Amyal TV
বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
১৩ কার্তিক ১৪৩৩
বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
১৩ কার্তিক ১৪৩৩

মাদকের গডফাদার বিএনপির হলেও ধরতে যেন হাত না কাঁপে: আইনমন্ত্রী

মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দল-মত কিংবা রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে ব্যবস্থা নিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

Amyal TV
৪ মিনিট পড়ুন

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বাগেরহাট জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত আইনশৃঙ্খলা ও উন্নয়নবিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ নির্দেশনা দেন।

সভায় মাদক কারবার ও মাদক সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা তুলে ধরে আইনমন্ত্রী বলেন, মাদক কারবারের সঙ্গে কিংবা মাদকের ‘গডফাদার’ হিসেবে সরকারদলীয় বা বিরোধী কোনো নেতার সম্পৃক্ততা থাকলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কোনো ধরনের রাজনৈতিক পরিচয়ের দিকে না তাকিয়ে ব্যবস্থা নিতে হবে।

তিনি বলেন, ‘মাদক কারবারের সঙ্গে বা মাদকের গডফাদার হিসেবে সরকারদলীয় কিংবা বিরোধী কোনো নেতার সম্পৃক্ততা থাকলে, তাকে ধরতেও যেন আপনাদের হাত না কাঁপে।’

আইনমন্ত্রী আরও বলেন, ‘যার বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে, তাকে আইনের আওতায় আনবেন। তিনি যত শক্তিশালীই হোন না কেন, এমনকি আমি যে রাজনৈতিক দল থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য, সেই বিএনপির কোনো শক্তিশালী নেতাও যদি তাকে পৃষ্ঠপোষকতা করার চেষ্টা করেন, তার ব্যাপারেও আপনারা জিরো টলারেন্স দেখাবেন। আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। এখানে কোনো পক্ষপাত নেই।’

নিজ এলাকার একটি ঘটনার উদাহরণ তুলে ধরে আইনমন্ত্রী বলেন, গত সপ্তাহে তার একটি ইউনিয়নের বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে মাদক সেবন ও মাদক কারবারের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ পুলিশ তাকে জানিয়েছিল। বিষয়টি জানার পর তিনি ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘গত সপ্তাহে আমার একটি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে অভিযোগ আসে। সে মাদক সেবন করে এবং মাদক কারবারের সঙ্গে সম্পৃক্ত—এমন অভিযোগ পুলিশ আমাকে জানানোর পর আমি বললাম, গ্রেপ্তার করেন। আমাকে জিজ্ঞাসা করার কী প্রয়োজন? সে যদি বিএনপি না করত, অন্য কোনো রাজনৈতিক দল করত, তাহলে তার ক্ষেত্রে যেটা করতেন, এক্ষেত্রেও সেটাই করবেন।’

তিনি জানান, ওই নেতাকে গ্রেপ্তারের পর মাদক সেবনের পরীক্ষার ফল পজিটিভ আসে। পরে দ্রুত বিচার প্রক্রিয়ায় তাকে এক বছরের সাজা দেওয়া হয়।

ওই নেতার রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘সে আমার নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি নিবেদিতভাবে যারা কাজ করেছিল, তাদের একজন ছিল। কিন্তু আমার কাছে একজন সত্যিকারের রাজনৈতিক কর্মী হতে গেলে তার প্রথম শর্ত হলো, তাকে নৈতিকভাবে স্বচ্ছ হতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘জনগণের কাছে যখন তাকে পাঠাব, জনগণ যেন বুঝতে পারে, সে মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলতে এসেছে। অথচ সে নিজেই মাদকমুক্ত নয়—এটা হতে পারে না।’

আইনমন্ত্রী আরও বলেন, কারও বিরুদ্ধে মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ থাকলে তা উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। অভিযোগের ভিত্তিতে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনতে হবে।

তার ভাষায়, ‘অভিযোগ আছে, আপনি তা উপেক্ষা করবেন, সেটা হবে না। আইনের হাতে সোপর্দ করবেন। আইন আইনের মতো এগিয়ে যাবে।’

