শুক্রবার চিকিৎসকদের সঙ্গে এক বৈঠকে পেজেশকিয়ান বলেন, শক্তিশালী ও মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে থেকেই এখন যুদ্ধ শেষ করা ইরানের জন্য সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত হবে।
তিনি আরও দাবি করেন, বিশ্বের অনেক দেশ যুক্তরাষ্ট্রের হামলার সমালোচনা করছে। তাঁর অভিযোগ, ইরানের স্কুল, হাসপাতাল ও বিভিন্ন অবকাঠামোতে হামলা চালিয়ে যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছে।
এদিকে গত জুনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া সমঝোতা স্মারক নিয়েও নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন পেজেশকিয়ান। ইরানের কট্টরপন্থী আইনপ্রণেতাদের অভিযোগ ছিল, ওই সমঝোতার মাধ্যমে তেহরান ওয়াশিংটনকে ছাড় দিয়েছে।
তবে এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে পেজেশকিয়ান বলেন, সমঝোতার কোথাও ইরানের আত্মসমর্পণের কথা বলা হয়নি। বরং প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের দায়িত্ব অপর পক্ষের ওপরই রয়েছে।
তবে সমঝোতার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরই ইরানের সামরিক নেতৃত্ব নতুন কোনো হামলা বা হুমকির ক্ষেত্রে কঠোর পাল্টা জবাব দেওয়ার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে।
ইরানের সামরিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, স্থল, সমুদ্র, আকাশ, বিমান প্রতিরক্ষা এবং সাইবার—সব ক্ষেত্রেই বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে। নতুন কোনো হুমকি এলে তাৎক্ষণিক ও শক্তিশালী জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।
হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা
এদিকে ওমান ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা শুক্রবার ফোনে কথা বলেছেন। আলোচনায় কূটনৈতিক সংলাপ পুনরায় শুরুর পরিবেশ তৈরি এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা এখনো অব্যাহত রয়েছে। ইরান প্রণালিটি আংশিকভাবে বন্ধ রেখেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হচ্ছে। অন্যদিকে সেখানে মার্কিন নৌবাহিনীর উপস্থিতিও রয়েছে।
মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালির দক্ষিণ অংশ দিয়ে তেলবাহী ট্যাংকার চলাচল করছে এবং এসব জাহাজকে মার্কিন নৌবাহিনী পাহারা দিচ্ছে। এর মাধ্যমে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল রপ্তানি অব্যাহত রাখার চেষ্টা চলছে।
ইরানকে নতুন নিষেধাজ্ঞার হুমকি
এদিকে ইরান আলোচনায় ফিরতে কতটা প্রস্তুত, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, পরিস্থিতি শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
ট্রাম্প দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালি ও এর আশপাশের এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। ইরান চুক্তি করতে চাইলেও তাদের আরও প্রস্তুতি প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এর পাশাপাশি ইরানকে সহযোগিতা করা দেশগুলোর বিরুদ্ধেও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছে ওয়াশিংটন। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টও ইরানের ওপর আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ইঙ্গিত দিয়েছেন।
ফলে একদিকে যুদ্ধ শেষ করার আহ্বান জানাচ্ছে তেহরান, অন্যদিকে সামরিক প্রস্তুতি ও নিষেধাজ্ঞার হুমকি অব্যাহত রেখেছে ওয়াশিংটন। এতে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।
