Amyal TV
সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
১১ কার্তিক ১৪৩৩
সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
১১ কার্তিক ১৪৩৩

তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে, মঙ্গলবার খুলছে সুন্দরবন।

টানা তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে আগামীকাল মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) থেকে আবারও খুলে দেওয়া হচ্ছে সুন্দরবন। প্রজনন মৌসুমে মাছ ও বন্যপ্রাণীর নির্বিঘ্ন বিচরণ নিশ্চিত করতে গত ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সুন্দরবনে সব ধরনের প্রবেশ ও মাছ-কাঁকড়া আহরণ বন্ধ রেখেছিল বন বিভাগ।

Amyal TV
৪ মিনিট পড়ুন

নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার খবরে সুন্দরবনসংলগ্ন এলাকায় ফিরেছে কর্মচাঞ্চল্য। ঘাটে সারি সারি নৌকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। কোথাও নৌকা মেরামত চলছে, কোথাও লাগানো হচ্ছে নতুন কাঠ। জেলেরা ব্যস্ত জাল সেলাই, জ্বালানি, খাবার ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম গোছাতে।

দীর্ঘ তিন মাস পর আবারও সুন্দরবনে যাওয়ার সুযোগ পেয়ে জীবিকার আশায় বুক বাঁধছেন হাজারো বনজীবী। কয়রার মহেশ্বরীপুর, কয়রা, উত্তর বেদকাশী ও দক্ষিণ বেদকাশীসহ বিভিন্ন এলাকার জেলেরা বনে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে কাজের সুযোগ ফিরে আসার আনন্দের পাশাপাশি তাঁদের মধ্যে রয়েছে দুশ্চিন্তাও। কারণ মাছ-কাঁকড়া আহরণের ঝুঁকির সঙ্গে রয়েছে বনদস্যু ও জলদস্যুর আতঙ্ক।

তিন মাস ঘরে থেকে কষ্টে দিন পার

সুন্দরবননির্ভর মানুষের জন্য তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা মানে আয়ের অন্যতম প্রধান পথ বন্ধ থাকা। মাছ ও কাঁকড়া আহরণ করে যেসব পরিবার বছরের বড় একটি সময় সংসার চালায়, তাদের অনেকেই এ সময়ে ধারদেনা করে দিন পার করেছেন।

কয়রার ৫ নম্বর গ্রামের জেলে মফিজুল ইসলাম প্রায় দুই দশক ধরে সুন্দরবনে মাছ ও কাঁকড়া ধরে জীবিকা নির্বাহ করছেন। তিনি জানান, বন বন্ধ থাকায় গত তিন মাস খুব কষ্টে কাটাতে হয়েছে। পর্যাপ্ত সহায়তাও পাননি।

মফিজুল বলেন, ‘১ সেপ্টেম্বর বন খুললে আবার বনে যেতে হবে। সংসার চালাতে হলে এর কোনো বিকল্প নেই। তবে বনদস্যুদের আতঙ্কও আছে। বনে গিয়ে নিরাপদে ফিরতে পারব কি না, সেটাই এখন বড় চিন্তা।’

বনে যাওয়ার আগেই খরচ ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা

সুন্দরবনে যাওয়ার প্রস্তুতিতেই জেলেদের বড় অঙ্কের অর্থ খরচ করতে হয়। স্থানীয় জেলেদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নৌকা মেরামত, নতুন জাল কেনা বা পুরোনো জাল ঠিক করা, জ্বালানি, খাবার, দড়ি, অন্যান্য সরঞ্জাম এবং পাস-পারমিটসহ বিভিন্ন খাতে একটি নৌকা নিয়ে বনে যেতে প্রায় ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হয়।

অধিকাংশ জেলের কাছে এ অর্থ থাকে না। ফলে স্থানীয় মহাজনদের কাছ থেকে ধার করে বনে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে হয়। এতে সুন্দরবনে যাওয়ার আগেই তাঁদের মাথায় চাপে ঋণের বোঝা।

জেলেদের ভাষ্য, বনে গিয়ে প্রত্যাশিত পরিমাণ মাছ-কাঁকড়া না পেলে লোকসানের পাশাপাশি বাড়ে ঋণের চাপও। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, মাছের সংকট কিংবা অন্য কোনো কারণে আহরণ ব্যর্থ হলে মহাজনের টাকা পরিশোধ করা কঠিন হয়ে পড়ে। তারপরও জীবিকার তাগিদে ঝুঁকি নিয়েই বনে যেতে হয় তাঁদের।

