Amyal TV
মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
১২ কার্তিক ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
১২ কার্তিক ১৪৩৩

ইসরায়েলকে ৫৪ হাজার টন মারণাস্ত্র দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, ক্ষুব্ধ মার্কিন রাজনীতিবিদেরা

ইসরায়েলের কাছে অত্যন্ত বিধ্বংসী এবং প্রতিটি ২ হাজার পাউন্ড (প্রায় ৯০৭ কেজি) ওজনের মোট ৬০ হাজার শক্তিশালী বোমা বিক্রির চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন। কয়েক শ কোটি ডলারের এই চুক্তির সিংহভাগ ব্যয় মেটানো হবে মার্কিন করদাতাদের অর্থে। এরই মধ্যে মার্কিন কংগ্রেসকে অনানুষ্ঠানিকভাবে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।

Amyal TV
৪ মিনিট পড়ুন

ইতিহাসে এর আগে একসঙ্গে এত বিপুল পরিমাণ সমরাস্ত্র ইসরায়েলে পাঠানোর নজির নেই বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে মার্কিন গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। গাজায় প্রায় তিন বছর ধরে চলা রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ, অধিকৃত পশ্চিম তীরে অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা এবং দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্য যখন চরম মানবিক সংকটের মুখোমুখি, ঠিক সেই সময়ে এই বিশাল অস্ত্র চুক্তির খবর সামনে এসেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে মার্কিন গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, প্রস্তাবিত চুক্তির আর্থিক মূল্য প্রায় ২৮০ কোটি মার্কিন ডলার। এই ব্যয়ের বড় একটি অংশ যুক্তরাষ্ট্রের ‘ফরেন মিলিটারি ফাইন্যান্সিং’ বা এফএমএফ কর্মসূচির আওতায় মেটানো হবে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে মার্কিন সরকার নিজস্ব তহবিল থেকে ইসরায়েলকে অস্ত্র কেনার জন্য অর্থ সহায়তা দিয়ে থাকে।

সম্ভাব্য এই চুক্তির আওতায় মূলত তিন ধরনের ভারী বোমা সরবরাহের কথা রয়েছে। এগুলো হলো—

এমকে-৮৪ (MK-84): প্রায় ২ হাজার পাউন্ড ওজনের এই জেনারেল পারপাস বোমা বড় আকারের বহুতল ভবন ধ্বংস করতে সক্ষম। বিস্ফোরণের ফলে আশপাশের কয়েক শ মিটার এলাকার কাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত বা ধসে পড়তে পারে।

বিএলইউ-১১৭ (BLU-117): এমকে-৮৪-এর সমওজনের এই বোমায় উন্নত রাসায়নিক বিস্ফোরক ও সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যভেদী বা প্রিসিশন-গাইডেড প্রযুক্তি ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। বোমাটিতে বিশেষ ধরনের তাপপ্রতিরোধী আবরণও রয়েছে।

আই-২০০০ পেনিট্রেটর বা বাংকার বাস্টার: প্রায় ২ হাজার পাউন্ড ওজনের এই শক্তিশালী বোমা মাটির নিচে থাকা স্থাপনা কিংবা কয়েক ফুট পুরু কংক্রিটের কাঠামো ভেদ করে বিস্ফোরণ ঘটাতে সক্ষম। এর ধাতব বহিরাবরণ সাধারণ বোমার তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী।

এর আগে বেসামরিক প্রাণহানির আশঙ্কা ও অভিযোগের প্রেক্ষাপটে ২০২৪ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন ২ হাজার পাউন্ড ওজনের বোমার একটি চালান সাময়িকভাবে স্থগিত করেছিল। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় ফিরে সেই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেন। এরপর কংগ্রেসের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন ছাড়াই দফায় দফায় শত শত কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রির ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের হিসাবে, ২ হাজার পাউন্ড ওজনের ৬০ হাজার বোমার সম্মিলিত ওজন প্রায় ৫৪ হাজার ৪০০ টন। এই বিপুল ওজনের ধ্বংসক্ষমতা বোঝাতে বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থাপনা ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার বোমা হামলার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই চালানের মোট ওজন প্যারিসের আইফেল টাওয়ারের মূল কাঠামোর তুলনায় প্রায় সাত গুণ এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পুরো সময়ে জার্মানির বার্লিনে ফেলা বোমার মোট ওজনের কাছাকাছি।

১৯৪৫ সালে জাপানের টোকিওতে এক রাতের বিমান হামলায় প্রায় ৮০ হাজার মানুষ নিহত হয়েছিল। ওই হামলায় প্রায় ১ হাজার ৬০০ টন বোমা ব্যবহৃত হয়েছিল বলে বিভিন্ন গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। সেই তুলনায় প্রস্তাবিত বোমার চালানের ওজন প্রায় ৩৫ গুণ বেশি।

গবেষণায় বলা হয়েছে, ২ হাজার পাউন্ড ওজনের একটি বোমা বিস্ফোরণের ফলে যেখানে আঘাত হানে সেখানে প্রায় ৫০ ফুট চওড়া এবং ১৬ ফুট গভীর গর্ত তৈরি হতে পারে। আল-জাজিরার একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, গাজায় এ ধরনের উচ্চতাপযুক্ত বা থার্মোবারিক বোমার বিস্ফোরণে তাপমাত্রা ৩ হাজার ৫০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। ওই প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, এমন বিস্ফোরণের কারণে অন্তত ২ হাজার ৮৪২ জন ফিলিস্তিনির মরদেহ সম্পূর্ণভাবে বাষ্পীভূত হয়ে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে।

এদিকে পেন্টাগনের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে জানা গেছে, ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তা এবং চলমান মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব গোলাবারুদের মজুতেও চাপ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ‘প্যাট্রিয়ট’ ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতির বিষয়টি উঠে এসেছে প্রতিবেদনে। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর নিজস্ব ট্রুথ সোশ্যালে দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে ইতিহাসের সেরা প্রযুক্তি ও অস্ত্র তৈরি করছে।

অন্যদিকে মার্কিন করদাতাদের অর্থে ইসরায়েলকে এই বিপুল পরিমাণ অস্ত্র দেওয়ার সম্ভাব্য সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটনে সমালোচনা ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস ভ্যান হোলেন চুক্তিটি ঠেকাতে উদ্যোগ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেন, যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত একটি সরকারের হাতে মার্কিন নাগরিকদের অর্থ তুলে দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়।

এ ছাড়া রক্ষণশীল বিশ্লেষক টাকার কার্লসন এবং সাবেক রিপাবলিকান প্রতিনিধি মার্জোরি টেলর গ্রিনও প্রস্তাবিত অস্ত্র চুক্তির সমালোচনা করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, সাধারণ মার্কিন নাগরিকরা এই ধরনের প্রাণঘাতী সামরিক কর্মকাণ্ডের জন্য অর্থ দিতে চান না।

চট্টগ্রাম বিভাগে তিন দিনের সফরে যাচ্ছেন পেশাজীবী দলের মুখপাত্র- নাফিজ মাহবুব

সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার, তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় ও পেশাজীবীদের সম্পৃক্ততা...

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরতে পরতে হাসনাত-সারজিসের গাদ্দারি খুঁজে পাওয়া যাবে: রাশেদ খাঁন

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিভিন্ন পর্যায়ে হাসনাত আবদুল্লাহ ও সারজিস আলমের ‘গাদ্দারি’...