওপর। প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ ও শেয়ারের মূল্যবৃদ্ধির ফলে বিশ্বজুড়ে শতকোটিপতির সংখ্যা ও তাঁদের সম্মিলিত সম্পদ দুটোই রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। ২০২৫ সালে বিশ্বের শতকোটিপতির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৭৯৫ জনে। সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে সম্পদবিষয়ক তথ্য ও বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান আলট্রাটা।

Amyal TV
৪ মিনিট পড়ুন

আলট্রাটার হিসাব অনুযায়ী, এক বছরের ব্যবধানে বিশ্বে শতকোটিপতির সংখ্যা বেড়েছে ৮ দশমিক ২ শতাংশ, যা গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি। একই সময়ে বিশ্বের শতকোটিপতিদের সম্মিলিত সম্পদের পরিমাণও বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। ১২ দশমিক ৮ শতাংশ বৃদ্ধির পর তাঁদের মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে রেকর্ড ১৫ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন ডলারে, যা বাংলাদেশি হিসাবে প্রায় ১৫ লাখ ১০ হাজার কোটি ডলারের সমপরিমাণ। খবর সিএনবিসির।

আলট্রাটা জানিয়েছে, বিশ্বের শতকোটিপতিদের সম্পদ বৃদ্ধির পেছনে যেসব কোম্পানির ভূমিকা সবচেয়ে বেশি, সেসবের মধ্যে ১৫০টি তালিকাভুক্ত কোম্পানিকে বিশেষভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। গত পাঁচ বছরে যেসব কোম্পানি এআই খাতে অন্তত ৩ কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে, ২০২৪ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে তাদের বাজার মূলধন বৃদ্ধির হার ছিল তুলনামূলকভাবে বেশি। এআই খাতে বিনিয়োগ না করা কোম্পানিগুলোর তুলনায় এসব প্রতিষ্ঠানের বাজার মূলধন প্রায় ২৩ শতাংশ বেশি বেড়েছে।

এআইয়ের প্রসারের সঙ্গে প্রযুক্তি খাতের শেয়ারবাজারে ব্যাপক উত্থানও বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের সম্পদ বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রেখেছে। ফোর্বস ম্যাগাজিন সেপ্টেম্বর মাসে প্রকাশিত বিশ্বের শীর্ষ ১০ ধনীর তালিকায় দেখা গেছে, তাঁদের মধ্যে নয়জনই প্রযুক্তি খাতের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। তাঁদের অর্ধেকের সম্পদের পরিমাণ ২০০ বিলিয়ন ডলার বা ২০ হাজার কোটি ডলারেরও বেশি।

আলট্রাটার থট লিডারশিপ ও অ্যানালিটিকস বিভাগের প্রধান মায়া ইমবার্গের মতে, ওয়াল স্ট্রিটে এআই নিয়ে ব্যাপক উচ্ছ্বাসের কারণে বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের মধ্যে সম্পদের বৈষম্যও বাড়ছে। প্রযুক্তি কোম্পানির শেয়ারের মূল্য দ্রুত বাড়ায় এসব প্রতিষ্ঠানের মালিক ও বিনিয়োগকারীদের সম্পদের পরিমাণও অস্বাভাবিক গতিতে বেড়েছে।

ইমবার্গের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রযুক্তি কোম্পানির শেয়ারের মূল্যবৃদ্ধির কারণে বিশ্বজুড়ে সম্পদ বৃদ্ধির হার এখন ঐতিহাসিক পর্যায়ে পৌঁছেছে। তবে এআই–সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দাম দ্রুত বাড়ার পাশাপাশি হঠাৎ কমেও যেতে পারে। ফলে এই সম্পদ বৃদ্ধির সঙ্গে এক ধরনের অস্থিরতাও জড়িয়ে রয়েছে।

ই-মেইলে দেওয়া এক বক্তব্যে ইমবার্গ বলেন, এআইয়ের অগ্রগতির কারণে প্রযুক্তিনির্ভর কোম্পানির মালিকদের সম্পদের পরিমাণে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। অর্থাৎ এআইকেন্দ্রিক ব্যবসা ও কোম্পানির মূল্যায়ন যত দ্রুত বাড়ছে, তত দ্রুতই এসব কোম্পানির সঙ্গে যুক্ত বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের সম্পদের পরিমাণও কমবেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

চলতি বছর মার্কিন শেয়ারবাজারেও বড় ধরনের ওঠানামা দেখা গেছে। এর মধ্যে জুলাই মাসে বড় কয়েকটি চিপ কোম্পানির শেয়ারে ব্যাপক দরপতনের কারণে বাজারমূলন থেকে প্রায় ১ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ডলার বা ১ লাখ ৩০ হাজার কোটি ডলার কমে যায়। বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের জন্য এর অর্থ হলো—তাঁদের কাগুজে সম্পদের মূল্য খুব অল্প সময়ের মধ্যেই বিপুল পরিমাণে বাড়তে বা কমতে পারে।

ফোর্বসের হিসাবেও এমন অস্থিরতার চিত্র উঠে এসেছে। এক দিনেই বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্কের সম্পদমূল্য ১ হাজার ৮০০ কোটি ডলার কমে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। একইভাবে মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে ল্যারি এলিসনের সম্পদ কমেছে প্রায় ৫ হাজার কোটি ডলার।

তবে মায়া ইমবার্গ মনে করেন, বাজারের কোনো একটি খাত বা কয়েকটি কোম্পানিতে অতিরিক্ত আগ্রহ তৈরি হলেই সেখানে নিশ্চিতভাবে বুদ্‌বুদ সৃষ্টি হবে—এমনটা বলা যায় না। কিন্তু বিনিয়োগ যখন একটি নির্দিষ্ট খাতের দিকে অতিরিক্তভাবে কেন্দ্রীভূত হয়ে পড়ে, বিশেষ করে প্রযুক্তি খাতের এআইকেন্দ্রিক কোম্পানিগুলোতে যখন বড় অঙ্কের অর্থ প্রবাহিত হয়, তখন ঝুঁকি তৈরি হওয়াটা স্বাভাবিক।

আলট্রাটার আঞ্চলিক হিসাবেও বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে শতকোটিপতির সংখ্যা বৃদ্ধির চিত্র উঠে এসেছে। ২০২৫ সালে উত্তর আমেরিকায় শতকোটিপতির সংখ্যা ১১ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৩৩৭ জনে দাঁড়িয়েছে। বিশ্বের অন্য যেকোনো অঞ্চলের তুলনায় এই বৃদ্ধির হার সবচেয়ে বেশি। ইমবার্গের মতে, উত্তর আমেরিকার মধ্যে বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বর্তমানে এআই খাতের ব্যাপক প্রভাব দেখা যাচ্ছে।

অন্যদিকে, ইউরোপেও শতকোটিপতির সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। গত বছর এই অঞ্চলে শতকোটিপতির সংখ্যা ৭ দশমিক ৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১ হাজার ৮১ জনে দাঁড়িয়েছে। এশিয়ায় ৬ দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধির পর শতকোটিপতির সংখ্যা হয়েছে ৮৮১ জন।

আলট্রাটার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এআই নিয়ে বিশ্বজুড়ে তৈরি হওয়া ব্যাপক উচ্ছ্বাস শতকোটিপতিদের সম্পদ বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তবে শুধু এআই বা প্রযুক্তি খাতের উত্থানই নয়, ২০২৫ সাল সামগ্রিকভাবেও সম্পদশ্রেণিগুলোর জন্য অস্বাভাবিকভাবে লাভজনক একটি বছর ছিল।

প্রতিষ্ঠানটি যেসব সম্পদশ্রেণির হিসাব রাখে, ২০২৫ সালে সেগুলোর প্রতিটিতেই ইতিবাচক ফল দেখা গেছে। করোনা মহামারির পর প্রথমবারের মতো এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে আলট্রাটা। অর্থাৎ বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নানা ধরনের অনিশ্চয়তা ও অস্থিরতা থাকলেও বিভিন্ন ধরনের সম্পদের মূল্য বৃদ্ধির প্রবণতা অব্যাহত ছিল।

এমনকি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাণিজ্যযুদ্ধ ঘিরে বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতা তৈরি হলেও এআই ও প্রযুক্তি খাতের সঙ্গে যুক্ত ধনীদের সম্পদে বড় ধরনের প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। প্রযুক্তি কোম্পানির শেয়ারমূল্য বৃদ্ধি, এআই নিয়ে বিনিয়োগকারীদের ব্যাপক আগ্রহ এবং নতুন প্রযুক্তিকে ঘিরে ব্যবসায়িক সম্ভাবনা—সব মিলিয়ে বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের সম্পদ সৃষ্টির গতি আরও ত্বরান্বিত হয়েছে।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এআইয়ের কারণে সম্পদ সৃষ্টির এই গতি যেমন নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনার দুয়ার খুলছে, তেমনি বিনিয়োগের অতিরিক্ত কেন্দ্রীভবন ও শেয়ারবাজারের অস্থিরতা ভবিষ্যতে বড় ধরনের ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে। ফলে এআইনির্ভর অর্থনীতির দ্রুত বিস্তারের পাশাপাশি এর সম্ভাব্য ঝুঁকি ও বৈষম্যের দিকটিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

চট্টগ্রাম বিভাগে তিন দিনের সফরে যাচ্ছেন পেশাজীবী দলের মুখপাত্র- নাফিজ মাহবুব

সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার, তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় ও পেশাজীবীদের সম্পৃক্ততা...

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরতে পরতে হাসনাত-সারজিসের গাদ্দারি খুঁজে পাওয়া যাবে: রাশেদ খাঁন

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিভিন্ন পর্যায়ে হাসনাত আবদুল্লাহ ও সারজিস আলমের ‘গাদ্দারি’...