র্যাব সূত্রে জানা যায়, আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর ১৬ জন, আনারুল বাহিনীর ১৩ জন, আফজাল ওরফে দুলাভাই বাহিনীর ১৫ জন এবং আফতাব বাহিনীর ৮ জন রয়েছেন।
র্যাব-৬-এর এক কর্মকর্তা জানান, সম্প্রতি সুন্দরবনকেন্দ্রিক জলদস্যুদের বিরুদ্ধে র্যাব ও কোস্ট গার্ড অভিযান জোরদার করে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের চাপে এসব বাহিনীর সদস্যরা আত্মসমর্পণ করেছেন বলে জানান তিনি।
র্যাবের ভাষ্য, এসব জলদস্যু বিভিন্ন সময়ে সুন্দরবনের জেলে, বাওয়ালি ও মৌয়ালসহ বনজীবীদের জিম্মি করে অর্থ আদায় করত। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কয়েকটি বাহিনীর সদস্যদের শনাক্ত করার পর অভিযান শুরু করা হয়। এর মধ্যে ৫২ জন আত্মসমর্পণ করলেও অনেকে বন থেকে পালিয়ে গেছে।
র্যাব-৬-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নিস্তার আহমেদ বলেন, সুন্দরবনকে ঘিরে হাজারো মানুষ জীবিকা নির্বাহ করেন। দীর্ঘদিন ধরে জলদস্যু ও বনদস্যুদের অপহরণ, মুক্তিপণ আদায়সহ বিভিন্ন অপরাধ বনজীবীদের জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে উঠেছিল।
তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে নতুন দস্যুচক্রের তৎপরতা এবং পূর্বে আত্মসমর্পণ করা কয়েকজনের আবারও অপরাধে জড়িয়ে পড়ার তথ্য পাওয়ার পর অভিযান জোরদার করা হয়।
র্যাবের দাবি, অপরাধজীবনের অনিশ্চয়তার কারণে দস্যু বাহিনীর অনেক সদস্য স্বাভাবিক জীবনে ফেরার আগ্রহ প্রকাশ করেন। এর ধারাবাহিকতায় চারটি বাহিনীর ৫২ সদস্য আত্মসমর্পণ করেছেন।
আত্মসমর্পণকারীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হবে বলে জানিয়েছে র্যাব।
