এমন পোস্টার ঘিরে পুরো ইউনিয়নজুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও পোস্টারের ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর নানা ধরনের মন্তব্য করছেন নেটিজেনরা।
দেয়ালে দেয়ালে লাগানো এসব পোস্টারে লেখা হয়েছে, ‘আসন্ন ১নং সিরাজপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আমি গাঁজার ডিলার (খোকন) চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়েছি। আমি কথা দিচ্ছি, আমি চেয়ারম্যান হিসেবে জয়ী হলে সবার ঘরে ঘরে বিনা টাকায় গাঁজা-ইয়াবা ফ্রিতে দিবো।’
এছাড়াও পোস্টারে আরও বেশ কিছু ব্যঙ্গাত্মক ও বিতর্কিত স্লোগান লেখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—‘বেকারদের জন্য গাঁজা তাহার’, ‘বেকারদের জন্য গাঁজা ভাতা’, ‘মাদকসেবীদের জন্য বিশেষ কার্ড’, ‘স্কুল-কলেজের সামনে ফ্রি সাপ্লাই’, ‘থানা-পুলিশ আমার ভাই’, ‘উন্নয়ন হবে, আগে চাঁদা হবে’—এমন নানা বক্তব্য।
পোস্টারগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। বেলাল হোসেন অপেল নামে এক তরুণ ফেসবুকে পোস্টারের ছবি শেয়ার করে লিখেছেন, ‘আর কি বলবো।’ মো. রাজু নামে একজন মন্তব্য করেন, ‘মাদক কত এবেলএবেল হলে এমন পোস্টার করা হয়।’ আবার সজিব মাহমুদ নামে একজন লিখেছেন, ‘এটি প্রতিহিংসা থেকে হতে পারে।’
তবে পোস্টারে নিজের ছবি ও নাম ব্যবহারের ঘটনায় বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন মো. খোকন। তার দাবি, প্রতিপক্ষের লোকজন তাকে সামাজিকভাবে হেয় করতে এবং তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাতেই এমন পোস্টার লাগিয়েছে।
সিরাজপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি মো. খোকন বলেন, ‘৫ দিন আগে আমার ছেলেকে ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর হাসেমের ছেলে চড় মারে। তা নিয়ে আমি প্রতিবাদ করি। মামলা করার প্রস্তুতি নিয়েছি। এটা দেখে তারা আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার করছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি সিসিটিভি ফুটেজ নিচ্ছি। যারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে মামলা করবো।’
এদিকে ঘটনাটি নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখছে পুলিশ। কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুল হাকিম বলেন, ‘এ ঘটনার সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে। সত্যতা অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
পুলিশের পক্ষ থেকে বিষয়টি তদন্ত করে পোস্টার লাগানোর সঙ্গে কারা জড়িত এবং এর পেছনে প্রকৃত ঘটনা কী, তা যাচাই করা হচ্ছে।
