শুভর মা, স্ত্রী ও ভাই চেয়েছিলেন তাকে ইসলামি রীতিতে দাফন করতে। অন্যদিকে, তার বাবা চেয়েছিলেন হিন্দুধর্মীয় রীতিতে মরদেহের সৎকার করতে। এ নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধ শেষ পর্যন্ত গড়ায় উচ্চ আদালত পর্যন্ত। পরে আদালতের নির্দেশে রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাতে এ বিরোধের অবসান হয়।
আদালতের নির্দেশনার পর ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গ থেকে শুভর মরদেহ নারায়ণগঞ্জে নিয়ে আসা হয়। পরে জানাজা শেষে রাত সাড়ে ১০টার দিকে নারায়ণগঞ্জ শহরের মাসদাইর কেন্দ্রীয় কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
এর আগে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উপপরিদর্শক (এসআই) মফিজুল ইসলামসহ পুলিশের একটি দল ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গ থেকে শুভর মরদেহ নারায়ণগঞ্জে নিয়ে আসেন। পরে মরদেহ তার স্ত্রী জ্যোতি আক্তারসহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
শুভর শেষবিদায়ের সময় উপস্থিত ছিলেন তার মা আয়েশা আক্তার, স্ত্রী জ্যোতি আক্তার, দুই বছর বয়সী মেয়ে সুমাইয়া সোহানা, ভাই ইব্রাহিম, বোনজামাই মো. সেলিমসহ পরিবারের অন্যান্য স্বজনরা। জানাজা ও দাফনকে কেন্দ্র করে মাসদাইর কেন্দ্রীয় কবরস্থান এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও ডিবি সদস্য মোতায়েন ছিলেন।
মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের পর সেখানে নেমে আসে শোকের ছায়া। স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। মাকে কাঁদতে দেখে ছোট্ট সুমাইয়াও বাবার জন্য কাঁদতে থাকে। বাবাকে হারানোর অর্থ বোঝার বয়স এখনো হয়নি তার। তবে মায়ের কান্না দেখে স্বজনদের সঙ্গে সেও কান্নায় ভেঙে পড়ে।
এভাবেই ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে বিরোধ ও আইনি জটিলতার কারণে মৃত্যুর পরও আট দিন অপেক্ষায় থাকা শুভ চন্দ্র দাস ওরফে মো. বিল্লালের শেষযাত্রা সম্পন্ন হয়।
