Amyal TV
শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
২৮ ভাদ্র ১৪৩৩
শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
২৮ ভাদ্র ১৪৩৩

বেতন বৃদ্ধির সুযোগে যেন জিনিসপত্রের দাম না বাড়ে, এফবিসিসিআইয়ের আহ্বান

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতনকাঠামোর সুযোগ নিয়ে নিত্যপণ্যের দাম না বাড়াতে ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি—এফবিসিসিআই।

Amyal TV
৩ মিনিট পড়ুন

সংগঠনটি বলছে, বাজারে নিত্যপণ্যের দাম এমনিতেই বেশি। এর মধ্যে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধির সুযোগ নিয়ে অতিরিক্ত মুনাফা বা কৃত্রিমভাবে পণ্যের দাম বাড়ানো হলে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ আরও বাড়বে।

মঙ্গলবার রাজধানীর মতিঝিলে এফবিসিসিআই কার্যালয়ে নিত্যপণ্যের মজুত, আমদানি, সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এ আহ্বান জানান সংগঠনের প্রশাসক মো. ফজলুল হক।

সভায় ভোগ্যপণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়ী সংগঠন, পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ী এবং সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক বলেন, সরকারি বেতন স্কেল ঘোষণার পরপরই এ সভা হওয়ায় বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণ মানুষ যখন মূল্যবৃদ্ধির চাপে রয়েছে, তখন বেতন বাড়ার সুযোগ নিয়ে চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপণ্যের দাম বাড়ানো উচিত নয়।

তিনি বলেন, সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়লেও দেশের বড় একটি অংশের মানুষের আয় বাড়বে না। তাই ব্যবসায়ীদের সামাজিক ও নৈতিক দায়িত্ব রয়েছে। বেতন বৃদ্ধির সুযোগে বাড়তি মুনাফা, কৃত্রিম মূল্যবৃদ্ধি বা সিন্ডিকেট করা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তিনি।

এর আগে সোমবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে নতুন বেতনকাঠামো অনুমোদন করা হয়। এতে গ্রেডভেদে সরকারি চাকরিজীবীদের প্রারম্ভিক মূল বেতন ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।

‘কারখানা সচল রাখতে হবে’

সভায় ব্যবসায়ীরা দেশে ভোগ্যপণ্য উৎপাদনকারী শিল্পকারখানাগুলো সচল রাখার ওপর গুরুত্ব দেন।

তাঁদের দাবি, সাম্প্রতিক গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে উৎপাদন ও সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে। দেশের ভোগ্যপণ্য উৎপাদনকারী বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা হাতে গোনা। তাই এসব কারখানা বন্ধ হয়ে গেলে ভবিষ্যতে আমদানি, উৎপাদন ও সরবরাহে বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে।

মৌলভীবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক গোলাম মওলা বলেন, একসময় দেশে ভোগ্যপণ্য উৎপাদনকারী ৩০ থেকে ৪০টি প্রতিষ্ঠান থাকলেও বর্তমানে মাত্র চার-পাঁচটি বড় প্রতিষ্ঠান টিকে আছে। গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটসহ বিভিন্ন কারণে অনেক কারখানা স্বাভাবিকভাবে উৎপাদনে ফিরতে পারছে না।

তাঁর মতে, রাতারাতি নতুন বড় শিল্পগোষ্ঠী তৈরি করা সম্ভব নয়। তাই বিদ্যমান প্রতিষ্ঠানগুলোকে যেকোনো মূল্যে সচল রাখতে হবে।

চিনির দাম বাড়ার ব্যাখ্যা

সভায় খুচরা পর্যায়ে চিনির দাম কেজিতে প্রায় ১০ টাকা বেড়ে যাওয়ার বিষয়টিও উঠে আসে।

খুচরা ব্যবসায়ীরা জানান, পাইকারি বাজারে ৫০ কেজির এক বস্তা চিনি প্রায় ৫ হাজার ৫৫০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। ফলে পরিবহন ও অন্যান্য খরচ যোগ করে ১১৫ টাকার নিচে খুচরা পর্যায়ে চিনি বিক্রি করা কঠিন।

বাংলাদেশ চিনি ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. আবুল হাশেম বলেন, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে কয়েকটি কারখানায় উৎপাদন বন্ধ বা কমে গেছে। ফলে বাজারে চাহিদা অনুযায়ী চিনি সরবরাহ হচ্ছে না। সরবরাহ কমে যাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই দাম বেড়েছে।

অন্যদিকে মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের জ্যেষ্ঠ উপমহাব্যবস্থাপক তসলিম শাহরিয়ার বলেন, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটে উৎপাদন কমেছে। পাশাপাশি বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত চিনির দামও বেড়েছে। তবে খুচরা পর্যায়ে কেজিতে ১০ টাকা দাম বাড়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

এফবিসিসিআইয়ের সভায় ব্যবসায়ীরা বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে সচল রাখা, জ্বালানি সংকট সমাধান এবং নিত্যপণ্যের মূল্য পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেন।

দুর্নীতিমুক্ত আদালত গঠনে প্রধান বিচারপতিকে বার সভাপতির এক মাসের আল্টিমেটাম

আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগকে দুর্নীতিমুক্ত করতে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের...

ড. ইউনূসকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধ করতে হবে: হাইকোর্টের রায়

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান...