Amyal TV
সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
১১ কার্তিক ১৪৩৩
সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
১১ কার্তিক ১৪৩৩

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘মার্কিন সংবিধান দিবস’ উদযাপিত

আমেরিকান গণতন্ত্রের ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আইন অনুষদ ও ঢাকাস্থ আমেরিকা দূতাবাসের যৌথ উদ্যোগে ‘ইউএস কনস্টিটিউশন ডে’ উদযাপন করা হয়েছে।

Amyal TV
৩ মিনিট পড়ুন

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবন মিলনায়তনে এ উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। মার্কিন মিশনের মুখপাত্র পূর্ণিমা রায়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী পর্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিসটেনসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকরামুল হক।

অনুষ্ঠানে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিসটেনসেন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের সূচনা হয়েছে ‘We the People’—এই সরল অথচ তাৎপর্যপূর্ণ বাক্য দিয়ে। তিনি বলেন, ১৭৮৭ সালের গ্রীষ্মে ফিলাডেলফিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান প্রণয়নের জন্য প্রতিনিধিরা একত্রিত হয়েছিলেন। বিভিন্ন বিষয়ে মতপার্থক্য ও বিতর্ক থাকা সত্ত্বেও তারা এমন একটি সাংবিধানিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেন, যেখানে ক্ষমতার পৃথকীকরণ ও পারস্পরিক নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে কোনো একক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যাতে সম্পূর্ণ ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে, সেই ব্যবস্থা রাখা হয়।

রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিবছর ১৭ সেপ্টেম্বর কনস্টিটিউশন ডে পালন করা হয়। এ দিনটি দেশটির সাংবিধানিক ঐতিহ্য ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ নিয়ে ভাবার একটি সুযোগ তৈরি করে। সময়ের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে বিভিন্ন সংশোধন আনা হয়েছে এবং পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সাংবিধানিক ব্যবস্থাকে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও আইনের শাসনের গুরুত্বপূর্ণ নীতিগুলোকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছে। বিভিন্ন সাংবিধানিক নীতি ও ধারণা পরবর্তী সময়ে বিশ্বের অন্যান্য দেশের সাংবিধানিক কাঠামো ও আইনি ব্যবস্থাকেও প্রভাবিত করেছে।

আইনমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের সঙ্গে বাংলাদেশের সংবিধানের বিভিন্ন ক্ষেত্রে তুলনামূলক আলোচনা করা যেতে পারে। বিশেষ করে বিচারিক পর্যালোচনা, ক্ষমতার পৃথকীকরণ, মৌলিক অধিকার এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার ওপর সাংবিধানিক নিয়ন্ত্রণের মতো বিষয়গুলো সাংবিধানিক অধ্যয়নের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। এ ধরনের আলোচনা শিক্ষার্থী, আইনজীবী, গবেষক ও সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের সাংবিধানিক ধারণা আরও গভীরভাবে অনুধাবনে সহায়তা করবে।

তিনি আরও বলেন, সংবিধান ও সাংবিধানিক অধিকার সম্পর্কে জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধিতে এ ধরনের একাডেমিক আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আইন, গণতন্ত্র ও সাংবিধানিক চর্চা নিয়ে পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান আধুনিক সাংবিধানিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল। ক্ষমতার পৃথকীকরণ, ক্ষমতার ভারসাম্য ও নিয়ন্ত্রণ, আইনের শাসন এবং নাগরিকের মৌলিক অধিকার সুরক্ষার মতো নীতিগুলো এই সংবিধানের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। এসব নীতি বিশ্বব্যাপী সাংবিধানিক চিন্তা ও চর্চায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশেরও রয়েছে দীর্ঘ সাংবিধানিক অভিজ্ঞতা ও ঐতিহ্য। বাংলাদেশের সংবিধানে গণতন্ত্র, মানবাধিকার, মৌলিক অধিকার, আইনের শাসন এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার সীমাবদ্ধতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের নিজস্ব ইতিহাস, মুক্তিসংগ্রাম ও জনগণের আকাঙ্ক্ষার মধ্য দিয়ে এই সাংবিধানিক কাঠামো গড়ে উঠেছে। তাই বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সাংবিধানিক অভিজ্ঞতার মধ্যে সংলাপ ও তুলনামূলক আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ।

দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে ‘ইউএস কনস্টিটিউশন’ বিষয়ক প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সাংবিধানিক ব্যবস্থা, ক্ষমতার পৃথকীকরণ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, সাংবিধানিক অধিকার এবং দুই দেশের সাংবিধানিক অভিজ্ঞতার তুলনামূলক বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়। আলোচনায় শিক্ষক, আইনজীবী, গবেষক ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।

এ ছাড়া কর্মসূচিতে ছিল উন্মুক্ত আলোচনা সভা, প্যানেল ডিসকাশন, প্রবন্ধ প্রতিযোগিতা, কুইজ প্রতিযোগিতা এবং ‘আমেরিকান ফাউন্ডার্স মিউজিয়াম’ শীর্ষক বিশেষ প্রদর্শনী। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের আইনি ও সাংবিধানিক কাঠামোর বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।

অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষক, আইনজীবী, গবেষক, শিক্ষার্থী, আইন ও বিচার অঙ্গনের প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

চট্টগ্রাম বিভাগে তিন দিনের সফরে যাচ্ছেন পেশাজীবী দলের মুখপাত্র- নাফিজ মাহবুব

সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার, তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় ও পেশাজীবীদের সম্পৃক্ততা...

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরতে পরতে হাসনাত-সারজিসের গাদ্দারি খুঁজে পাওয়া যাবে: রাশেদ খাঁন

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিভিন্ন পর্যায়ে হাসনাত আবদুল্লাহ ও সারজিস আলমের ‘গাদ্দারি’...