Amyal TV
মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
১২ কার্তিক ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
১২ কার্তিক ১৪৩৩

হলফনামায় ‘ভুয়া শিক্ষাগত সনদ’ দাখিলের অভিযোগ এমপি নয়নের বিরুদ্ধে

ভোলা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. নুরুল ইসলাম নয়নের নির্বাচনি হলফনামায় জাল শিক্ষাগত সনদ ও মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগের ভিত্তিতে তার সংসদ সদস্য পদ বাতিলের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেছেন ওই আসনের এক ভোটার।

Amyal TV
৪ মিনিট পড়ুন

একই সঙ্গে কথিত ওই শিক্ষাগত সনদের সত্যতা যাচাই ও জাল সনদ সংক্রান্ত অভিযোগ অনুসন্ধানের জন্যও আদালতের হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছে। রিটের শুনানি ‘নট টু ডে’ অর্থাৎ আজ নয়—এমন আদেশ দিয়ে পরবর্তী সময়ে শুনানির জন্য রেখেছেন হাইকোর্ট।

রিটটি শুনানির জন্য উপস্থাপন করা হলে মঙ্গলবার হাইকোর্টের বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি এস এম ইফতেখার উদ্দিন মাহমুদের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী রাফসান আলভী। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) তিনি বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেন।

রিট আবেদনটি করেছেন ভোলা-৪ আসনের ভোটার আবদুল্লাহ আল মাহমুদ। তার অভিযোগ, সংসদ সদস্য মো. নুরুল ইসলাম নয়ন নির্বাচনি হলফনামায় তার সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে মাস্টার অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বা এমবিএ উল্লেখ করেছেন। এ-সংক্রান্ত প্রমাণ হিসেবে তিনি ইবাইস ইউনিভার্সিটির নামে একটি সনদও দাখিল করেছেন।

তবে রিটকারীর দাবি, ওই সনদের বিষয়ে ইবাইস ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা সনদটি তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়া নয় বলে জানিয়েছেন। রিটে এ-সংক্রান্ত তথ্য-প্রমাণও সংযুক্ত করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

রিটকারীর অভিযোগ, নির্বাচনি হলফনামায় মিথ্যা শিক্ষাগত যোগ্যতার তথ্য ও কথিত জাল সনদ দাখিলের মাধ্যমে মো. নুরুল ইসলাম নয়ন ভোটারদের বিভ্রান্ত ও প্রতারিত করেছেন।

রিটে বলা হয়েছে, সংসদীয় আসন নম্বর ১১৮, ভোলা-৪ (চরফ্যাশন-মনপুরা) থেকে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচিত হন মো. নুরুল ইসলাম নয়ন।

নির্বাচনি হলফনামায় তিনি তার সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে ‘মাস্টার অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন’ উল্লেখ করেন। সেখানে ইবাইস ইউনিভার্সিটি থেকে ‘মাস্টার অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন উইথ মেজর ইন ম্যানেজমেন্ট’, সিজিপিএ ৩.২৮ এবং নভেম্বর ২০০৮-এর একটি সনদ দাখিল করা হয়েছে বলে রিটে উল্লেখ করা হয়েছে।

রিটকারীর দাবি, ইবাইস ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা ওই সনদকে জাল বলে দাবি করেছে এবং এটি তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদ নয় বলে জানিয়েছে। এ বিষয়ে পাওয়া তথ্য-প্রমাণও রিট আবেদনের সঙ্গে আদালতে দাখিল করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

রিটে আরও বলা হয়েছে, সংসদ সদস্য মো. নুরুল ইসলাম নয়ন বিভিন্ন বক্তব্য ও বিবৃতিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগ থেকে অনার্স ও মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জনের কথা প্রচার করে আসছেন। পাশাপাশি তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলের ১৯৮৯-৯০ শিক্ষাবর্ষের আবাসিক ছাত্র ছিলেন বলেও দাবি করে আসছেন বলে রিটে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে রিটকারীর দাবি, মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলের নথি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ভবনের সার্টিফিকেট ও মার্কশিট শাখায় মো. নুরুল ইসলাম নয়ন, পিতা মো. মহিউদ্দিন মিয়া নামে ইংরেজি বিভাগের ১৯৮৮ থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত কোনো শিক্ষার্থীর তথ্য পাওয়া যায়নি।

এ কারণে রিটকারীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, মো. নুরুল ইসলাম নয়ন কখনোই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন না। অথচ রাজনৈতিক জীবনে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে নিজের পরিচয় ব্যবহার করেছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

রিটে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, মো. নুরুল ইসলাম নয়ন বর্তমানে বিএনপির অঙ্গসংগঠন জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক। এর আগে তিনি ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের একাধিকবারের সহ-সভাপতি ছিলেন বলে রিট আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া রিটকারীর আবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৮ সালে নির্বাচনি এলাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় মো. নুরুল ইসলাম নয়ন তার হলফনামায় সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে ‘এমএ’ বা মাস্টার অব আর্টস উল্লেখ করেছিলেন।

কিন্তু ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হলফনামায় তিনি সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে এমবিএ উল্লেখ করেছেন। অর্থাৎ দুই নির্বাচনের হলফনামায় তার সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতার তথ্যে পার্থক্য রয়েছে বলেও রিটে উল্লেখ করা হয়েছে।

রিটকারীর অভিযোগ, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও সনদ নিয়ে নির্বাচনি হলফনামায় অসত্য তথ্য দেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হলে এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের (আরপিও) ৯১এফ ধারার আওতায় মো. নুরুল ইসলাম নয়নের সংসদ সদস্য পদ বাতিলের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলেও আবেদনে দাবি করা হয়েছে।

রিটে কথিত জাল শিক্ষাগত সনদের বিষয়ে অনুসন্ধান এবং হলফনামায় দেওয়া তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংসদ সদস্য মো. নুরুল ইসলাম নয়নের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। হাইকোর্ট রিটের শুনানি আজ না করে পরবর্তী সময়ের জন্য রেখেছেন।

চট্টগ্রাম বিভাগে তিন দিনের সফরে যাচ্ছেন পেশাজীবী দলের মুখপাত্র- নাফিজ মাহবুব

সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার, তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় ও পেশাজীবীদের সম্পৃক্ততা...

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরতে পরতে হাসনাত-সারজিসের গাদ্দারি খুঁজে পাওয়া যাবে: রাশেদ খাঁন

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিভিন্ন পর্যায়ে হাসনাত আবদুল্লাহ ও সারজিস আলমের ‘গাদ্দারি’...