ভাষণে মিলেই বলেন, বিশ্বজুড়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং মানুষের অধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে জাতিসংঘ পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। তার দাবি, সংস্থাটি যথাযথ ভূমিকা পালন করতে না পারায় আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ, সহিংসতা ও বিভিন্ন ধরনের বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
জাতিসংঘের কার্যক্রমের পাশাপাশি সংস্থাটির অভ্যন্তরীণ আমলাতান্ত্রিক কাঠামো নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট।
মিলেই বলেন, ‘তথাকথিত নীতিবান মানুষের রূপ ধরে একদল লোক নিজেদের স্বার্থে এই সংস্থাকে ব্যবহার করছে। তাদের কারণে সাধারণ মানুষের কোনো উপকার হচ্ছে না, কিন্তু সংস্থাটি টিকে আছে কেবল তাদের সুবিধার জন্য।’
তার বক্তব্যে জাতিসংঘের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে সংস্থাটির ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা উঠে আসে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক আইন ও নিয়ম বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে জাতিসংঘ সব দেশের প্রতি সমানভাবে দায়িত্ব পালন করছে কি না, সে বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
এ ছাড়া ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ, যা আর্জেন্টিনায় ‘লাস মালভিনাস’ নামে পরিচিত, সেই ইস্যুতেও জাতিসংঘের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন হাভিয়ের মিলেই।
যুক্তরাজ্যের সঙ্গে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে আর্জেন্টিনার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিরোধের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, এই ইস্যুতে জাতিসংঘের ভূমিকা যথেষ্ট কার্যকর নয়। একই সঙ্গে ওই সমুদ্র এলাকায় তেল উত্তোলনকে কেন্দ্র করে চলমান উত্তেজনার বিষয়টিও তার বক্তব্যে উঠে আসে।
মিলেই বলেন, ‘বড় বড় দেশগুলো আন্তর্জাতিক নিয়ম ভাঙলেও জাতিসংঘ তাদের দিকে নজর দিচ্ছে না। ফলে যারা নিয়ম মানছে তারা সুবিচার পাচ্ছে না, আর যারা নিয়ম ভাঙছে তাদেরও কোনো জবাবদিহিতা করতে হচ্ছে না।’
আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্টের বক্তব্যে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা, মানবাধিকার, সন্ত্রাসবাদ এবং আন্তর্জাতিক আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে জাতিসংঘের ভূমিকা নিয়ে একাধিক সমালোচনা উঠে আসে। একই সঙ্গে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ ইস্যুতে সংস্থাটির অবস্থান নিয়েও নিজের অসন্তোষ স্পষ্ট করেন তিনি।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে হাভিয়ের মিলেইয়ের এসব মন্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সংস্থাটির কার্যকারিতা ও ভূমিকা নিয়ে চলমান বিতর্ককে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।
সূত্র: আল জাজিরা
