বৃহস্পতিবার ঢাকার সাভার উপজেলার বনগাঁও ইউনিয়নের বনগ্রাম এলাকায় ‘ঢাকা ওয়েস্টার্ন ভ্যালী’ আবাসিক প্রকল্পে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। রাজউকের নগর-পরিকল্পনা শাখার তত্ত্বাবধানে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সবুজ হাসানের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত এ অভিযান পরিচালনা করেন।
রাজউক সূত্রে জানা গেছে, বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা (ড্যাপ) অনুযায়ী কৃষিজমি ও জলাশয় হিসেবে চিহ্নিত জায়গা বালু দিয়ে ভরাট করে অনুমোদন ছাড়াই আবাসন প্রকল্পের কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযানটি চালানো হয়।
অভিযানের সময় ‘ঢাকা ওয়েস্টার্ন ভ্যালী’ প্রকল্পের ভেতরে থাকা দোতলা একটি কার্যালয় ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। রাজউকের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রকল্প এলাকায় কৃষিজমি ও নিচু জমি বালু দিয়ে ভরাট করা এবং বিভ্রান্তিকর সাইনবোর্ড টাঙিয়ে জমি বিক্রির নামে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করার অভিযোগ ছিল।
এ ছাড়া অভিযানে প্রকল্পটির একটি বিদ্যুৎ মিটার জব্দ করা হয়। প্রকল্প এলাকায় থাকা বিভিন্ন সাইনবোর্ড ও ড্রেজার পাইপও ভেঙে ফেলা হয়েছে। রাজউকের কর্মকর্তারা জানান, অনুমোদন ছাড়া আবাসন কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি কৃষিজমি ও নিচু জমি ভরাটের বিষয়টিও অভিযানের সময় গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়েছে।
অভিযানে প্রকল্পটির পাশেই বিধিবহির্ভূতভাবে গড়ে ওঠা ‘লেক আইল্যান্ড’ ও ‘সাউথ ইস্ট হাউজিং’ নামের আবাসন প্রকল্পের বিভিন্ন বিলবোর্ডও উচ্ছেদ করা হয়। রাজউকের কর্মকর্তারা এসব প্রকল্পের কার্যক্রম ও প্রচারণা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় পরিদর্শন করেন এবং বিধিবহির্ভূত স্থাপনা ও প্রচারসামগ্রী অপসারণ করেন।
রাজউক জানিয়েছে, বেসরকারি আবাসিক ভূমির উন্নয়ন বিধিমালা, রিয়েল এস্টেট উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা আইন, পরিবেশ সংরক্ষণ আইন এবং প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ আইন অমান্য করে পরিচালিত আবাসন প্রকল্পগুলোর বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে অনুমোদনহীন ও অবৈধ আবাসন প্রকল্পে জমি বা প্লট কেনা কিংবা বুকিং দেওয়া থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে জমি বা প্লট কেনার আগে সংশ্লিষ্ট আবাসন প্রকল্পের অনুমোদন এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
রাজউক আরও জানিয়েছে, ড্যাপে কৃষিজমি, জলাশয় বা নিচু জমি হিসেবে চিহ্নিত এলাকায় বিধিবহির্ভূতভাবে মাটি বা বালু ভরাট করে আবাসন প্রকল্প গড়ে তোলার বিরুদ্ধে নিয়মিতভাবে নজরদারি করা হচ্ছে। অনুমোদন ছাড়া আবাসন প্রকল্প পরিচালনা, জমি ভরাট কিংবা বিভ্রান্তিকর প্রচারণার মাধ্যমে প্লট বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযানে রাজউকের উপনগর–পরিকল্পনাবিদ নবায়ন খীসা ও সাইফুল ইসলাম, সহকারী নগর–পরিকল্পনাবিদ তামজিদ বিন রাফি, শুভ সরকার ও শাহীনুর রহমান, তৌকির আহমেদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় পল্লী বিদ্যুতের প্রতিনিধি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও অভিযানে অংশ নেন।
