বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ড. এ বি এম আজিজুর রহমান স্বাক্ষরিত পৃথক দুটি অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত ১৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটের বিশেষ সভায় নেওয়া সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে এ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
অফিস আদেশ অনুযায়ী, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ৮ শিক্ষার্থীকে মোট ৩ লাখ ৬৫ হাজার টাকা এবং ইতিহাস বিভাগের ১২ শিক্ষার্থীকে মোট ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই সঙ্গে জরিমানার অর্থ পরিশোধ না করা পর্যন্ত তাদের চলমান পরীক্ষা এবং পরবর্তী নির্ধারিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণের ওপর স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছে।
অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২০ জুলাই রাত ১০টা থেকে পরদিন ভোর ৩টা পর্যন্ত পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৪-২০২৫ শিক্ষাবর্ষের কয়েকজন শিক্ষার্থী একই বিভাগের ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষের কয়েকজন শিক্ষার্থীকে র্যাগিং করেন। শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হক হলের পশ্চিম পাশে, মনপুরা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানানো হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ওই সময় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের বিভিন্নভাবে অমানবিক নির্যাতন করা হয়। পাশাপাশি তাদের অকথ্য ভাষায় গালাগাল এবং কান ধরিয়ে ওঠবস করানোর মতো শাস্তি দেওয়ার অভিযোগও ওঠে।
এ ঘটনায় পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ৮ শিক্ষার্থীকে ৩৫ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা হয়েছে। তাদের মধ্যে মো. জাহিদ হাসান, মো. ফজলে হাসান ফাহাদ এবং সৈয়দ সাকিব আহমেদ রাতুলকে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়।
এ ছাড়া মো. মাহমুদুল আমিন সিয়াম, মো. মোস্তাফিজুর রহমান মিজু এবং মো. ফয়সাল আহমেদকে ৪৫ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। মো. মাহমুদুল হাসান খান আকিবকে ৪০ হাজার টাকা এবং মো. আল-আমিন হোসাইনকে ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সব মিলিয়ে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ওই ঘটনায় জরিমানার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৬৫ হাজার টাকা।
অন্যদিকে, ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে র্যাগিংয়ের অভিযোগটি ঘটে গত ৩ জুলাই দিবাগত রাত ১১টা থেকে রাত ২টার মধ্যে। অফিস আদেশে বলা হয়েছে, ইতিহাস বিভাগের ২০২৪–২০২৫ শিক্ষাবর্ষের কয়েকজন শিক্ষার্থী একই বিভাগের ২০২৫–২০২৬ শিক্ষাবর্ষের ১৩ শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে র্যাগিং করেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ওই সময় জুনিয়র শিক্ষার্থীদের অকথ্য ভাষায় গালাগাল করা হয়। পাশাপাশি কান ধরানো এবং ‘ম্যানার শেখানোর’ নামে বিভিন্নভাবে র্যাগিং করার অভিযোগও রয়েছে।
এ ঘটনায় ইতিহাস বিভাগের ১২ শিক্ষার্থীকে ২০ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা হয়েছে। তাদের মধ্যে মো. আবু আবতাহী অনিককে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অন্য ১১ শিক্ষার্থীর মধ্যে নাছিম উদ্দিন মজুমদার, মো. মাহফুজুর রহমান অন্ত, আব্দুল্লাহ মাহদী, শুভাশীষ রায় প্রান্ত, মো. রায়হান খান, মো. নাঈমুল হাসান, মো. ইসফাক হাদী, নাঈম আহমেদ সজিব, কার্তিক চন্দ্র রায়, কাজী শাহ জামশেদ আলম নাবিল এবং সাইফুল্লাহ মানসুর আনানকে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। এ ঘটনায় ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থীদের ওপর মোট ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পৃথক অফিস আদেশে আরও বলা হয়েছে, ‘জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য শৃঙ্খলা সংক্রান্ত অধ্যাদেশ ২০১৮’-এর ধারা ৩(২) (ঘ) অনুযায়ী অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে এ জরিমানা করা হয়েছে।
অফিস আদেশ অনুযায়ী, জরিমানার অর্থ পরিশোধ না করা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীরা তাদের চলমান পরীক্ষা, টার্ম ফাইনাল পরীক্ষা কিংবা পরবর্তী নির্ধারিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণের অনুমতি পাবেন না।
একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সতর্ক করে জানিয়েছে, ভবিষ্যতে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের কেউ আবারও এ ধরনের অপরাধে জড়িত হলে তার বিরুদ্ধে আরও কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
র্যাগিংকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিভিন্ন সময় শিক্ষার্থীদের মধ্যে শারীরিক ও মানসিক হয়রানির অভিযোগ ওঠে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক এই দুটি ঘটনায় একসঙ্গে ২০ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে আর্থিক জরিমানা ও পরীক্ষায় অংশগ্রহণে স্থগিতাদেশ দেওয়ার মাধ্যমে প্রশাসন শৃঙ্খলাভঙ্গের বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে।
