গত বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তিন দিনের যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে শি জিনপিং দেশে ফিরে যাওয়ার পর রোববার ডেভিড পারডিউ জানান, বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র বিক্রির প্রসঙ্গ তুলে ধরে ট্রাম্প চীনের প্রেসিডেন্টকেও মার্কিন অস্ত্র কেনার বিষয়ে প্রশ্ন করেছিলেন। তবে শি জিনপিং ওই প্রস্তাব বা প্রশ্নের জবাবে কী বলেছিলেন, তা জানাননি পারডিউ।
পারডিউয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, তাইওয়ানের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র বিক্রির বিষয়ে আলোচনা চলাকালে ট্রাম্প শি জিনপিংকে একপর্যায়ে জিজ্ঞাসা করেন, চীন যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে অস্ত্র কিনতে চায় কি না। তবে তিনি কখন বা কোন প্রেক্ষাপটে এ কথা বলেছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি মার্কিন রাষ্ট্রদূত।
এদিকে, মার্কিন রাষ্ট্রদূতের এই বক্তব্যের পর যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তা বিষয়টি পরিষ্কার করে জানিয়েছেন, চীনের কাছে অস্ত্র বিক্রির কোনো প্রস্তাব বা পরিকল্পনা নেই। ওই কর্মকর্তা সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টকে বলেন, মার্কিন আইন অনুযায়ী চীনের কাছে অস্ত্র বিক্রি নিষিদ্ধ।
এই সফরের পর চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন পারডিউয়ের বক্তব্য সরাসরি নিশ্চিত করেননি। তবে তিনি বলেন, চীন নিজস্ব প্রয়োজন অনুযায়ী সামরিক সক্ষমতা গড়ে তুলেছে এবং বিশ্বশান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তাইওয়ানের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত অস্ত্র বিক্রির যৌক্তিকতা তুলে ধরতে গিয়ে পারডিউ ট্রাম্পের বক্তব্যের কথা জানান। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কাছে অস্ত্র বিক্রি করে এবং তাইওয়ানের ক্ষেত্রেও মার্কিন নীতিতে পরিবর্তন আসেনি। পারডিউ আরও দাবি করেন, ট্রাম্প তাইওয়ানের জন্য বড় অঙ্কের অস্ত্র প্যাকেজ অনুমোদন করেছেন এবং ভবিষ্যৎ অস্ত্র বিক্রির বিষয়েও দুই দেশের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
তবে চীনের কাছে অস্ত্র বিক্রির বিষয়ে মার্কিন প্রশাসনের অবস্থান আলাদা। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের বক্তব্য অনুযায়ী, চীনের কাছে অস্ত্র বিক্রির কোনো পরিকল্পনা নেই এবং দেশটির কাছে অস্ত্র বিক্রি মার্কিন আইনে নিষিদ্ধ। ফলে ট্রাম্পের ওই কথোপকথনকে কোনো আনুষ্ঠানিক অস্ত্র বিক্রির প্রস্তাব বা চুক্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে না।
তাইওয়ান নীতি অপরিবর্তিত রয়েছে জানিয়ে পারডিউ উল্লেখ করেন, ট্রাম্প প্রশাসন তাইওয়ানের জন্য ১১ বিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের একটি অস্ত্র প্যাকেজ অনুমোদন করেছে। এদিকে, তাইওয়ানের জন্য আরও প্রায় ১৪ বিলিয়ন ডলারের একটি প্রস্তাবিত অস্ত্র প্যাকেজ নিয়েও ওয়াশিংটনে আলোচনা চলছে।
আশির দশকে সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরুদ্ধে সহযোগিতার অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র চীনের কাছে কিছু সামরিক সরঞ্জাম বিক্রি করেছিল। তবে ১৯৯০ সালের পর এ ধরনের অস্ত্র বিক্রি বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে চীন তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে দাবি করে এবং তাইওয়ানের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র বিক্রির কঠোর বিরোধিতা করে আসছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানের আত্মরক্ষার সক্ষমতা বজায় রাখতে অস্ত্র সরবরাহ করে আসছে।
ফলে ট্রাম্পের শি জিনপিংকে মার্কিন অস্ত্র কেনার বিষয়ে প্রশ্ন করার বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে, চীনের কাছে অস্ত্র বিক্রির কোনো প্রস্তাব বা পরিকল্পনা বর্তমানে নেই।
