Amyal TV
মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
১২ কার্তিক ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
১২ কার্তিক ১৪৩৩

শি জিনপিংয়ের অসুস্থতা নিয়ে রহস্য

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন দাবি জোরালোভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। দাবি করা হচ্ছে, নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনের সময় তিনি হঠাৎ জ্ঞান হারান। পরে স্ট্রোকে আক্রান্ত হলে জরুরি চিকিৎসার জন্য বিশেষ বিমানে করে তাকে বেইজিংয়ে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।

Amyal TV
৪ মিনিট পড়ুন

তবে এসব দাবির পক্ষে এখনো কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ বা সরকারি নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ভারতের সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীন বা ভারত—কোনো দেশের সরকারই শি জিনপিংয়ের অসুস্থতা, স্ট্রোক বা হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেনি। চীনা বিরোধী নেতা ওয়ানজুন শিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এসব দাবি করেন। পরে তার পোস্টে একটি কমিউনিটি নোট যুক্ত করা হয়, যেখানে পোস্টে দেওয়া তথ্য বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

গত ১২ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেন শি জিনপিং। প্রায় সাত বছর পর এটি ছিল তার প্রথম ভারত সফর। সম্মেলনের ফাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকও করেন তিনি। বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্ক, সীমান্ত পরিস্থিতি এবং বাণিজ্যসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। চীনের সরকারি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই নেতা চীন-ভারত সম্পর্ককে অংশীদারিত্বের দিকে এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে মতবিনিময় করেন।

ব্রিকস সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে শি জিনপিং পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংঘাত নিয়েও কথা বলেন। তিনি সংঘাত নিরসনে ব্রিকস দেশগুলোকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান এবং বলেন, চলমান যুদ্ধ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের স্বার্থের পরিপন্থী। একই সঙ্গে ব্রিকসের পরবর্তী সভাপতির দায়িত্ব চীন নেবে এবং পরবর্তী সম্মেলন চীনে অনুষ্ঠিত হবে বলেও জানানো হয়েছে।

সম্মেলনের পর নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন শি। তবে সেদিন রাতে মোদির দেওয়া নৈশভোজে তিনি অংশ নেননি। ভারত মণ্ডপমে আয়োজিত ওই নৈশভোজে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনসহ বেশ কয়েকজন নেতা উপস্থিত ছিলেন। শির পরিবর্তে চীনের প্রতিনিধিত্ব করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। কেন শি নৈশভোজে অংশ নেননি, সে বিষয়ে কোনো দেশের পক্ষ থেকেই আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। কিছু প্রতিবেদনে অবশ্য বলা হয়েছে, দীর্ঘ দিনের কর্মসূচির পর তিনি হোটেলে বিশ্রাম নিতে গিয়েছিলেন।

এর আগে ব্রিকস সম্মেলনে নরেন্দ্র মোদির বক্তব্য চলাকালে শি জিনপিংকে নিয়ে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, মোদি চীনা প্রতিনিধিদলের দিকে তাকিয়ে শির সঙ্গে থাকা অনুবাদকের মাধ্যমে জানতে চান, তিনি ঠিক আছেন কি না। শি জিনপিংকেও কিছু বলতে দেখা যায়। এরপর মোদি তার বক্তব্য চালিয়ে যান। এই ঘটনা এবং পরবর্তী নৈশভোজে শির অনুপস্থিতিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার স্বাস্থ্য নিয়ে নানা ধরনের আলোচনা শুরু হয়।

এরই মধ্যে চায়না ডেমোক্রেসি পার্টির চেয়ারম্যান ওয়ানজুন শিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেন, ব্রিকস সম্মেলন চলাকালে শি জিনপিং হঠাৎ জ্ঞান হারান। তার সঙ্গে থাকা চিকিৎসকেরা তখন জরুরি চিকিৎসা দেন বলেও দাবি করেন তিনি। পরে বিশেষ বিমানে করে শিকে বেইজিংয়ে ফিরিয়ে নেওয়া হয় এবং সেখানে সামরিক হেলিকপ্টারে করে তাকে পিপলস লিবারেশন আর্মির জেনারেল হাসপাতাল, যা ৩০১ হাসপাতাল নামে পরিচিত, সেখানে নেওয়া হয় বলে দাবি করেন ওয়ানজুন শিয়ে।

