রোববার রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ভূরুঙ্গামারীর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমৃত দেবনাথ। উপজেলা সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) সভাপতি করে গঠিত পাঁচ সদস্যের কমিটিকে সোমবারের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা, উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার এবং সদস্যসচিব উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা।
এর আগে রোববার সকালে উপজেলার শিলখুড়ি ইউনিয়নের শাহ আমানত ট্রেডার্সের সারগুদামের বেড়া ভেঙে কৃষকেরা সেখান থেকে সার নিয়ে যান। কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ওই গুদামে মোট ৩৪২ বস্তা সার ছিল। এর মধ্যে ২০২ বস্তা ইউরিয়া ও ২৩ বস্তা পটাশ নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে।
ঘটনার খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে নেওয়া সার উদ্ধারে স্থানীয়দের সহযোগিতা চায় প্রশাসন। রাত ৮টা পর্যন্ত ১০০ বস্তা সার উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানানো হয়। উদ্ধার করা সার কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী বিতরণের কথা জানিয়েছে প্রশাসন।
ঘটনার পরও ডিলার থানায় কোনো মামলা করেননি। তবে পুলিশ একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে।
চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম
উপজেলা কৃষি কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ভূরুঙ্গামারীতে সারের চাহিদা ছিল প্রায় ৪ হাজার বস্তা। এর বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া গেছে ১ হাজার ৩২০ বস্তা। সর্বশেষ গত শনিবার ৫০ কেজি ওজনের ৩৪০ বস্তা সার ডিলারের গুদামে আনা হয়েছিল।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবদুল জব্বার বলেন, শিলখুড়ি ইউনিয়নে ইউরিয়া সারের সংকট ছিল না। ওই ইউনিয়নের জন্য ৬৮ টন সার বরাদ্দ রয়েছে। নিয়মিত সার উত্তোলন করে সরকারি নির্ধারিত মূল্যে কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হচ্ছে। সর্বশেষ ১৭ টন বা ৩৪০ বস্তা সার উত্তোলন করা হয়েছিল।
তবে তিনি দাবি করেন, গুদাম থেকে সার নিয়ে যাওয়ার ঘটনাটি ‘মব’ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে ঘটানো হয়েছে।
এদিকে রোববার বিকেলে কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবদুল্লাহ আল মামুন, ইউএনও অমৃত দেবনাথ এবং ভূরুঙ্গামারী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
ইউএনও অমৃত দেবনাথ জানান, নেওয়া সারের মধ্যে ১০০ বস্তা ইতোমধ্যে উদ্ধার হয়েছে। বাকি সার উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। ঘটনার কারণ ও সার বিতরণ পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটিকে সোমবারের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা, প্রশাসনের কর্মকর্তা, সার ডিলার, সাংবাদিক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে মতবিনিময় সভাও করা হয়েছে।