বাঘ-কুমিরের পাশাপাশি দস্যু আতঙ্ক

সুন্দরবনে মাছ-কাঁকড়া আহরণ করতে গিয়ে নানা ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েন বনজীবীরা। নদী-খালে কুমির, বনের ভেতরে বাঘ এবং গাছপালায় বিষধর সাপ—এসব ঝুঁকি তাঁদের নিত্যসঙ্গী।

তবে বনজীবীদের দাবি, এসব প্রাকৃতিক ঝুঁকির পাশাপাশি এখন দস্যু আতঙ্কও বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। দীর্ঘ সময় মানুষের প্রবেশ বন্ধ থাকায় সুন্দরবনের দুর্গম এলাকায় দস্যুদের তৎপরতা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তাঁরা।

বনে প্রবেশের পর অপহরণ, মুক্তিপণ দাবি কিংবা প্রাণনাশের হুমকির মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার শঙ্কাও রয়েছে বলে জানিয়েছেন কয়েকজন বনজীবী।

নিরাপত্তা বাড়ানোর দাবি

সুন্দরবন খুলে দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন জেলে ও বনজীবীরা। তাঁদের দাবি, গুরুত্বপূর্ণ নদী ও খালপথে কোস্টগার্ড ও নৌ পুলিশের নিয়মিত টহল বাড়াতে হবে।

তাঁদের মতে, ১ সেপ্টেম্বর থেকে পাস-পারমিট নিয়ে বিপুলসংখ্যক নৌকা সুন্দরবনে প্রবেশ করবে। এ সুযোগে কেউ যাতে দস্যুতা, অবৈধ মাছ শিকার কিংবা বনের ক্ষতি করতে না পারে, সে জন্য বন বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সমন্বিতভাবে নজরদারি করতে হবে।

একই সঙ্গে বিষ দিয়ে মাছ ধরা, নিষিদ্ধ জাল ব্যবহারসহ জীববৈচিত্র্যের জন্য ক্ষতিকর কর্মকাণ্ড বন্ধে কঠোর পদক্ষেপেরও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

নিয়ম মেনেই প্রবেশের নির্দেশ

খুলনা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক মো. সাজমিনুল ইসলাম বলেন, তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে মঙ্গলবার থেকে জেলে-বাওয়ালি ও পর্যটকদের জন্য সুন্দরবনে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। প্রজনন মৌসুমে বনের জীববৈচিত্র্য ও মৎস্যসম্পদ রক্ষায় এই নিষেধাজ্ঞা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

তিনি জানান, নির্ধারিত নিয়ম ও বন বিভাগের অনুমতি নিয়ে জেলে-বাওয়ালিরা মাছ-কাঁকড়া আহরণ এবং পর্যটকেরা সুন্দরবন ভ্রমণ করতে পারবেন। তবে বনের পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও বন্যপ্রাণী রক্ষায় সবাইকে সরকারি নির্দেশনা মেনে চলতে হবে।

তিন মাসের নীরবতার পর আবারও সরব হতে যাচ্ছে সুন্দরবনসংলগ্ন জনপদ। ঘাটে প্রস্তুত হচ্ছে নৌকা, সেলাই হচ্ছে জাল, গুছিয়ে নেওয়া হচ্ছে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম। জীবিকার তাগিদে আবারও নদী-খালের পথে পাড়ি জমাবেন হাজারো বনজীবী।

তবে তাঁদের প্রত্যাশা, নতুন মৌসুমে মাছ-কাঁকড়া আহরণের এই যাত্রা হবে নিরাপদ। সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষার পাশাপাশি বননির্ভর মানুষের জীবন ও জীবিকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই শুরু হবে নতুন মৌসুম—এমনটাই প্রত্যাশা উপকূলবাসীর।

চট্টগ্রাম বিভাগে তিন দিনের সফরে যাচ্ছেন পেশাজীবী দলের মুখপাত্র- নাফিজ মাহবুব

সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার, তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় ও পেশাজীবীদের সম্পৃক্ততা...

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরতে পরতে হাসনাত-সারজিসের গাদ্দারি খুঁজে পাওয়া যাবে: রাশেদ খাঁন

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিভিন্ন পর্যায়ে হাসনাত আবদুল্লাহ ও সারজিস আলমের ‘গাদ্দারি’...