সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান বাঁধন। বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি বলেন, যারা তার ওপর হামলা চালিয়েছেন, তারা নিজেদের জন্যই বিপদ ডেকে আনছেন। তার ভাষায়, তার গায়ে হাত তোলা হয়েছে এবং এ ধরনের বর্বরতা বন্ধ হওয়া প্রয়োজন।
বাঁধন বলেন, আক্রমণকারীরা এ ধরনের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থানকেই অনিরাপদ করে তুলছেন। ইতালির মাটিতে এমন ঘটনা ঘটায় তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন। তার মতে, দেশের বাইরে এ ধরনের ঘটনায় বাংলাদেশের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন হয়।
এ সময় দলীয় রাজনীতির প্রসঙ্গও তুলে ধরেন এই অভিনেত্রী। তিনি বলেন, যারা দলকে ভালোবাসেন, তারা যেন দলীয় পরিচয়ের কারণে এমন কোনো কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে না পড়েন। কারণ, এ ধরনের ঘটনায় তাদের পরিবারের সদস্যদেরও কষ্ট পেতে হয়। পাশাপাশি দলের নেতারা সবসময় কর্মীদের পাশে থাকবেন—এমন নিশ্চয়তাও নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বাঁধন বলেন, দলের নেতারা হয়তো নিজেদের জায়গায় নিরাপদে থাকবেন এবং ভিডিও বার্তা দেবেন; কিন্তু যারা মাঠে থেকে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়াচ্ছেন, শেষ পর্যন্ত তাদের এবং তাদের পরিবারেরই ভোগান্তিতে পড়তে হতে পারে।
ইতালির পুলিশের ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন বাঁধন। তিনি জানান, ঘটনার পর তাকে প্রায় ২৪ ঘণ্টা নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছিল। ইতালিতে অবস্থানকালে স্থানীয় পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকেও তিনি সহযোগিতা পেয়েছেন বলে জানান।
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার একপর্যায়ে বাঁধন আরও জানান, তার পাশে অনেকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলেও তার নিজের টিম তাকে ত্যাজ্য করেছে। এমনকি ভেনিসে তাদের সঙ্গে থাকার জন্যও তাকে নিষেধ করা হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি। শুধু তাই নয়, পরবর্তী সময়ে টরন্টো ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল থেকেও তাকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন এই অভিনেত্রী।
এর আগে ইতালির ভেনিসে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নিতে গিয়ে হামলা ও হয়রানির শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছিলেন বাঁধন। তার অভিযোগ, গত ৭ সেপ্টেম্বর রাতে মেস্ত্রে এলাকায় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে থাকার সময় একদল প্রবাসী বাংলাদেশি তাকে লক্ষ্য করে হেনস্তা ও হামলা চালায়।
ঘটনার একটি ভিডিও পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ওই সময় বাঁধনের দিকে পানি ও কোমল পানীয় ছোড়া হয়। পাশাপাশি তাকে শারীরিকভাবে আঘাত করার অভিযোগও ওঠে।
ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে কয়েকজনের সঙ্গে বাঁধনের উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের দৃশ্য দেখা যায়। ঘটনার পর বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় থানায় অভিযোগ করেন তিনি। এরপর ইতালির পুলিশ ভিডিও ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তের চেষ্টা শুরু করে বলে জানা যায়।
হামলার অভিযোগ সামনে আসার পর বাঁধনের নিরাপত্তা নিয়ে বাংলাদেশ ও ইতালিতে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। বিষয়টি নিয়ে ইতালিতে অবস্থিত বাংলাদেশের দূতাবাস ও কনস্যুলেট থেকেও তাকে আইনি ও অন্যান্য সহায়তা দেওয়ার কথা জানানো হয়।
এ ঘটনায় বাংলাদেশ সরকারও উদ্বেগ প্রকাশ করে। পাশাপাশি ইতালির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে বিষয়টি জোরালোভাবে তুলে ধরার কথা জানানো হয়েছিল। ঘটনার পর বাঁধনও নিজের অবস্থানে দৃঢ় থাকার কথা জানান। তিনি বলেছিলেন, ঘটনার শেষ দেখে ছাড়বেন।
ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নিতে বাঁধন ইতালিতে গিয়েছিলেন তার অভিনীত ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ সিনেমার প্রদর্শনীতে অংশ নিতে। রুবাইয়াত হোসেন পরিচালিত ও রচিত এই সিনেমাটি চলচ্চিত্র উৎসবে ইন্ডিপেন্ডেন্ট ফিল্ম ক্রিটিকস অ্যাওয়ার্ড ‘প্রেমিও বিসাতো দ’ওরো’ অর্জন করেছে।
সিনেমার প্রদর্শনী ও পুরস্কার অর্জনের কারণে ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসরে বাঁধনের উপস্থিতি যেমন আলোচনায় আসে, তেমনি উৎসবে অংশ নেওয়ার সময় হামলা ও হয়রানির অভিযোগ ওঠায় আন্তর্জাতিকভাবেও আলোচনায় চলে আসেন এই অভিনেত্রী।
দেশে ফেরার পর বিমানবন্দরে দেওয়া বক্তব্যে বাঁধন স্পষ্ট করে জানান, বিদেশের মাটিতে এমন ঘটনা শুধু ব্যক্তিগতভাবে তাকে বিব্রত করেনি, বরং এর মাধ্যমে দেশের ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সঙ্গে যারা এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত হয়েছেন, তাদের দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