তবে আদালতের মাধ্যমে জামিন পাওয়ার বিষয়টি একজন আসামির আইনগত অধিকার উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তি আদালত থেকে জামিন পেলে সেটি তার অধিকার। কিন্তু জামিন পাওয়ার পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যাতে বিঘ্নিত না হয়, সেদিকেও সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকতে হবে।

তিনি বলেন, ‘সে যদি আদালত থেকে জামিন পায়, জামিন পাওয়া তার অধিকার। কিন্তু পুলিশ তাকে বাইরে ঘুরে বেড়াতে দেবে, খুন করে বেড়াবে, আর জনগণের মুখে এই কথা হবে যে খুন করলেও পুলিশ তাকে ধরতে সাহস পাচ্ছে না—এটা হতে পারে না।’

মাদকের সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে কোনো ধরনের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ না করার আহ্বান জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, মাদক কারবার বা মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে যার নামই আসুক, তার বিরুদ্ধে একই ধরনের আইনি ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, ‘এখানে মাদকের সঙ্গে জড়িত বা সম্পৃক্ত যে বা যারাই থাকুক, সবার ক্ষেত্রেই জিরো টলারেন্স। যত বড় নেতাই হোক, সেটা আমরা দেখব।’

বাগেরহাটে মাদক কারবারিদের কর্মকাণ্ডের কারণে কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতি সাধারণ মানুষের বিরূপ ধারণা তৈরি হোক, সরকার বা রাজনৈতিক দল হিসেবে তারা এমন পরিস্থিতি চান না বলেও মন্তব্য করেন আইনমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘বাগেরহাট জেলায় ১০ জন লোক মাদক বিক্রি করে। আমি যদি এভাবে ধরি যে, এই ১০ জনই বিএনপি করে, তাহলে এই ১০ জনের কারণে বাগেরহাট জেলার ১০ হাজার মানুষ আমাকে ঘৃণা করবে। এই ১০ জনের কারণে বাগেরহাট জেলার ১০ হাজার মানুষ বিএনপিকে অপছন্দ করবে। আমরা রাজনৈতিক দল হিসেবে, সরকার হিসেবে এই ঝুঁকি নেব না।’

তিনি আরও বলেন, ‘যদি কোনো নেতা এর পেছনে থেকে থাকেন, তাদেরও আমরা সতর্ক করছি।’

জামিনের বিষয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, কাউকে জামিন দেওয়া বা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার আদালতের। তবে ন্যায়বিচারের প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে জামিন নেওয়া, দেওয়া কিংবা জামিন ঠেকানোর কোনো ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

সভায় আইনমন্ত্রী গত ১৭ বছরে বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগও তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন, ওই সময়ে অনেক মানুষকে ধরে নিয়ে বিনা বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং এসব ঘটনাকে ‘ক্রসফায়ার’ হিসেবে দেখানো হয়েছে।

তার দাবি, ওই সময়ে চার হাজারের বেশি বিএনপি নেতাকর্মী গুম ও ক্রসফায়ারের শিকার হয়েছেন। পাশাপাশি ১৬ থেকে ১৭ বছরের সময়ে প্রায় ৭০০ বিএনপি নেতাকর্মী গুম হয়েছেন বলেও তিনি দাবি করেন।

এ ছাড়া বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে বিপুলসংখ্যক ‘মিথ্যা’ ও ‘গায়েবি’ মামলা করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন আইনমন্ত্রী।

সভায় মাদক নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে থেকে আইন প্রয়োগের বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসে। আইনমন্ত্রী তার বক্তব্যে মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি রাজনৈতিক প্রভাবমুক্তভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ওপর জোর দেন।

চট্টগ্রাম বিভাগে তিন দিনের সফরে যাচ্ছেন পেশাজীবী দলের মুখপাত্র- নাফিজ মাহবুব

সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার, তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় ও পেশাজীবীদের সম্পৃক্ততা...

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরতে পরতে হাসনাত-সারজিসের গাদ্দারি খুঁজে পাওয়া যাবে: রাশেদ খাঁন

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিভিন্ন পর্যায়ে হাসনাত আবদুল্লাহ ও সারজিস আলমের ‘গাদ্দারি’...