হোয়াইট হাউসের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট এবং ইউটিউব চ্যানেলে সম্প্রচারিত হচ্ছে নতুন এই স্ট্রিমিং সেবা। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এর মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত, বিভিন্ন কার্যক্রম ও কৃতিত্ব এক জায়গা থেকে দেখার সুযোগ থাকবে। পাশাপাশি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য এবং প্রশাসনের প্রধান খবরগুলো সার্বক্ষণিক সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।
নতুন এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে হোয়াইট হাউস নিজেদের কার্যক্রম ও প্রেসিডেন্টের বক্তব্য সরাসরি জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। এতে প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা, বক্তব্য এবং দিনের উল্লেখযোগ্য বিভিন্ন ঘটনা তুলে ধরার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
এদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপ করা নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে সিএনএন, এমএস নাউ এবং পলিটিকো সম্মিলিতভাবে ওয়াশিংটনের একটি আদালতে মামলা দায়ের করেছে। সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, তাদের সংবাদ পরিবেশন ট্রাম্পের পছন্দ না হওয়ায় এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। তাদের অভিযোগ, এ ধরনের বিধিনিষেধ যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম ও পঞ্চম সংশোধনীর সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
তবে ট্রাম্প তাঁর ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এই সিদ্ধান্তের পক্ষে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন। সেখানে তিনি ভুয়া খবরকে গণতন্ত্রের জন্য হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেন। পাশাপাশি নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রের ভিত্তিতে প্রতিবেদন তৈরি করা সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসে প্রবেশাধিকার দেওয়ার বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
ট্রাম্পের প্রশাসনের সঙ্গে সংবাদমাধ্যমগুলোর বিরোধের মধ্যেই অন্যান্য শীর্ষ মিডিয়া নেটওয়ার্কও সিএনএনের পাশে অবস্থান নিয়েছে। তারা বিকল্প কোনো প্রতিনিধি দল পাঠাতে অস্বীকৃতি জানায়। এবিসি, সিবিএস, সিএনএন, ফক্স নিউজ এবং এনবিসি এক যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছে, কোনো সংবাদমাধ্যম সরকারের রিপোর্টিং পছন্দ না করার কারণে তাকে বিধিনিষেধের আওতায় আনা উচিত নয়।
নেটওয়ার্কগুলো সোমবার হোয়াইট হাউসের নতুন হেলিপ্যাড প্রদর্শনী অনুষ্ঠানটিও সরাসরি সম্প্রচার করেনি। তাদের পক্ষ থেকে বলা হয়, হেলিকপ্টারের বিকট শব্দের কারণে অনুষ্ঠানে ট্রাম্পের বক্তব্য স্পষ্টভাবে শোনা যাচ্ছিল না। এছাড়া নিউইয়র্কের উদ্দেশে মেরিন ওয়ানে ওঠার আগে উপস্থিত সাংবাদিকদের করা কোনো প্রশ্নেরও উত্তর দিতে অস্বীকৃতি জানান ট্রাম্প।
এভাবে হোয়াইট হাউস ও যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যমের মধ্যে চলমান বিরোধের মধ্যেই ‘ট্রাম্প টিভি’ নামে নতুন এই ২৪ ঘণ্টার স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম চালু করা হলো। প্ল্যাটফর্মটির মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসনের বক্তব্য, কার্যক্রম ও গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলো সরাসরি দর্শকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সূত্র: টাইমস নাও
