শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার পোড়াগাঁও ইউনিয়নের আন্ধারুপাড়া গ্রামে নানার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত শিক্ষার্থী স্থানীয় ব্র্যাক স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শৈশবে সড়ক দুর্ঘটনায় বাবার মৃত্যুর পর তিন মেয়েকে নিয়ে আন্ধারুপাড়া গ্রামে বাবার বাড়িতে বসবাস শুরু করেন ওই শিক্ষার্থীর মা। তিন বোনের মধ্যে সে ছিল দ্বিতীয়। সম্প্রতি তার বিয়ের জন্য একটি প্রস্তাব আসে। তবে এতে পরিবারের পক্ষ থেকে আপত্তি জানানো হয়। পরিবারের দাবি, প্রতিবেশী এক যুবকের সঙ্গে ওই শিক্ষার্থীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। এ বিষয়কে কেন্দ্র করে গত কয়েকদিন ধরে পরিবারের সঙ্গে তার মনোমালিন্য চলছিল।
শনিবার সন্ধ্যায় পরিবারের সদস্যরা ঘরের ভেতর ওই শিক্ষার্থীকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে খবর দেওয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। এ সময় মরদেহের পাশ থেকে হাতে লেখা একটি চিরকুটও জব্দ করা হয়।
চিরকুটে মায়ের উদ্দেশে ওই শিক্ষার্থী ক্ষমা চেয়ে লিখেছে, সে মায়ের কথা রাখতে পারেনি। পাশাপাশি নিজের ভালোবাসার সম্পর্কের বিষয়টিও সেখানে তুলে ধরে। সে লিখেছে, ভালোবাসার মানুষটিকে পেলে দুঃখ-কষ্টের মধ্যেও সে শান্তিতে থাকতে পারত, কারণ সে তাকে ভালোবাসত।
অন্যত্র বিয়ের বিষয়ে পরিবারের সিদ্ধান্তের কথাও চিরকুটে উল্লেখ করে ওই শিক্ষার্থী লিখেছে, ভালোবাসার মানুষটিকে ছাড়া অন্য কারও সঙ্গে বিয়ে হলে সে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ত। একই সঙ্গে তার মৃত্যুর জন্য ভালোবাসার ওই যুবককে দায়ী না করার অনুরোধও জানিয়েছে সে। চিরকুটে সে উল্লেখ করেছে, এ ঘটনায় কারও দোষ নেই এবং ওই যুবককে অপরাধী হিসেবে দায়ী করা হলে মৃত্যুর পরও সে শান্তি পাবে না। চিরকুটের শেষ দিকে নিজেকে মায়ের ‘কপাল পোড়া’ সন্তান হিসেবে উল্লেখ করেছে ওই শিক্ষার্থী।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নালিতাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান জানান, ঘটনাস্থল থেকে চতুর্থ শ্রেণির ওই শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ ও একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