ওয়ানজুন শিয়ের আরও দাবি, হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর শির গুরুতর স্ট্রোক ধরা পড়ে এবং তার অস্ত্রোপচার করা হয়। তাকে নিবিড় পরিচর্যায় রাখা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। এমনকি নয়াদিল্লি থেকে বেইজিংয়ের দীর্ঘ যাত্রার কারণে চিকিৎসা পেতে দেরি হয়েছে বলেও তার পোস্টে উল্লেখ করা হয়। তবে এসব দাবির কোনোটিই এখন পর্যন্ত স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং চীন বা ভারতের কোনো সরকারি সূত্রও এসব তথ্য নিশ্চিত করেনি।

বরং এর বিপরীতে চীনের সরকারি সূত্র জানিয়েছে, ব্রিকস সম্মেলন শেষে শি জিনপিং ১৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় বেইজিংয়ে ফিরে যান। তার সঙ্গে একই বিমানে ছিলেন চীনা কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির রাজনৈতিক ব্যুরোর স্থায়ী কমিটির সদস্য কাই ছি এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইসহ অন্য কর্মকর্তারা। সরকারি প্রতিবেদনে শির অসুস্থতা, স্ট্রোক, অস্ত্রোপচার বা হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার কোনো তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত তথ্যেও বলা হয়েছে, শি জিনপিং ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লি থেকে বেইজিংয়ে ফিরে যান। সেখানে তার ব্রিকস সম্মেলনে অংশগ্রহণকে সফলভাবে শেষ করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

এখন পর্যন্ত চীন বা ভারতের কোনো সরকারি সূত্রই এমন কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি যে শি জিনপিং ব্রিকস সম্মেলনে জ্ঞান হারিয়েছিলেন, স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছেন, তার অস্ত্রোপচার হয়েছে অথবা তাকে ৩০১ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এসব তথ্যকে বর্তমানে নিশ্চিত ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করার সুযোগ নেই।

দাবিগুলোর মূল উৎস ওয়ানজুন শিয়ে চায়না ডেমোক্রেসি পার্টির চেয়ারম্যান। ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে তাকে চীনের গণতন্ত্রপন্থী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত একজন বিরোধী নেতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। চায়না ডেমোক্রেসি পার্টি চীনে নিষিদ্ধ একটি রাজনৈতিক সংগঠন। ১৯৯৮ সালে দলটি প্রতিষ্ঠার পরপরই চীনা কর্তৃপক্ষ সেটিকে নিষিদ্ধ করে এবং কয়েকজন নেতাকে গ্রেপ্তার ও কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পরবর্তীতে দলটির কার্যক্রম মূলত চীনের বাইরে থেকে পরিচালিত হতে থাকে। যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশে সংগঠনটির শাখা ও কার্যক্রম রয়েছে।

চায়না ডেমোক্রেসি পার্টি বহুদলীয় গণতন্ত্র, সরাসরি নির্বাচন, ক্ষমতার পৃথকীকরণ, মতপ্রকাশ ও সংগঠনের স্বাধীনতা এবং আইনের শাসনের পক্ষে অবস্থান নেয়। দলটির ঘোষিত নীতির মধ্যে গণতন্ত্র, স্বাধীনতা, আইনের শাসন ও মানবাধিকারের বিষয়গুলো রয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের মানবাধিকার প্রতিবেদন এবং হিউম্যান রাইটস ওয়াচের বিভিন্ন প্রতিবেদনে চীনা কর্তৃপক্ষের হাতে দলটির সদস্য ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নজরদারি, আটক ও কারাবন্দির ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।

সব মিলিয়ে, শি জিনপিংয়ের অসুস্থতা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা হলেও এখন পর্যন্ত দাবিটির পক্ষে নির্ভরযোগ্য স্বাধীন প্রমাণ বা কোনো সরকারি নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে চীনের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ব্রিকস সম্মেলন শেষে শি জিনপিং বেইজিংয়ে ফিরে গেছেন। তাই তার স্ট্রোক, অস্ত্রোপচার বা হাসপাতালে ভর্তির বিষয়টি আপাতত অযাচাইকৃত দাবি হিসেবেই রয়েছে।

চট্টগ্রাম বিভাগে তিন দিনের সফরে যাচ্ছেন পেশাজীবী দলের মুখপাত্র- নাফিজ মাহবুব

সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার, তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় ও পেশাজীবীদের সম্পৃক্ততা...

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরতে পরতে হাসনাত-সারজিসের গাদ্দারি খুঁজে পাওয়া যাবে: রাশেদ খাঁন

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিভিন্ন পর্যায়ে হাসনাত আবদুল্লাহ ও সারজিস আলমের ‘গাদ্দারি’...